চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতে লাল পিঁপড়ের ঝাঁক: বৃষ্টি কি নামবে?

লাল পিঁপড়ের ঝাঁক মাটির গভীর কোটর থেকে বেরিয়ে আসছে রাজপথে। রাজ্যাধিপতির কাছে তাদের প্রাণের আকুতি ‘বাঁচার মতো বাঁচতে চাই’। কিছু নয় শুধু পায়ে দলিয়ে ঝাঁককে পিষে না ফেললেই হলো। ঠিকমতো প্রাণ নিয়ে টিকে থাকার সুযোগটুকু চাই। বাংলাদেশের গ্রামের মানুষেরা বলেন, পিপড়ের ঝাঁক ওঠা মানে, বৃষ্টি আসন্ন। সোমবার ভারতের মহারাষ্ট্রের অযুত নিযুত কৃষকের মিছিল সেরকম একটি পিঁপড়ের ঝাঁক। বিশ্বব্যাপী যখন মেহনতি মানুষের আন্দোলন সংগ্রামের দিন শেষ হয়ে আসার হতাশা নিম্নবিত্তকে গ্রাস করছে আর সমাজের উপরতলার মানুষকে ভরপুর স্বস্তির সন্ধান দিচ্ছে তখন দুশো মাইল পথ টানা ছয়দিন হেঁটে এসে মুম্বাইয়ে অর্থলক্ষ তৃণমূল মানুষের সমাবেশ। কোথায় যেন প্রাণে তৃষ্ণা জমে ছিল মানুষের। সংঘবদ্ধ এক আওয়াজের তৃষ্ণা বহু বছর ধরে ফোটায় ফোটায় জমা হচ্ছিল। এবার যেন তা পূর্ণ হয়ে গেল। নতুন করে আশার আলো জ্বলে উঠলো, খেটে খাওয়া মানুষের এক হওয়ার দিন ফুরিয়ে যায়নি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তারা আর বসে থাকবে না। মরতে মরতেই একদিন বেঁচে থাকবার শপথ নিয়ে নেবে।

তখনও ‍মুম্বাই জেগে ওঠেনি। রাতেই মুম্বাইয়ের মহাসড়ক রঙিন হয়ে উঠেছে বিক্ষুদ্ধ কৃষকদের পদভারে। তাদের অধিকাংশের মাথায় লাল টুপি। দিনের কর্মব্যস্ততা শুরু হতে হতেই জমায়েত কৃষক তুলে ধরলেন তাদের দাবি-দাওয়া। কৃষকদের দাবিগুলি ছিল, নিঃশর্তে ঋণ মওকুফ, বছরের পর বছর ধরে যে আদিবাসীরা জঙ্গলের জমি চাষ করছে, তাদের হাতে জমির মালিকানা প্রদান; স্বামীনাথন কমিটি উৎপাদন মূল্যের দেড় গুণ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বেঁধে দেওয়ার যে সুপারিশ করেছে, তা কার্যকর করা; জঙ্গল অধিকার আইন প্রয়োগ ইত্যাদি। মহারাষ্ট্রের নাসিক, ঠানে ও পালঘর জেলার নদীগুলিকে একসঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাতিল ও আদিবাসীদের জমি সেই প্রকল্পের ফলে ডুবে যাবে না, এটা সুনিশ্চিত করার দাবিও করেছে চাষিরা। হাইস্পিড রেল ও সুপার হাইওয়ে তৈরির জন্য সরকারের জমি অধিগ্রহণেও আপত্তি তুলেছে তারা। দাবিগুলি কৃষকের প্রাণের, কিন্তু এবারের আন্দোলনে চালকের আসনে রয়েছে সিপিএম এর কৃষক সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা।

যাহোক, বহুদিন ধরে সংগঠিত এই আন্দোলনের চূড়ান্ত বিষ্ফোরণের সময় সংহতি প্রকাশ করতে কোনো দলই বাদ যায়নি। তৃণমূল মানুষের শক্তিই যে রাজনীতির মূল বাতিঘর তা বুঝতে কারো বাকি নেই। যদিও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতিকে গৌণ করে ফেলার এক দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা চলছে। এর ফলশ্রুতিতে মানুুষ মনোযোগী হয়ে উঠছে ব্যক্তি উন্নয়নে। সামষ্টিক উন্নয়নে তাদের গা নেই, তাই সমাজ ভেঙে যাচ্ছে। ক্ষমতার কাছাকাছি একটি শ্রেণি আপোষরফা করে তৃণমূল শ্রেণিকে নিরস্ত্র করার চেষ্টায় লিপ্ত। ঠিক এমন সময়ে এই উপমহাদেশে তৃণমূল কৃষিজীবী মানুষ বুঝিয়ে দিলেন, এখনও ক্ষমতার উৎসে জনগণ।

মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে গত ৬ মার্চ শুরু হয়েছিল লং মার্চ। শেষ হয় ১২ মার্চ। প্রশ্ন হলো কেন এই লং মার্চ? কেনই বা ফুঁসে উঠলো মানুষ? শুধু রাজনৈতিক প্রয়োজনই কি এমন বারুদে ঘি ঢেলেছে, না এর পেছনে খেটে খাওয়া মানুষের মৌলিক দাবিগুলিও উচ্চকিত ছিল? একটু ঢুড়ে দেখতেই হয় বাস্তবতা। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে খরা বৃদ্ধি পাওয়া ও দিনের পর দিন ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষক জীবন থেকেই ছুটি নেয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।

গত বছর ভারতে আত্মহত্যা করেছেন ৫ হাজার ৬৫০ জন কৃষক। সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা হয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্যে। সেখানে ২ হাজার ৫৬৮ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন এক বছরে! মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলে আত্মহত্যার হার রীতিমতো আতঙ্কজনক।

আত্মহত্যার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে বেশ কয়েকটি কৃষক সংগঠন। ‘কিষান মিত্র’ নামের ব্যানারে কাজ করেছে তারা। তাদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ফসল ভালো না হওয়া এবং চাষের জন্য নেয়া ঋণ কৃষকদের আত্মহত্যার অন্যতম কারণ। শুধু বিদর্ভ অঞ্চলেই গত তিন বছরে আত্মহত্যা করেছেন মোট ৩ হাজার ১৪৫ জন কৃষক। তাদের মধ্যে ৯০০-রও বেশি, অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশের ঋণ ছিল। খুব বেশি নয়, মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ঋণ ছিল তাদের। কিন্তু ওই টাকা পরিশোধ করারও সামর্থ্য নেই বলেই তারা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। আত্মহত্যা করেছেন এমন কৃষকদের মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগেরই বয়স ৩০ বা তার কম৷ শতকরা ৩৫ ভাগের বয়স ৩১ থেকে ৪৫-এর মধ্যে৷ গত তিন বছরে ভারতে যতজন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, তাদের মধ্যে মাত্র ২০৮ জনের বয়স ৬৫ বছরের বেশি ছিল।

বিদর্ভে গত তিন বছরে যে ৩ হাজার ১৪৫ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, তাদের মধ্যে ৯২৫ জন মনে করতেন যে, সরকার তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল নয়৷ শতকরা ১০ ভাগ তাদের বিপর্যয়ের জন্য খরা, অতিবৃষ্টি এবং বজ্রপাতকে দায়ী ভাবতেন। ১১৭ জন ফসলের ক্ষতিজনিত বিপর্যয়ের কারণে পরিবারের বিবাহযোগ্য মেয়ের বিয়ে যাতে ভেঙে না যায় – সেই কথা ভেবে নিজের জীবনে ইতি টেনেছেন।

এ পরিস্থিতি অনেক দিনের। এর আগে কৃষক বহু দাবিদাওয়া উত্থাপন করেছেন, আন্দোলন করেছেন কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। রাজ্য সরকারেরই টনক নড়েনি, কেন্দ্রীয় সরকার দূরের কথা। কিন্তু সরকার যখন জনগণের উদ্দেশ্যে কথা বলে তখন মেহনতি মানুষ ও কৃষকের সুবিধা দেবার কথাটিই সর্বাগ্রে সামনে আনে। এটি সাধারণ মানুষের মন নরম করার এক কৌশল। সব মানুষই এই কৌশল আজ বোঝে। অংকের মতো হিসেবের যুগে সরকারের নেয়া সব কৌশলের ভেতর মানুষ ঢুকতে না পারলেও অনেকটাই উপলব্ধি করে। তাই অর্ধলক্ষ কৃষকের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের এক অভূতপূর্ব নজির এবার দেখিয়েছে মুম্বই তথা ভারতের সাধারণ জনগণ। তারাও উপলব্ধিতে নিয়েছে সাধারণ কৃষক যদি না বাঁচে তাহলে কেউই বাঁচবে না। তাদের হাতেই দেশের সবচেয়ে বড় স্বার্থ। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে খালি পায়ে হেঁটে আসা বিক্ষোভরত কৃষকদের পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্ত ঝরেছে, এটি আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরাখবর করে স্যান্ডেল সংগ্রহ করে তাদের পায়ে দিয়েছে, বিক্ষোভরতদের জন্য খাবারের প্যাকেট আর পানি সরবরাহ করেছে মুম্বাইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। বাম নেতৃত্বে কৃষকদের এই বিক্ষোভ গড়ে উঠলেও এর প্রতি সমর্থন জানাতে কেউ পিছপা হয়নি। ভারতের অধিকাংশ মৌলবাদী সংগঠনগুলো কৃষকদের দাবির প্রশ্নে একাত্ম। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফোড়নবিশের উদ্দেশ্যে জানান, ‘সব অহং সরিয়ে কৃষকদের দাবিগুলো মেনে নিন।’ অবশেষে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ফোড়নবিশ সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিয়েছেন। তিনি কৃষকদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন।

কৃষক লং মার্চের কর্মসূচিতে ছিল মুম্বই বিধানসভা ঘেরাও। কিন্তু আন্দোলনকারীরা কোনো হঠকারিতার পথে যাননি। এমনকি বেলা ওঠার আগে আগেই তারা মুম্বই শহরকে যানজটের হাত থেকে মুক্ত করার চিন্তাও করেন। একই সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টিও আমলে নেয়া হয়। তাই ভোরে তারা মুম্বইয়ের বিধানসভার অদূরে আজাদ ময়দানে জমায়েত হন। এর জন্য রাতের ঘুম বাদ দিয়ে ঊনিশ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয় তাদের। এত সব ত্যাগের পর তারা ‍পুরো দাবি-দাওয়া পুরণের প্রতিশ্রুতি নিয়েই ঘরে ফিরেছেন। আম আদমি পার্টির নেতা আনা হাজারে বলেছেন, আন্দোলনের আগুন নেভেনি। সরকার যদি প্রতিশ্রুতি না রাখে তাহলে আরো বড় আন্দোলন হবে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলি অনেক বেশি ঠোঁটকাটা। তারা এই কৃষক আন্দোলনের শক্তি বহুদূর বিস্তৃত হবে জানিয়েছে। কেউ কেউ এর মধ্য দিয়ে মোদি সরকারের গদি কিছুটা হলেও নড়েছে বলে ইঙ্গিত করেছে। তবে কৃষি ও কৃষকদের জন্য ভারত যে যৌক্তিক ও কার্যকর নীতি-সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এতে সন্দেহ নেই। মৌলিক ও গণমুখি রাজনীতির বিদায় বেলায় নতুন করে খেটে খাওয়া মানুষের রাস্তায় নামার বিষয়টি মেহনতি মানুষের জন্য যতটা খোলা জানালার সন্ধান দিচ্ছে, ততটাই এক অশনি সংকেত ক্ষমতালোভী দুর্বৃত্ত, নীতিহীন রাজনীতিক ও বাণিজ্যচিন্তায় আচ্ছন্ন গোষ্ঠির জন্য।

ভারতের কৃষকদের এই দাবি দাওয়ার সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের বাস্তবতার ভিন্নতা রয়েছে। আমাদের দেশে গত এক দশকে কৃষিতে অভূতপূর্ব সাফল্য সূচিত হয়েছে। খাদ্যে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা যেমন এসেছে সে সঙ্গে মাছ ও সবজি উৎপাদনে এসেছে বিস্ময়কর সাফল্য। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সজোরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পরিকল্পনাগুলো এগিয়ে নিচ্ছে। কৃষকদের একটি শ্রেণি সরকারের নীতি পরিকল্পনা ও উন্নয়নের সঙ্গে একই গতিতে মার্চ করছে। তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে মনোযোগী। সামষ্টিক উন্নয়নে তাদের দৃষ্টি নেই। একটি শ্রেণি কৃষিতেই যুক্ত থাকতে আর আগ্রহী নন। বহুকালের এই কৃষক শ্রেণিটি শহরের চাকচিক্য ও বাণিজ্যের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে উঠছেন। আর আরেকটি শ্রেণি কৃষিকে কর্পোরেট শিল্প-বাণিজ্যে রূপ দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। এর ভেতর দিয়েই সরকার উৎপাদন ও উন্নয়ন নীতির মধ্য দিয়ে হাঁটছে। কিন্তু গ্রামপ্রধান বাংলাদেশে একটি তৃণমূল মেহনতি শ্রেণি রয়ে গেছে। যাদের সমস্যাগুলো কোনোভাবেই সামনে আসছে না। ওই ভূমিহীন কিংবা এক চিলতে জমির মালিক মেহনতি শ্রেণির আকাঙ্ক্ষা ও জীবন বাস্তবতার সঙ্গে মহারাষ্ট্রের কৃষকদের জীবন বাস্তবতার মিল রয়েছে। তফাৎ এই যে তাদের জীবন সংকট প্রকট হলেও তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন না। এই শ্রেণির চাওয়া সীমিত হলেও রাজনৈতিক মহল, বিত্তশালী শ্রেণি ও অনেক ক্ষেত্রে সরকার ব্যবস্থার কাছে তারা জঞ্জালে পরিণত হচ্ছে। নাগরিক উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন পরিপাটি পরিসরে নগরের বস্তিগুলো যেমন জঞ্জাল ও আবর্জনার স্তুপ মনে হয় আর সেখানকার মানুষগুলোকে মনে হয় ‘কীট’- ঠিক সেরকম। তারপরও আমাদের প্রান্তিক ও মেহনতি কৃষক শ্রেণি সংঘবদ্ধ হয় না, তাদের সংঘবদ্ধ হতে দেয়া হয় না। এর দুটি কারণ, এক. তাদের সামনে কোনো সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব নেই, দুই. পুঁজিপতি ও কর্পোরেট শ্রেণি তাদের স্বার্থপরের জীবনসূত্র শিখিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে। প্রান্তিক কৃষক নিজেকে একা ভাবতে শিখেছে। তারা মনে করে কৃষিকাজ তার ব্যক্তিগত জীবন জীবিকার বিষয়। এখানে একটু চালাক চতুর রাজনীতি ঘেঁষারা সুবিধা নিতে সমর্থ হচ্ছে। আমাদের দেশের বহু মাথা তোলা কৃষক ক্ষমতার ছাতার তলায় গিয়ে স্বস্তিতে থাকার স্বপ্ন দেখে। অবশ্য, পরে বুঝেও যায় সেটি মরীচিকা ছাড়া কিছু নয়। কারণ, কৃষক তো কৃৃষকই। সে তো নিজের পরিচয় ও অবস্থানেই সবচেয়ে শক্তিশালী ও গর্বিত। সে যখন পরিচয় বদল করতে ব্যস্ত তখন তো পথ সংকুচিত হবেই।

কৃষক ও মেহনতি মানুষের সংঘবদ্ধ শক্তি রাজনৈতিক আন্দোলনের সবচেয়ে কার্যকর অংশ হয়ে ওঠার কারণেই আমরা উপনিবেশিক শোষকদের বিদায় জানাতে পেরেছিলাম, পেরেছিলাম স্বাধীনতার লাল সূর্যটা ছিনিয়ে আনতে কিন্তু আজকের দিনে সেই মেহনতি মানুষের কোনো স্রোত নেই। তাদের শক্তি কোথাও ব্যবহার করার ব্যবস্থা নেই। যে রাজনৈতিক দলগুলো কৃষকের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলবে তারাও কার্যত নগরমুখি এবং কৃষকের জীবন বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। তাদের কাছে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের সঠিক ও হালনাগাদ রাজনৈতিক রূপরেখা নেই। তাই তারা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিই ঠিক করতে পারেন না। আজকের দিনে ঝুঁকিহীন রাজনীতিই তাদের পথ পরিক্রমার আদর্শ হিসেবে গৃহীত হচ্ছে। এটি কোনো আশার কথা নয়।

মহারাষ্ট্রের কৃষক বিক্ষোভ ও আন্দোলন এবং ১২ দফা দাবি আদায়ের ঘটনা একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। এর শক্তি রাজনৈতিক চিন্তকদের জন্য অনেক কাজে লাগতে পারে। কৃষকদের প্রতিটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন হলে বোঝা যাবে, লাল পিঁপড়ের ঝাঁক মানেই বৃষ্টির পূর্বাভাস।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)