চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতে রেকর্ড মৃত্যুতে বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো: ইউনিসেফ

দৈনিক রেকর্ড সংখ্যাক মৃত্যু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে। গত ১৮ মে ৪ হাজার ৫২৫ জনের মৃত্যু মহামারির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউনিসেফ বলছে: শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভুটানেও মানুষ ভারতের ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

ইউনিসেফ (জাতিসংঘ শিশু তহবিল) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত মার্চের মাঝামাঝিতে ভারতে দিনে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। এরপর দেশটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। যে কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। দিল্লি, মহারাষ্ট্রসহ অনেক রাজ্যে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। অক্সিজেন, আইসিইউ বেডের জন্য হাহাকারের মধ্যে মৃত্যু বেড়েছে আতঙ্কজনক হারে। দিল্লির অনেক শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করার জায়গা পাওয়া যায়নি। পার্ক, পার্কিং লটে দাহ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অনেক ক্ষেত্রে করোনায় মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল পরিচালক জর্জ লেরিয়াল বলেছেন, করোনা সংক্রমণের ব্যাপ্তি এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, এর ফলে এশিয়ার দেশগুলো রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলার শঙ্কা রয়েছে. এরই মধ্যে অক্সিজেন, হাসপাতালের বেড এবং আইসিউয়ের সংকট প্রবল আকার ধারন করেছে এইসব দেশগুলোতে।

বিজ্ঞাপন

ইউনিসেফের এক পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে,মহামারির প্রথম ধাক্কায় শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ায় ২ লাখ ২৮ হাজার শিশু এবং ১ লাখ ১ হাজার নারীর মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

কিন্তু যেভাবে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিকটবর্তী দেশ থেকে ছড়িয়ে যাচ্ছে সেক্ষেত্রে এর সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

প্রতিবেশি দেশ নেপালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা রোগী। শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে বলে ইউনিসেফ শঙ্কা প্রকাশ করেছে। ব্যতিক্রম অবস্থায় রয়েছে মালদ্বীপ এবং ভুটান। এই দেশগুলোতে ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।