চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারত থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়ন করা হবে: অমিত শাহ

ভারতে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে খুব দ্রুতই তাদের দেশ থেকে বিতাড়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বুধবার রাজ্যসভায় এ কথা জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আসামের মতো অন্যান্য রাজ্যেও জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) তৈরি করা হবে কিনা? সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জাভেদ আলি খানের এই প্রশ্নের উত্তর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘দেশের যে কোনো প্রান্তে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে আসামের এনআরসি আপডেট করা হচ্ছে এবং ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আসামের অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে এনআরসি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা ছিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার এবং সেখানকার বাসিন্দারা এনআরসি নিয়ে একমত। এর ওপর ভিত্তি করেই বিজেপি ক্ষমতায় ফিরেছে। তাই দেশের প্রত্যেকটি ইঞ্চিতে বসবাসকারী অভিবাসীদের চিহ্নিত করে সরকার আন্তর্জাতিক আইন মেনে তাদের বিতাড়িত করা হবে।’

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানান, এনআরসি সংশোধনের দাবিতে ২৫ লক্ষ স্বাক্ষরসহ আবেদনপত্র জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রপতির কাছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত নাগরিকের নাম বাদ গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া নাম নথিভুক্ত হয়েছে। সেই কারণেই, সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টকে সরকার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘দেরি হতে পারে, তবে কোনও ত্রুটি ছাড়াই সঠিকভাবে এনআরসি কার্যকরা হবে। কোনও প্রকৃত নাগরিক যাতে এনআরসির বাইরে না থাকেন, তা নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য।

ভারতে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গারে সংখ্যা কত জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঠিক রোহিঙ্গা মুসলিমের সংখ্যা কত সে বিষয়ে আমাদের কাছে সঠিক তথ্য নেই। রোহিঙ্গারা দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ফেরত গেছেন। আমরা খুব দ্রুতই এ তথ্য পেয়ে যাবো।

২০১৫ সালে এনআরসি নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই আসামে বহু বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠী নাগরিকত্ব হারানো এবং ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে আটক হওয়ার ভয়ে আত্মহত্যা করেন।

২০১৮ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত আসামের খসড়া নাগরিকত্ব তালিকা থেকে ৪০ লাখের বেশি অধিবাসীর নাম বাদ দেয়া হয়েছিল। গত ২৬ জুন আগের বছরের খসড়া তালিকা থেকে যাচাই বাছাই করে আসামের আরও এক লাখ অধিবাসীকে বাদ দেয়া হয়। রাজ্যটিতে মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ বৈধ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও প্রকাশিত তালিকায় নাম আসে ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষের।

এদের সবাই-ই বাঙালি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। এদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম দুই ধর্মের মানুষই আছে।