চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল এবার রাজ্যসভায় পাস

আসামে কারফিউ, ত্রিপুরায় সেনা মোতায়েন

ভারতের বহুল বিতর্কিত ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-২০১৯’ লোকসভায় পাস হওয়ার দুই দিন পর এবার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ১১৭-৯২ ভোটে পাস হয়েছে।

বুধবার সংসদে বিলটি পাস হতে ১০৫ ভোট প্রয়োজন হলেও বিলটির পক্ষে ১১৭টি ভোট পড়ে। এসময় এই বিলের পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক হয়।

রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পাস হওয়ার পর এক টুইট বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিনটিকে ভারতের জন্য ‘ল্যান্ডমার্ক দিবস’ বলে মন্তব্য করেন।

এর আগে রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দেশের মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ, তারা দেশের নাগরিক ছিলেন এবং থাকবেন। এই বিলটি শুধুমাত্র প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘুদের জন্য, ভারতের মুসলিমদের নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেই।

বিলটি নিয়ে কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, এটি ভারতের সংবিধানের আত্মাকে আঘাত করবে।ভারতের সংবিধানের ভিত্তিতে আঘাত। এটি সংবিধানের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে কংগ্রেস এই বিলের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সর রাজ্যে দলীয় সভাপতিদের বিলটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়াও বিরোধী দলগুলো বিলটিকে ‘অসাংবিধানিক’ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। বিলটির বিরোধিতা করে বিরোধী দল ও দক্ষিণপন্থী দলগুলোর অভিযোগ, এই বিল মুসলিমদের প্রতি পক্ষপাতমূলক এবং সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা বিরোধী, সেখানে সবার সাম্যতার কথা বলা হয়েছে।

রাজ্যসভায় যখন বিলটি নিয়ে বিতর্ক চলছিল, বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ থামাতে ত্রিপুরা ও আসামে সেনা মোতায়েন করা হয়। ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর ও মানু এলাকায় দুই কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হয়েছে, আরও দুই কোম্পানি পাঠানো হয়েছে আসামে। নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তপ্ত আসামে কারফিউ জারি করাসহ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তরপূর্বের ওই রাজ্য গুলোতে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়।

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তপ্ত আসাম রাজ্যের ১০টি জেলায় মোবাইল-ইন্টারনেট এবং ডেটা পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত সোমবার লোকসভায় নাগরিকত্ব বিল পাস হয় ৩১১-৮০ ভোটে।

মূলত বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের এই উদ্যোগ। এতে বলা হয়, আগের অন্তত ১১ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর ভারতে থাকলে ওইসব দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্য যার ভারতে গেছেন।

এর আগে সোমবার ‍দুপুরে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বিলটির পক্ষে নানান যুক্তি তুলে ধরেন।

তবে শুরু থেকেই বিলটির তীব্র বিরোধীতা করছে কংগ্রেস, বামসহ বেশ কয়েকটি দল। তাদের দাবি, এই বিল ভারতের সংবিধানের মূল চরিত্র ধর্মনিরপেক্ষতায় আঘাত। ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে।

ভারতের সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনা হয়েছে মন্তব্য করে লোকসভায় প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানের সমানাধিকার সংক্রান্ত ১৪ ধরার লঙ্ঘন করা হয়েছে।

গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে নির্যাতিত হয়ে ভারতে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে ‘নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল-২০১৯’ অনুমোদন দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

বিলটি ভারতের সংসদের দুইকক্ষে পাস হলে প্রতিবেশী এসব দেশের হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সী এই ৬টি সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে।

এর আগে ২০১৬ সালে আনা ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল’ বিগত লোকসভায় পাস করতে পারলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে রাজ্যসভায় তা পাস করতে পারেনি মোদি সরকার। আবার ক্ষমতায় এসে নতুন করে তা পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন: