চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভাঙা সড়ক: প্রধানমন্ত্রী পরিচালিত পরিদর্শন টিম চাই

এই ভরা বর্ষায় ও বন্যায় বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌর শহরের সড়কগুলোর কী অবস্থা?অধিকাংশই ভাঙা৷ পথচারীদের পায়ে হেঁটে যাওয়ার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে এসব পথ৷ রাস্তা ভাঙলে আসে নতুন বরাদ্দ৷ এরপর রাস্তা পুনঃ-সংস্কার হয়ে একমাস যেতে না যেতেই আবার রাস্তা ভাঙে৷ এভাবেই পথচারীদের  দুর্ভোগের ধারাবাহিকতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে৷ প্রতিটি উপজেলা, পৌর শহর ও ছোট ছোট হাটবাজারের রাস্তা দিয়ে অটো সিএনজিতে গেলে কোমরে ব্যথা আসে যাত্রীদের৷ কেন এই রাস্তাগুলোর স্থায়িত্ব বৃদ্ধির কি কোন উপায় নেই?রয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর৷ রয়েছে সড়ক মন্ত্রণালয় ৷ এই বিশাল কর্মকর্তা কর্মচারীরা কী ভূমিকা রেখে চলেছে সড়কের উন্নয়নে?সড়কের বরাদ্দ নিয়ে কী ঘটছে দেশে?সংবাদ পত্রে খবর বেরোয়,ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের গোদারবন্ধে একটি কালভার্ট নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।

এই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া এলজিএসপির ২ লাখ টাকার একটি কালভার্ট নির্মাণে পাটাতন ঢালাই করার সময় রডের পরিবর্তে এ বাঁশ ব্যবহার করেন।বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে বাঁশ দিয়ে পাটাতন করা কালভার্টের পাটাতন শ্রমিক দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়৷এত বড় একটা অনিয়ম ঘটল তখন কোথায় ছিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর,কোথায় ছিল সড়ক মন্ত্রণালয়, কোথায় ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়৷ অতঃপর কালভার্ট নির্মাণস্থল পরিদর্শন করতে যান ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক একেএম গালিব খান।পরিদর্শন শেষে কি মন্তব্য করলেন তিনি?দায়টা কার বললেন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন তিনি? দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরকম ভূরি-ভূরি অনিয়ম চলে আসছে৷ সড়ককে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক লুটেরা দুর্বৃত্ত সিন্ডিকেট৷ এই সিন্ডিকেটই জনদূর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছে কিন্তু তা যেন দেখার কেউ নেই৷

বিজ্ঞাপন

এই বর্ষায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে৷ জুন মাসেই নিহত হয়েছে ৩৬৮ জন৷ অথচ চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশে যান চলাচল সীমিত আকারে চলছে। গত জুন মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৫৮টি দুর্ঘটনায় ৩৬৮ জন নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছেন ৫১৮ জন।
১২ জুলাই বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে৷ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে সড়কে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬২ জন চালক, ১২৫ জন পরিবহন শ্রমিক, ১১৩ জন পথচারী, ৬২ জন নারী, ২১ জন বিজিবি সদস্য, ১৮ জন আনসার সদস্য, ১৩ জন পুলিশ সদস্য, পাঁচজন সেনা সদস্য, ২৮ জন শিশু, ২৩ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন রাজনৈতিক কর্মী, সাতজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন প্রকৌশলী রয়েছে৷ এসব দুর্ঘটনার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ভাঙ্গা রাস্তা দায়ী৷ কিন্তু এই দায় কি নেবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর? নেবে কি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়?

বিজ্ঞাপন

অনেক শহরকে পৌরসভায় রূপান্তর করে বরাদ্ বাড়িয়ে চলছে সত্য কিন্তু এতে উন্নত ও নিরাপদ হচ্ছেনা জনচলাচল৷ অধিকাংশ পৌরশহরের ভেতরেই পায়ে হেঁটে চলা যায়না৷ জলাবদ্ধ ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে রিক্সা, অটোরিকশা ও সিএনজিতে চড়ে পাড় হচ্ছে৷ বৃষ্টিও বাড়ছে ঝুঁকিও বাড়ছে৷ যতই ডিজিটাল বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে শব্দ তর্জন করা হোক না কেন মানুষের চলাচলকে নিরাপদ করতে না পারলে তা হবে অর্থহীন৷ অনেক অটো রিকশা, সিএনজি জলের নীচে খাদে পড়ে যাচ্ছে৷ অনেক ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টো ঘটনা৷ অধিকাংশ পৌর শহরের ভিতরের রাস্তার চেয়ে বাইরের রাস্তা কিছুটা চলাচল উপযোগী৷এসব এলাকায় মানুষ কখন পৌর শহর হতে বাইরে বেরোবে সেই অপেক্ষায় থাকে৷ শহরে জুতা পায়ে হাঁটাতো একেবারেই অসম্ভব আর জুতা খুলেও ঝুঁকিময়৷ ভাঙ্গা পাকা রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটা কি সম্ভব?

বিজ্ঞাপন

আসলে সড়কে কী হচ্ছে তা দেখার জন্য কি একটি সরেজমিন তদন্ত টিম হতে পারেনা?এই ভরা বর্ষায় প্রতিটি উপজেলা ও পৌর শহর পরিদর্শন করতে গেলেই তারা থমকে যাবে৷ থেমে যাবে তাদের চলার গতি৷সামনে ঈদুল আজহা৷ এসময় আরও জনদূর্ভোগ বাড়বে৷ মানুষ নিরাপদে পায়ে হেঁটে বাজার হাট করতে পারবেনা৷ সড়কে বাড়বে দুর্ঘটনা ঝুঁকি৷ এর কি কোন প্রতিকার নেই?কেন বরাদ্দের নয়ছয় করে মানুষকে এমন দুর্ঘটনা ঝুঁকিকে ফেলে দেয়া হচ্ছে?প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় কোন তদন্ত টিম কি সরেজমিনে তা একটু পরিদর্শন করতে যাবে?দুদোক কি একটু তৎপর হবে সড়কের বরাদ্দগুলোর তত্ত্ব নিতে?

দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে চালক, পরিবহন শ্রমিক, সেনাসদস্য, বিজিবিসদস্য, পুলিশ,আনসার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী ও নিরীহ পথচারী তথা সর্বস্তরের মানুষ৷ আসন্ন ঈদে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরবে মানুষ৷ সড়ক নিরাপদ না হলে বাড়বে দুর্ভোগ, বাড়বে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু৷ কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামের পল্লীচিকিৎসক ফরিদুজ্জামান বাদল বলেন,গুরুই হতে কুর্শা পর্যন্ত রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী৷ আসন্ন ঈদে অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বাড়িতে আসবে৷ একবার আমাদের মেলাতে আসার সময়ও তারা পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল৷ নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ পাঠান বলেন,মদন পৌরশহরে সেন্টার হতে ব্রিজ পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগী৷ কেন্দুয়া রোডের অবস্থা আরও খারাপ৷ তিনি বলেন,শুনেছি রাস্তামেরামতের জন্য বরাদ্দ এসেছে কিন্তু কাজ শুরু হয়নি৷

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার এনজিও কর্মী মোহাম্মদ সোনা মিয়া বলেন,সরিষাবাড়ি পৌরসভার গণময়দান রোড, চম্পাকলি সিনেমা হল রোড ও কুমলী বাড়ি রোড পর্যন্ত ভাঙ্গারাস্তা জনচলাচলের জন্য চরম হুমকিতে৷ এছাড়াও শুয়াকৈর ঝিঁনাই নদীর ব্রিজ হতে শুয়াকৈর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ভাঙ্গা রাস্তায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ৷ খবর নিলে এমন অসংখ্য রাস্তার খবর পাওয়া যাবে৷ জনদূর্ভোগ দূর করতে প্রধানমন্ত্রী পরিচালিত একটি জরুরি পরিদর্শন টিম দরকার৷ আরও দরকার সড়কের বরাদ্দগুলো সম্পর্কে দুদকের অনুসন্ধান৷ আমরা চাই আসন্ন ঈদে মানুষের নিরাপদে চলার সুযোগ সৃষ্টি করা হোক৷ সড়ক হোক নিরাপদ,সড়কের বরাদ্ধ গুলোর হোক যথার্থ প্রয়োগ এটিই প্রত্যাশা সকলের৷

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)