চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ভাত-কাপড়’-এর ইমেজ এই সিনেমার ফোকাল পয়েন্ট: আসমা বীথি

বহুবছর ধরেই ফটোগ্রাফির সাথে আছেন আসমা বীথি। ইতোমধ্যে তার আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে একস্টেসি অফ হারমোনি (জুম সংষ্কৃতি মেলা ২০১৯), দ্য ইনফ্লাক্স প্যাসেজ-২০১৮, সি গুহ মেমোরিয়াল গ্যালারি (কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা), পাঠশালার ২০১৩ ও ২০১৪ সালের বার্ষিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ আরও কয়েকটি প্রদর্শনীতে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয় তার তোলা ছবি। পার্বত্য অঞ্চলের অন্যরকম সৌন্দর্য্য খুঁজে পাওয়া যায় তার ছবিতে, তাদের ঘরদোর সংসার! যদিও আলোকচিত্রে তার আগ্রহের বিষয় মানুষের মুখ!

ঘরবন্দির এই সময়েও ক্যামেরা হাতে বেড়িয়ে গেছেন আসমা বীথি। তবে এবার স্থিরচিত্রে আটকে থাকলেন না, নির্মাণ করলেন নিজের প্রথম ডকুফিল্ম ‘ইনসাইড আউট’। স্বভাবতই তার চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে এই সময়ের কথা। ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রটি অনলাইনে মুক্তিও পেয়েছে। প্রশংসাও করছেন অনেকে। যা নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বললেন তিনি:

প্রধানত আপনি ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত, কিন্তু কী ভাবনা এই লকডাউনের সময়ে চলচ্চিত্রে টেনে নিয়ে আসলো আপনাকে?
ফটোগ্রাফির সাথে যুক্ত অবশ্যই। তবে লকডাউনের এই সময় চলচ্চিত্রের দিকে টেনে এনেছে ব্যাপারটা একদমই তা নয়। আমার একটা দীর্ঘদিনের প্রজেক্ট আছে। মান্দি জনগোষ্ঠির উপর। ওখানেও প্রথমদিকে শুধু ছবিই তুলতাম। একটা সময় উপলব্ধি করলাম ওদের ভাষা-সংস্কৃতি এবং যে-মানুষটার উপর কাজ করছি তার সঠিক অভিব্যক্তি, ব্যাপ্তী শুধু স্থিরচিত্রে প্রকাশ সম্ভব নয়। মূলত তখন থেকেই ফিল্ম নিয়ে ভাবতে ও কাজ করতে শুরু করা। ওটাই প্রথম চলচ্চিত্র হবার কথা ছিলো। কোভিড-১৯ যেহেতু খুব সাম্প্রতিক ইস্যু, সময়-ই এটা খুব অল্প সময়ের মধ্যে করিয়ে নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘ইনসাউড আউট’ নির্মাণকালে ‘ভাত-কাপড়’ ইমেজ নিয়ে কতটা ভেবেছিলেন?
এটাই ফোকাল পয়েন্ট ছিল। লকডাউনের এই সময়ে যেহেতু ঘরের ফুটেজ বিভিন্ন সময়ে নিচ্ছিলাম। বাইরেও নিতে শুরু করলাম। রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলাম। এরকম একটা সময়ে কোন শ্রেণির মানুষ আসলে রাস্তায়। উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্তরা নয়, সেসময়ে রাস্তায় দেখেছি একেবারে নিম্নআয়ের মানুষদের। যারা উপায়হীন। সতর্কতা অবলম্বন করলেও না খেয়ে মরতে হবে তাই দুটোই সমান তাদের কাছে। এই অবস্থায় ভাত-কাপড়ের ঐ দেয়াল লিখন এবং তার কাছ ঘেঁষে মানুষের চলাচল দেখতে না পেলে কাজটা করার তাগিদ হয়তো এখনই পেতাম না।

‘ইনসাইড আউট’ প্রথম সিনেমা হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন? মানে ফটোগ্রাফি জানা থাকায় সিনেমা বানাতে কী কী সুবিধা নিতে পেরেছেন বলে মনে হয়?
চলচ্চিত্রে যুক্ততার অভিজ্ঞতা তো আগেই বলেছি, মুক্তিপ্রাপ্ত হিসেবে গত ২৪ ঘন্টার অভিজ্ঞতা বলা যায়। প্রথমে মনে হয়েছিল দর্শক দেখবে তো! পরে দেখলাম ভালই দেখছে এবং প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। একবার মনে হচ্ছে বাহ্, বেশ! আবার মনে হচ্ছে, ভাল হলে তো লোকের বেশি দেখার কথা নয়। কেননা সোশ্যাল মিডিয়ায় সবসময় দেখেছি সিরিয়াস ধরনের কাজ কম গ্রহণযোগ্যতা পায়। সব মিলিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ফটোগ্রাফি জানার প্রায় পুরো সুবিধাটাই নিয়েছি। তবে এটা অবশ্যই ভিন্ন মাধ্যম। জানার অনেক বাকী। সমান গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় সম্পাদনাকালীন সময়টি। আর ফটোগ্রাফি আর সিনোটোগ্রাফি সেরকম বিষয় পেলে দুটোই একসাথে চলে। যেমন এই একই বিষয় নিয়ে একটা ফটোস্টোরিও প্রকাশিত হয়েছে www.121clicks.com এ।

লক্ষ্য করলে দেখা যায় আলোকচিত্রে মানুষের মুখ আপনার আগ্রহের বিষয়। কেন?
মানুষের মতো আশ্চর্য প্রাণী আর কি আছে! একইসাথে ধ্বংস এবং সৃষ্টির বিপরীতমুখী দুই শক্তির অধিকারী হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

বাইরের জার্নালে আপনার আলোকচিত্র যখন নির্বাচিত হয় তখন আপনার কী মনে হয়? তারা আমাদের কোন ধরনের ইমেজের প্রতি বেশি আগ্রহী? নাকি এটা জার্নালের বৈশিষ্ট্য-এর উপর নির্ভরশীল?
খুব একটা ছবি পাঠানো হয়না। অল্পবিস্তর যা বলার মতো নয়। অন্যদের ছবি দেখে বুঝতে পারি। বাজারই হলো আসল বিষয়। বাজার মানে হলো কেনা-বেচার জায়গা। সেখানে দৈনতা, অভাব এবং গ্লানিকে পুঁজি করে তোলা হয়। এটাকে যে-যত প্রকট-বিভৎসভাবে দেখাতে পারে, তত ভাল দাম পাওয়া যায়। এতে দুর্দান্ত চমক থাকে হয়তো। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় চমকটা একসময় ধরাও পড়ে। যে দুঃখটাকে আপনি পুঁজি করতে চাইছেন, সে দুঃখটাকে যদি সত্যি আপনি অনুভব না করেন জীবনের আরো অনেক অণুগল্প থাকে, তা অন্তরালেই রয়ে যায়।