চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় প্রস্তুতি কতটুকু?

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রতিবেশী দেশটিকে বিপর্যয়ের চরম শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেও চোখ রাঙাচ্ছে বৈশ্বিক মহামারির এই ধরন। চ্যানেল আইয়ের সংবাদে জানা যায়, ইতোমধ্যে ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জে ৭ জনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়াও চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। এতে বলা হয়েছে, দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়, ‘রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট নিয়মিত ভিত্তিতে কোভিড-১৯ এর উচ্চ সংক্রমিত এলাকাগুলোতে আক্রান্ত রোগীদের কেস ইনভেস্টিগেশন, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং সন্দেহজনক রোগীদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করছে।এই ধারাবাহিকতায় আইইডিসিআর ও অন্য একটি সংস্থা এ পর্যন্ত ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেছে। এরমধ্যে ৪০টিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছাড়াও ৮টি নমুনায় সাউথ আফ্রিকান বেটা ভ্যারিয়েন্ট (বি.১.৩৫১), ১টি সাকুর্লেটিং স্ট্রেইন এবং একটি আন-আইডিন্টিফাইড (শনাক্তকরণ হয়নি) রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সংগৃহীত ১৬টি নমুনার ১৫টিতে এবং গোপালগঞ্জ থেকে সংগৃহীত ৭টি নমুনার সবগুলোতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। খুলনা শহর থেকে সংগৃহীত ৩টি নমুনার সবগুলোতে, রাজধানী ঢাকার ৪টি নমুনার ২টিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় আসা ৭ জনের নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।’

এর ফলে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার নানাভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। এরমধ্যে সীমান্তবর্তী সংক্রমিত জেলাগুলোতে লকডাউন দেয়া হয়েছে। এর বাইরে নোয়াখালীতে সংক্রমণ বাড়ায় সেখানেও লকডাউন দেয়া হয়েছে। এতে সাময়িক সমস্যা হলেও এগুলো আশার খবর। তবে এমন লকডাউন একমাত্র সমাধান নয়। বরং ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ কম থাকতেই যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুদ এবং আইসিইউ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

এছাড়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ কোভিড-১৯ এর অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ঠেকাতে জনসাধারণকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি– যেমন: বিনা প্রয়োজনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া ইত্যাদি মেনে চলার জন্য আমরা অনুরোধ করছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে বিগত দিনের মতো বাংলাদেশ এখনও করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী।

বিজ্ঞাপন