চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভবানীপুরে মমতার ‘বাঁচার’ লড়াই

বিজেপিনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়মানুযায়ী সেই চেয়ার বাঁচাতে তাকে ৬ মাসের মধ্যে আবারও কোনো একটা বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হয়ে আসতেই হবে। নিজের ভাগ্য নির্ধারণে আজ ভবানীপুরে সেই ভোটযুদ্ধে নেমেছেন মমতা।

দক্ষিণ কলকাতার এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত তার ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। তবে বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ‘জেদের বশে’ শুভেন্দুর সঙ্গে লড়তে গিয়ে হেরে যান নন্দীগ্রামে। এই ভবানীপুর আসনে জয়লাভ করেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মমতার কথা বিবেচনা করে পরে পদত্যাগ করেন তিনি। সেই শূন্য আসনেই লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির যুবনেত্রী ও আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল।

দুই লাখের বেশি ভোটারের হাতেই রয়েছে  নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভাগ্য। তাদের ভোটই নির্ধারণ করবে তিনি  মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন কি না? বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলচবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

ভবানীপুরে ভোটারদের মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার ২৮৩ পুরুষ এবং ৯৫ হাজার ২০৯ জন নারী । তৃতীয় লিঙ্গভুক্ত রয়েছেন চারজন।

নিজের বাড়ির আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া তার ‘ভাগ্যে’ ছিলো উল্লেখ করে ভোটের আগে তৃণমূল নেত্রী বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার জন্য আমার জয় দরকার। কারণ আমিই একমাত্র সিএএ, এনআরসি এবং বিজেপির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবো।

বিজ্ঞাপন

মোট ৮ ওয়ার্ডের এই বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে কংগ্রেস। সিপিএম নামিয়েছে আরেক যুবনেতা এবং আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাসকে। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লড়াইটা দ্বিমুখী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ভোটকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ জোড়দার করা হয়েছে। কেন্দ্র জুড়ে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক সেনা নিয়োগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ২০০ মিটার পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, এলাকায় পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে ২০০টি ভোটকেন্দ্রকে স্পর্শকাতর ঘোষণা করা হয়েছে। আর ১৩টি বুথকে অধিক স্পর্শকাতর ঘোষণা করা হয়েছে।

তাছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সেচ বিভাগকে সতর্ক থাকার কথাও বলেছে। সব ভোটকেন্দ্রকে বন্যার পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে আরও দুটি বিধানসভা আসন মুর্শিদাবাদ জেলার শমসেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরেও ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই তিনটি কেন্দ্রেরই ফলাফল  জানা যাবে ৩ অক্টোবর।

বিজ্ঞাপন