চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতের লিখিত প্রতিশ্রুতি পেতে হুমকি দিয়ে রাখল পাকিস্তান

লিখিতভাবে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি আর সমর্থক-সাংবাদিকদের জন্য ভিসার ব্যবস্থা না করলে ভারত থেকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান এহসান মানি।

একইসঙ্গে কোনো কারণে ভারত বিশ্বকাপ আয়োজনে ব্যর্থ হলে আরব আমিরাতকে বিকল্প হিসেবে মাথায় রেখেছে আইসিসি, এমন কথা লাহোরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মানি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

করোনার কারণে ২০২০ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেয়া হলে ২০২১ সালের আসরের প্রথম দাবিদার ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ২০২১ সালের আসরটি ভারতে হওয়ার পূর্বসূচি ছিল। পরে অবশ্য ২০২১ সালের আসরের বদলে ২০২২ সালকেই বেছে নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যে কারণে চলতি বছরে আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের নামই থাকছে।

এদিকে ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ভারতে খেলতে আসতে দ্বিধায় আছে পাকিস্তান। আইসিসি তাই চাইছে দুই দেশের মধ্যে বিভেদকে একপাশে সরিয়ে সুষ্ঠুভাবে বিশ্বকাপ আসর সম্পন্ন করতে।

সরকারের পক্ষ থেকে ভারতে যেতে কোনো আপত্তি নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এহসান মানি, ‘আইসিসির সঙ্গে আমরা একমত যে, আমরা বিশ্বকাপে অংশ নেবো, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই।’

‘আইসিসি থেকে আমাদের পরিষ্কার করে জানাতে হবে যে, কেবল ক্রিকেটারদের জন্যই নয়, আমাদের সমর্থক-সাংবাদিক, বোর্ড কর্মকর্তাদের জন্যও ভিসা প্রদান করা হবে। আইসিসির স্বাগতিক দেশের শর্ত অনুযায়ী প্রস্তাবটি হতে হবে লিখিত।’

বিজ্ঞাপন

‘মনে হচ্ছে আইসিসি এক্ষেত্রে একটু নড়বড়ে অবস্থানে আছে। তারা জানিয়েছিল ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারত আমাদের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়নি। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে আইসিসি চেয়ারম্যানের কাছে তা চেয়েও পাইনি, তাই আইসিসি কর্মকর্তাদের পরিষ্কারভাবে বলেছি মার্চের মধ্যে যেন সবকিছু সম্পন্ন করা হয়।’

‘আমাদের জানানো হয়েছে মার্চেই পেয়ে যাবো। যদি তা না হয়, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরিয়ে আরব আমিরাতে করার দাবি জানানো হবে।’

২০০৭ সালে সবশেষ ভারত সফরে গিয়েছিল পাকিস্তান। ২০১২-১৩ সালে সবশেষ রঙিন পোশাকের সিরিজ খেলেছে দুই দল। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর আর দেখা হয়নি ভারত-পাকিস্তানের।

রাজনৈতিক কারণে ২০১৯ শুটিং বিশ্বকাপে পাকিস্তানের শুটারদের ভিসা না দেয়ায় ভারতকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। পরে ভিসা দেয়ার শর্তপূরণ করে সে যাত্রায় রেহাই পেয়েছে ভারত। বিষয়টিকে উদাহরণ টেনে এহসান মানির দাবি, ক্রিকেটকেও দূরে রাখা হোক বৈশ্বিক রাজনীতি থেকে।

অন্যদিকে আইসিসির পক্ষ থেকে আলাদা চাপে আছে বিসিসিআই নিজেই। ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে কর অব্যাহতি না করা হলে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার ক্ষমতা হারাবে বোর্ডটি। এমনও নাকি জানানো হয়েছে পিসিবি চেয়ারম্যানকে।

‘এটা একপ্রকার সিদ্ধান্তই হয়ে গেছে যে, ভারতে যদি বিশ্বকাপ নাই হয় তাহলে সেটা চলে যাবে আরব আমিরাতে। আইনগত ও সংবিধান অনুযায়ী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ আমাদের অধিকার এবং সেটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আইসিসি চেয়ারম্যান সেটা নিজেও ভালো করে জানেন।’

‘দুর্ভাগ্যবশত, ভারতে ক্রিকেট নোংরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ব্যক্তিগতভাবে সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই এবং সেও চায় বিশ্বকাপটা ভারতেই হোক। এজন্য তাকে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী দেশকে আলাদাভাবে সন্তুষ্ট করতে হবে। কিন্তু আইসিসির বিকল্প ভাবনায় বিশ্বকাপের আলাদা আয়োজক দেশও ঠিক করা আছে।’