চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতে করোনার নতুন ‘ছোট ঢেউ’র পূর্বাভাস

ভারতে করোনাভাইরাসের নতুন একটি  ঢেউ দেখা দিতে যাচ্ছে, তা ছোট হলেও আগামী অক্টোবরে সেটা চূড়ায় পৌঁছাতে পারে।

গবেষকদের তৈরি গাণিতিক মডেল অনুসারে এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এই বছরের শুরুতে তাদের করা ভয়াবহ করোনার ঢেউয়ের পূর্বাভাস সঠিক হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই মাসেই আবার করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে দেশটিতে। হায়দারাবাদ ও কানপুরের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক মথুকুমাল্লি বিদ্যাসাগর এবং মনীন্দ্র আগারওয়ালের করা গবেষণা মতে পরিস্থিতি ভালো থাকলে দিনে ১ লাখের কম আক্রান্ত শনাক্ত হতে পারে, আর খারাপ হলে আক্রান্ত হবে দেড় লাখের বেশি।

তাদের মতে পরবর্তী ঢেউটা দ্বিতীয় ঢেউয়ের থেকে ছোট হবে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে মে মাসের ৭ তারিখেই আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৪ লাখের বেশি মানুষ।

পূর্বাভাসটি এখনও ভারতকে তাদের ভ্যাকসিন অভিযানকে ত্বরান্বিত করার, উদীয়মান হটস্পটগুলি চিহ্নিত করার জন্য নজরদারি পদ্ধতি স্থাপন করার এবং জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছে।

গত অক্টোবরে ভারতে শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন সব প্রাদুর্ভাব তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন

গত বছর ভারতের প্রথম ঢেউ সীমিত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এসেছিল, ফলে স্থানীয় ভ্রমণ দ্রুত পুনরায় শুরু করা হয়েছিল এবং বড় আকারের উৎসবগুলি পরবর্তী মার্চ মাসে একটি ধ্বংসাত্মক দ্বিতীয় তরঙ্গের উত্থান ঘটিয়েছিল। হাসপাতাল এবং শ্মশানে কোনো জায়গা খালি ছিলো না। গবেষকদের অনুমান, ওই প্রাদুর্ভাবে অন্তত ৫ মিলিয়ন মানুষ মানুষ মারা যেতে পারে। সরকারি হিসেবে ভারতে মোট করোনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৩৫১ জন।

করোনার সর্বশেষ ঢেউতে দেশের ১.৪ বিলিয়ন জনগণের প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে। তাতে পরবর্তী প্রাদুর্ভাবের প্রভাব কিছুটা কম হবে বলেই আশা। জাতীয় অ্যান্টিবডি নিয়ে দেশটির কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের গত মাসে করা এক গবেষণা বলছে, ছয় বছরের বেশি বয়সী ভারতীয়দের তিনভাগের দুইভাগই করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছে।

সর্বশেষ ঢেউ শুরুর পাঁচ মাস পর ভারতে দৈনিক সংক্রমণ ৪০ হাজারে নেমেছে। গত পাঁচ দিনে তার অর্ধেক সংক্রমণ হয়েছে দক্ষিণের রাজ্য কেরালায়। ধারণা করা হচ্ছে সেটাই হবে ভারতের পরবর্তী হটস্পট।

ভারতে কোভিড-১৯ ট্র্যাকার তৈরি করা ইউনিভার্সিটি অব কেমিব্রিজের জজ বিজনেস স্কুলের প্রফেসর পল কাত্তুমান বলেন, কেরালায় জুলাই জুড়ে দৈনিক সংক্রমণ বেড়েছে। কিন্তু কয়েকটি রাজ্যে ‘জুলাই মাসে স্বল্পকালীন তীব্রতা দেখা গেছে যা তুলনামূলকভাবে দ্রুত হ্রাস পেয়েছে’। এসবই সামগ্রিকভাবে দেশটিকে ‘স্থিতিশীল অবস্থায়’ রেখেছে।

কাত্তুমান বলেন, বড় কয়েকটি রাজ্যে যদি সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে তাহলে বর্তমানের ব্যালান্স নষ্ট হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশে আবার করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়া শুরু করবে।  আমরা আশা করতে পারি, দেশে একটি সময়কালের জন্য ধীরগতির সংক্রমণ দেখা যাবে এবং যতক্ষণ না যথেষ্ট পরিমাণে ভ্যাকসিন প্রদান হবে ততদিন ধীরগতির প্রত্যাশা থাকবে।

ভারতে এখনও মাত্র ৭.৬ শতাংশ মানুষ পুরোপুরি ভ্যাকসিন প্রাপ্ত। এর ফলেও পরবর্তী ঢেউ নিয়ে বেশ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পরবর্তী প্রাদুর্ভাবের জন্য তৈরি হওয়াই ভালো, তবে অর্থনীতিতে ওই ঢেউয়ের আগের মতো প্রভাব থাকবে না।