চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতে লকডাউন শিথিলেই মদের দোকানে উপচে পড়া ভিড়

প্রায় মাসখানেক বন্ধ থাকার পর লকডাউন শিথিল করায় ভারতে মদের দোকানগুলো খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সামাজিক দূরত্ব না মানায় শেষ পর্যন্ত বহু দোকান বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

সোমবার দোকান খোলার আগে থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লেগে যায়। সকাল থেকে কোথাও ১০০ জন কোথাও ২০০ জনকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব মানছে না বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

বিজ্ঞাপন

রাজধানী দিল্লির এক দোকানে ২০০ জনের ভিড় দেখা যায়। পরে পুলিশ এসে শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।

উত্তর প্রদেশে মোদের দোকানগুলোতে সকাল ৭টা থেকেই ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য একই অবস্থা দেখা যায়।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সোমবার থেকে মদের দোকান খোলার কথা জান‌ার সাথে সাথে মদের দোকানের সামনে এক ভিড়ও লক্ষ করা গিয়েছে কালীঘাট এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

ভিড় সরাতে শেষ পর্যন্ত মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। লাইনে থাকা সকলের মুখেই মাস্ক দেখা গেলেও সামাজিক দূরত্বের কোনও চিহ্ন ছিল না। এরপর পুলিশের তাড়া খেয়ে দৌড়তে গিয়ে সরু গলির মধ্যে কারও কারও পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ ভারতজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে অন্য বহু দোকানের মতো মদের দোকানও বন্ধ ছিল।

সোমবার থেকে মদের দোকান খোলার কথা জানা গেলেও এখনও নিশ্চিত নয় কবে ও কখন থেকে রাজ্যে মদের দোকানগুলি খুলবে। মনে করা হচ্ছে গ্রিন, অরেঞ্জ জোন তো বটেই কনটেনমেন্ট অঞ্চল ছাড়া রেড জোনেও খোলা থাকতে পারে মদের দোকান। কিন্তু সব মদের দোকান খোলা হবে না। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মদের দোকানই খোলা হবে। এবং সেটাও খোলা থাকবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই।

রাজ্য সরকারের কাছে মদের দোকান খোলা কার্যত বাধ্যতামূলক, কেননা আবগারি শুল্ক রাজ্যের আয়ের একটি প্রধান উৎস। গত বছর রাজ্য সরকার আবগারি শুল্ক হিসেবে ১১৬২৬.৯৯ কোটি টাকা আয় করেছিল। এবার অর্থাৎ ২০২০-২১ সালে মনে করা হচ্ছিল আয় হতে পারে ১২৭৩১ কোটি টাকা।

সোমবার বিকেলেই রাজ্যের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকের পরেই জানিয়ে দেওয়া হবে কী কী খোলা থাকবে ও কী কী এখনও বন্ধ থাকবে। সেই তালিকায় থাকবে মদের দোকানও।