চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বয়স্কদের মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক বলে’ দ্বিতীয় লকডাউন চাননি বরিস জনসন

‘করোনায় ৮০ উর্ধ্বদের বেশি মৃত্যু হচ্ছে। তাদের তো এমনিতেই মৃত্যু আসন্ন। শুধু তার জন্য দেশে লকডাউন জারি রাখার কী প্রয়োজন’- এমন মন্তব্য করে যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় লকডাউন দিতে চাননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বরিস জনসনের প্রাক্তন সহকর্মী ও উপদেষ্টা ডমিনিক কামিন্স। গত অক্টোবরে তিনি তার পদ থেকে সরে আসেন। আর চলতি বছর দেশ থেকে লকডাউন পুরোপুরি প্রত্যাহারের পর মুখ খুললেন। আর মুখ খুলেই এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রকাশ্যে।

বিজ্ঞাপন

কামিন্সের দাবি, বরিস বলতেন যে কোভিডে ৮০ ঊর্ধ্বদের বেশি মৃত্যু হচ্ছে। শুধু এর জন্য দেশে লকডাউন জারি রাখার পক্ষে তিনি একেবারেই নন। তাই গত বছরও তিনি দ্বিতীয় লকডাউন চালিয়ে যেতে চাননি। পরবর্তী সময়ে সংক্রমণ বাড়ায় পুনরায় কড়া বিধিনিষেধে বাধ্য হয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন।

এ প্রসঙ্গে বরিস জনসনের সঙ্গে তার টেক্সটে কী কথাবার্তা হয়েছিল, তাও প্রকাশ্যে এনেছেন ডমিনিক কামিন্স।

তার দাবি, জনসন নাকি মজা করে বলেছিলেন, ৮০ বছরের বেশি মানুষজন জীবনের অনেকটাই বেঁচেছেন। কোভিডে তাদের মৃত্যু হলে তাই কিছু যায় আসে না। বরং কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধদেরই হোক, এমনও মনে করছিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, যার নিজের বয়স ষাটের কাছাকাছি।

কামিন্সের আরও দাবি, করোনার আঘাতে যখন জর্জরিত গোটা দেশ, সেসময় ৯৫ বছর বয়সী রানী এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বরিস। কোনো বিধিই তিনি মানতে চাননি। ডমিনিক প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে নাকি বারণ করে বলেছিলেন, এটা কোনোভাবে কাম্য হবে না যে, রানীর সঙ্গে সাক্ষাত করা।

এনডিটিভি বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এক সময়কার উপদেষ্টার এসব বিস্ফোরক দাবি স্বভাবতই বিরোধী শিবিরে বিতর্ক তৈরি করেছে। তারা আবারও লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ভুল সময়ে নেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগে সরব হয়ে উঠেছেন।

তবে বরিসের বিরুদ্ধে কামিন্সের এসব অভিযোগ কতোটা সত্য সে বিষয়ে রয়টার্স পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলেনি।

সোমবার থেকে ব্রিটেনে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে সম্পূর্ণভাবে। খুলে গিয়েছে সব। মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলায় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই আর। দেশের অধিকাংশ মানুষ করোনা ভ্যাকসিনের জোড়া ডোজ পেয়েছেন। ফলে তাদের প্রতিরোধক্ষমতা বেড়েছে, এই যুক্তি দেখিয়ে সর্বত্র ছাড় দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার এই সিদ্ধান্তে ফের সংক্রমণ বৃদ্ধির অশনি সংকেত দেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণও বাড়ছে যুক্তরাজ্যে। প্রতিদিনই এখন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এরপরও বরিস জনসন শোনার পাত্র নন। তিনি লকডাউন জারি রাখার পক্ষপাতি নন আর।

বিজ্ঞাপন