চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বড় পর্দায় আসছে মৃত্তিকা গুণের ‘কালো মেঘের ভেলা’

২৬ জুলাই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত সরকারি অনুদানে নির্মিত মৃত্তিকা গুণের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কালো মেঘের ভেলা’…

‘‘ঢাকার রেলস্টেশনের এক পথশিশু। নানা স্ট্রাগলময় জীবন যার। তবে তার মধ্যেও আছে শৈশব কৈশোরে থাকা প্রতিটি শিশুর মতো ফ্যান্টাসি প্রবনতা। এরকম ফ্যান্টাসি থেকেই একদিন হঠাৎ সে ট্রেনে উঠে নিরুদ্দেশের পথে যাত্রা করে। হাজির হয় একটি গ্রামে। সেখানে কাজের সন্ধান করে। যথারীতি নানা বাধা, প্রতিবন্ধকার সম্মুখিন হয়। বলে নেয়া ভালো, শিশুটির সাথে তার মায়ের একটা গভীর সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে গল্পে। কারণ, মা ছাড়া পৃথিবীতে শিশুটির আর কেউ নেই। কিন্তু ঘটনাক্রমে গিয়ে শিশুটি বুঝতে পারে যে, মায়ের জন্য সে আসলে একটা বোঝা! আর তখনি নিরুদ্দেশে তার যাত্রা!’’

বাবা নির্মলেন্দু গুণের লেখা শিশুতোষ উপন্যাস ‘কালো মেঘের ভেলা’কে চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছেন মেয়ে মৃত্তিকা গুণ। তার নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে এভাবেই গল্পের সারাংশ বলছিলেন নির্মাতা। সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। স্বল্পদৈর্ঘ্যের জন্য অনুদান পেলেও বহু খাটাখাটনি করে গল্পটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছেন মৃত্তিকা।

ছোটবেলা থেকেই বাবার লেখা প্রিয় উপন্যাসের একটি ‘কালো মেঘের ভেলা’। ক্লাস সিক্সে প্রথমবার বইটার সঙ্গে পরিচয় মৃত্তিকার। পড়তে পড়তে নিজেও হারিয়ে যান কল্পনার রাজ্যে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র দুখু মিয়া দাগ কাটে নির্মাতার মনে। সেই থেকেই মাথায় গেঁথে যায় গল্পটি। তখনই ভেবেছিলেন, এটি নিয়ে কাজ করার। সেই সুযোগ এলো ২০১৫ সালে। সরকারি অনুদান পাওয়ার পর সময় নিয়ে শিল্পী নির্বাচন ও শুটিংয়ের কাজ করলেন মৃত্তিকা। স্বল্পদৈর্ঘ্য হিসেবে অনুদান পাওয়া এই ছবিটি এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে।

সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্রটির বিদেশ যাত্রার আগেই বেশ প্রশংসা পেয়েছিলো তথ্যমন্ত্রণালয়ের জুরিদের কাছেও। জুরি বোর্ডে ছিলেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা, সামিয়া জামান এবং শাহনাজ কাকলী। তারা ‘কালো মেঘের ভেলা’ দেখে খুব প্রশংসা করেছিলেন। আর তখনই তথ্যমন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিলো, সরকারি ভাবে যতো ফেস্টিভালে আমন্ত্রণ পাবে সবগুলোতেই দেয়া হবে ‘কালো মেঘের ভেলা’। আর তারই অংশ হিসেবে ৮ম সার্ক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয় চলচ্চিত্রটি।

এরআগেও চলচ্চিত্রটি দেখানো হয়ে কলকাতা ইন্টারনেশনাল কাল্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে চলচ্চিত্রটি সে উৎসবে সেরা শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কারও অর্জন করে।

এবার বড় পর্দায় ‘কালো মেঘের ভেলা’ মুক্তি দিতে চান মৃত্তিকা। প্রাথমিকভাবে আগামী ২৬ জুলাই তারিখও ঠিক করে ফেলেছেন। কিন্তু তার আগে প্রচার প্রচারণা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন নির্মাতা।

ছোটদের মনস্তাত্বিক বিষয় নিয়ে ছবি করলেও নির্মাতা মনে করছেন, ‘কালো মেঘের ভেলা’ ছবিটি শুধু ছোটদের নয়, এটি প্রাপ্তমনস্কদেরও ছবি। স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা টার্গেট দর্শক থাকলেও ছবিটির খবর সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান মৃত্তিকা।

অনলাইনের প্রচারণা নিয়ে নির্মাতা বলেন, শিগগির ছবির পোস্টার, টিজার ও ট্রেলার প্রকাশ পাবে। ছবিটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মৃত্তিকা বলেন, আমি আশাবাদী, যারা সিনেমাটি দেখবেন তাদের থেকে প্রতিক্রিয়াও ভালো আসবে। কারণ ছবিটি আমি বেশ যত্ন নিয়ে নির্মাণ করেছি। রিয়েল স্পটে গিয়ে শুট করেছি। মূল গল্পে যে বারহাট্টার একশো বছরের পুরনো জঙ্গলের কথা উল্লেখ আছে সেখানে গিয়েই শুট করেছি।

স্বল্পদৈর্ঘ্যটি দেশের প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণের শিশুতোষ উপন্যাস ‘কালো মেঘের ভেলা’ থেকে চিত্রনাট্য করেছেন প্রয়াত ফারুক হোসেন। ছবির বেশিরভাগ অংশের শুটিং হয়েছে কবির গ্রাম বারহাট্টায়। এছাড়া কমলাপুর, পুবাইল, তেজগাঁও বস্তিতেও শুটিং সম্পন্ন করেছেন মৃত্তিকা গুণ। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মা ও ছেলে। যেখানে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান ও ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পিদিম থিয়েটারের আপন।