চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারি যানবাহন যেন গ্রামেও চলতে পারে সেভাবেই রাস্তা নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী

একনেকে ১ হাজার ৬৬৮ কোটি খরচে ৪ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য কমে যাবে। গ্রামের রাস্তায় ভারি যানবাহন যেন চলতে পারে, রাস্তাগুলো এখন থেকে সেভাবে নির্মাণ করতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

আজকের একনেক সভায় ১ হাজার ৬৬৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা খরচে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৭৮ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৪৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাস্তা বানানোর জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, সেটার যেন যথাযথ ব্যবহার হয়। এজন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে। আর গ্রামের রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রম হচ্ছে, গ্রাম ও শহরের পার্থক্য কমে যাবে। ফলে গ্রামের রাস্তায় ভারী যানবাহন চলতে পারে, তাই এখন থেকে রাস্তাগুলোও সেভাবেই নির্মাণ করতে হবে।

একনেক সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘যশোর বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহীর রানওয়ে সারফেসে অ্যাসফল্ট কংক্রিট ওভারলেকরণ’ প্রকল্প ৫৬৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা খরচে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আসাদুল ইসলাম জানান, সভায় এই প্রকল্পটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসব বিমানবন্দরের ব্যবহার যেহেতু বাড়ছে এবং রাতে বিমান উঠা-নামা যাতে করতে পারে এজন্য লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তখন বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেছেন, তাদের এই পরিকল্পনা আছে। তারা রানওয়ের উন্নয়নের পরে এ কাজ শুরু করতে পারবেন। এ-সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় অনুশাসন ছিল, বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহার যেহেতু বৃদ্ধি পাচ্ছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, অন্যান্য কার্যক্রম হচ্ছে, তাই বিমানবন্দরগুলোর যথাযথ উন্নয়ন ও সংস্কার প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কদমরসুল অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের জন্য একনেকে ৩০১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এ প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে সেন্টার করা হবে, সেটা যেন পানিকে দূষিত না করে। পানি রাখার বা জলাশয়ের যেন পাশে না করে। ফলে দেখা যাচ্ছে, একপাশে সুপেয় পানির জায়গায় আছে, অন্যপাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পানি রয়েছে। পাখি বা অন্য কিছু পানি নষ্ট করে ফেলছে। সেটা যেন না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তার বিষয়টা আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সেই অনুযায়ী, কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। নদীর পানি, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী আনা হয়েছে একনেকে। এতে প্রকল্পের খরচ ৫৪৯ কোটি ৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ১৫ লাখ থেকে করা হয়েছে ২ হাজার ১০৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্প ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজকের সংশোধনীতে ১ বছর সময় বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় সেচ সম্প্রসারণ’। ২৫১ কোটি ১৫ লাখ টাকা খরচে এই প্রকল্প ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।