চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতে চাকরি হারানো শিক্ষিত তরুণরা গ্রামের কৃষি কাজ করছে

লকডাউনের প্রভাব মারাত্মকভাবে পড়ছে বিশ্বব্যাপী। অসংখ্য কর্মজীবী চাকরি হারিয়েছেন। ভারতেও এর বিকল্প নয়।

ভারতে চাকরি হারিয়ে অনেক বিবিএ-এমবিএ করা শিক্ষিত তরুণ এখন মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি অ্যাক্ট (এমজিএনআরইজিএ) এর অধীনে চাকরির করছেন ও চাকরি পেতে অপেক্ষা করছেন।

বিজ্ঞাপন

এনডিটিভি বলছে, গত ১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে কমপক্ষে ৩৫ লাখ মানুষ এই স্কিমে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, যা এই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

এমনই একজন হলেন রাজধানী থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রদেশের একটি গ্রামের রওশন কুমার।

‘আমি চাকরি করতাম এবং ভালো অর্থ উপার্জন করতাম। কিন্তু লকডাউনের পরে আমাকে চাকরি ছাড়তে বলা হয়‘- এমএ ডিগ্রিধারী রওশন কুমার বলছিলেন।

রওশন কুমার স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর দুটিই সম্পন্ন করা তরুণ যিনি এখন পুকুর খনন এবং পল্লী রাস্তা মেরামতের মতো কাজে শ্রম দিতে ইচ্ছুক।

বিবিএ ডিগ্রিধারী সতেন্দ্র কুমারও তাদের দলে। তিনি বলছেন, আমি বিবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেছি। কিন্তু দীর্ঘদিন চাকরি পাচ্ছিলাম না। অবশেষে ৬-৭ হাজার রুপি মাসের একটি চাকরি যোগাড় করতে সমর্থ হই। কিন্তু লকডাউনের কারণে সেটাও চলে গেছে। ফলে আমি আমার গ্রামে ফিরে এসে গ্রাম প্রধানের সহযোগিতায় এখানে কাজ করছি।

বিজ্ঞাপন

এমএ স্নাতক, সাথে বিএড ডিগ্রি করা সুরজিৎ কুমারেরও একই দশা হয়েছে। তিনি বলছেন, তার এছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না। লকডাউনের কারণে অন্য চাকরি জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে তার পক্ষে।

লকডাউনের আগে এই স্কিমের অধীনে এই গ্রামে কর্মী ছিলো ২০ জন। এখন এই সংখ্যা প্রতিদিন ১০০ জন এর বেশি হয়ে গেছে, যাদের মধ্যে কমপক্ষে এক পঞ্চমাংশ ডিগ্রিধারী, যারা লকডাউনের ফলে চাকরি হারিয়েছেন কিংবা চাকরি যোগাড় করতে পারেননি।

এই অবস্থায় উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার রাজ্যে ৩০ লাখ অভিবাসীকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছে।

জুনাইদপুরের গ্রামীণ প্রধান বীরেন্দ্র সিং বলছেন, লকডাউনের পর চাকরি ও জীবিকা হারা অনেকে এই স্কিমে কাজের জন্য আবেদন করেছেন, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি।

সারাদেশে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের এই স্কিমে কাজ করার কার্ড আছে। কার্ডধারীরা এর অধীনে ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি পেয়ে থাকে, তবে প্রত্যেকে কাজ দিতে গেলে ২.৮ লক্ষ কোটি রুপি সরকারের বাজেট নির্ধারণ করতে হবে এই বছর।

অর্থনীতিবিদ রিতিকা খেরা বলেছেন, এই স্কিমে চাকরি কার্ড পাওয়াদের চাকরি নিশ্চিত করার জন্য আরও বাজেটের প্রয়োজন। সরকারের এই বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত যে, এর অধীনে প্রত্যেক ব্যক্তিই কাজ পাবে।

তবে গত মাসে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের অতিরিক্ত ৪০,০০০ কোটি টাকা  বরাদ্দ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি অ্যাক্ট ২০০৫ (এনআরইজিএ) একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, যা দেশের গ্রামীণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা প্রদানের প্রচেষ্টা করে। সমন্বিত ও সামগ্রিক উন্নয়নের বাস্তবায়নে, এনআরইজিএ একটি শ্রম আইন হিসেবে পাস করা হয় এবং ২০০৬ সালে ২০০ টি জেলার মধ্যে বাস্তবায়িত হয়। ২০০৮ সাল নাগাদ এটি সমগ্র দেশে চালু করা হয় । এই পরিকল্পটি কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেক আর্থিক বছরের ১০০ দিন ন্যূনতম কাজের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য পাশ হয়।