চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বড় পর্দার মানুষদের ইউটিউবে এনে ছেড়েছেন, এটা অন্যায়: পপি

সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি চিত্রনায়িকা পপ:

‘আমার দিক থেকে আগামীতেও কামুর ছবিতে অভিনয় করতে কোন আপত্তি নেই। উনি যদি সিনেমাটাই করতে চান, তাহলে সেই প্রসেসের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হবে’

দেশের তারকা অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে ‘কুলি’ ছবির মধ্য দিয়ে পা রেখেছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রে। প্রথম ছবি দিয়েই বাজিমাৎ করা এই অভিনেত্রীর দখলে আছে বেশকিছু ব্লকবাস্টার ছবি। ঈদুল ফিতরে ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে ‘জিদ্দী’ খ্যাত এই চিত্রনায়িকার অভিনীত ও কামরুজ্জামান কামু পরিচালিত ছবি ‘দি ডিরেক্টর’। যদিও এটিকে চলচ্চিত্র হিসেবে মানতে নারাজ পপি। তার দাবি, ‘দি ডিরেক্টর’-এর পরিচালক এটিকে নাটক বলেই তার সাথে মৌখিক চুক্তি করেছিলেন, এমনকি তাকে নাটকের পারিশ্রমিক-ই দেয়া হয়েছে। আর এ কারণে ছবির পরিচালকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মামলা করারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক এই ইস্যু এবং বর্তমান চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সোমবার চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন চিত্রনায়িকা পপি:

আপনি কি ‘দি ডিরেক্টর’-এর পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন?
না, এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমি নেই নি।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু একটি ভিডিওতে তো আপনি পরিচালকের নামে মামলা করার কথা বলেছেন?
হ্যাঁ বলেছি। কিন্তু মামলা করবো কিনা এই বিষয়ে এখনো কোনো ডিসিশন নেই নি। আর এটাকে আমি একটা ব্যাড ইস্যু মনে করছি, এটা নিয়ে আপাতত কোনো কথা বলতে চাইছি না। ‘দি ডিরেক্টর’-এর পরিচালক যে ক্রাইম আমার সাথে করেছেন এটা ক্ষমার অযোগ্য। একটা নরমাল নাটককে মুভি হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা করছেন। বড় পর্দার মানুষদেরকে একেবারে ইউটিউবে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন, এটা অন্যায়।

আপনাকে কী বলে তিনি কাস্ট করলেন?
আমাকে নাটকের কথা বলে নিয়েছিলেন। ইউটিউবে তিনি কি ছেড়েছেন, আল্লাহ মালুম।

আপনি কি ‘দি ডিরেক্টর’ সিনেমাটা দেখেছেন ইউটিউবে?
এটা সিনেমা নয়, এটা একটা টেলিফিল্ম।

আচ্ছা, টেলিফিল্মটি কি আপনি দেখেছেন ইউটিউবে?
না এখনো দেখার সময় হয়ে ওঠেনি। আর একটা কথা, এটা যদি বড় পর্দার জন্যই বানাতেন তিনি তাহলে সেটা তো বড় পর্দাতেই রিলিজ হতো।

কিন্তু প্রসেস তো বড় পর্দার মতো এগিয়ে নিয়ে গেছেন নির্মাতা। যতদূর জানি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছিলো এটি এবং বড় পর্দায়ও মুক্তির কথা ছিলো। কিন্তু পরিবেশক পাননি…
সেন্সর বোর্ডে ঝুলে ছিল বহুদিন। এটা যদি সিনেমা হওয়ার যোগ্য হত তাহলে সেন্সরবোর্ডে কেন ঝুলে থাকবে? তাহলে তো এটা দশ বছর ঝুলে না থেকে সিনেমা হলে মুক্তি পেত।

‘দি ডিরেক্টর’-এ মারজুক ও পপি…

‘দি ডিরেক্টর’ নিয়ে এই মুহূর্তে আপনার প্রধান অভিযোগটি কী?
‘দি ডিরেক্টর’-এ আমি টেলিফিল্ম হিসেবে কাজ করেছি। দেড় থেকে দুই দিনের মতো শুটিং ছিল আমার এবং আমাকে এটার জন্য টেলিফিল্মের রেমুনারেশন-ই দেয়া হয়েছে। যদি এটা সিনেমা করেই থাকে তাহলে ডিরেক্টর (কামু) আমার সাথে দুটি ক্রাইম করেছে। এটিকে যদি তিনি টেলিফিল্ম বলেন, তাহলে আমি আমার প্রাপ্য পেয়েছি, দ্যাটস ফাইন। কিন্তু তিনি যদি এটিকে সিনেমা বলেন, তাহলে প্রথমত তিনি আমার সাথে সত্য লুকিয়েছেন। একজন আর্টিস্টকে রীতিমত ঠকিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আমার মুভির যে রেমুনারেশন হয় সেটা আমাকে দেয়া হয়নি। যদি তিনি এটিকে সিনেমা বলেই দাবি করেন, তাহলে মুভিতে আমি যে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকি সেই পরিমাণ অর্থ যেন তিনি আমাকে ফিরিয়ে দেন বা পৌঁছে দেন।

আপনি তো বড় পর্দার নায়িকা। কামুর ‘দি ডিরেক্টর’-কে নাটক/টেলিছবি জেনেও তাহলে অভিনয় কেন করলেন?
আমাকে যারা চেনেন জানেন, তারা নিশ্চয়ই এটাও জানেন যে আমি বছরে বিভিন্ন অকেশানে কিছু স্পেশাল কাজ করি। কোনো ডিরেক্টর যদি এটা যুক্তি দেখায় তাহলে আমি বলবো, সেই ডিরেক্টর নিজে এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রুফড-ই না। আর আমি পপি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রুফড, আমার গ্রহণযোগ্যতা কী এবং এত বছর ধরে কি এমনিতেই কাজ করে আসছি! আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বড় পর্দায় কাজ করার পাশাপাশি ছোট পর্দাতেও রেগুলার কাজ করছি। দুটো মাধ্যমেই আমি সমানভাবে কাজ করে গেছি। বিশেষ করে স্পেশাল ডে’গুলোকে উপলক্ষ্য করে আমি কাজ করে থাকি। টিভির যে দর্শক তারা অনেকেই সিনেমা হলে যান না কর্মব্যস্ততার কারণে, ওই দর্শকগুলোর কথা মাথায় রেখেই আমি টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে স্পেশাল ডে’তে কাজকর্ম করি।

‘দি ডিরেক্টর’-এর পরিচালক আমার কাছে নাটকের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। তিনি আমাকে বলেছিলেন এটা একটি নাটক, দেড় থেকে দুই দিনের মধ্যে কাজ করলেই হয়ে যাবে। ওই পরিচালকের (কামু) বিভিন্ন সাক্ষাৎকার পড়লেও দেখতে পারবেন তিনি বলেছেন, এটাকে তিনি শুরু থেকে নাটক হিসেবেই কাজ করেছেন, কিছুদূর কাজ করার পর মনে হয়েছে উনার এটিকে তিনি মুভি বানাবেন! উনার খেয়ালখুশিমতো আর্টিস্টগুলোকে কিল করার চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি এমনটাই মনে করছি। কারণ ফিল্মের আলাদা একটা ভাষা থাকে, আলাদা একটা ট্র্যাক থাকে। মুভি মানে মুভিই। কিন্তু ‘দি ডিরেক্টর’ নিয়ে তো প্রচুর লোকজন প্রশংসা করছে?
তারা কারা, কী প্রশংসা করছে?

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘দি ডিরেক্টর’-এর মত ছবি আর হয় নাই, এরকম!
চিড়িয়াখানায় অপরিচিত নতুন জন্তু আসলে সবাই দেখতে যায়। কিন্তু বাঘতো বাঘ ই।

সিনেমা মুক্তির আগে বা পরে ডিরেক্টরের সাথে আপনার কথা হয়েছে?
উনার তো আমাকে মুখ দেখানোর-ই পথ নাই। কাজ করার পর উনি যে পালিয়েছেন উনার সাথে আমার কোনো কথা নাই, দেখাও নাই।

কিন্তু উনি তো বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলছেন, উনি আগামীতে সিনেমা করলে আপনাকে-ই নায়িকা হিসেবে নিবেন!
আমার দিক থেকে আগামীতেও উনার ছবিতে অভিনয় করতে কোন আপত্তি নেই। উনি যদি সিনেমাটাই করতে চান, তাহলে সেই প্রসেসের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে আগে থেকে তার স্ক্রিপ্ট শতভাগ মনযোগ দিয়ে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিব, এবং এটা যে সিনেমা সেই কন্টাক্ট ফর্ম এ সাইন করে নিশ্চিত হয় নিবো। মুভির জন্য যে রেমুনারেশন নিয়ে থাকি, সেই রেমুনারেশন নিয়েই কাজ করবো।

মানে উনার সিনেমায় কাজ করতে আপনার অনাগ্রহ নেই, তাইতো?
আমি একজন অভিনয় শিল্পী, আমার কাজ অভিনয় করা। আমার অনাগ্রহ কেন থাকবে! তবে উনাকে আগে নিশ্চিত করতে হবে যে উনি সিনেমা বানাচ্ছেন। উনাকে প্রুফ দিতে হবে যে উনি সিনেমা বানাচ্ছেন, পরে দেখা গেল উনি আবার টেলিফিল্ম বলে আবার সেটাকে সিনেমা বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। এই ভুল আমি আর দ্বিতীয়বার করতে চাই না। আসলে আমাদের এখানে সবাই আর্টিস্টদের মিস-ইউজ করেন। ডিরেক্টর, প্রযোজক মিডিয়া সকলেই। বিশ্বের সব দেশেই আর্টিস্টদের আলাদা একটা ভেল্যু’স আছে, আলাদা একটা রেস্পেক্ট আছে, আমাদের দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের আর্টিস্ট বলে সেই মূল্যায়নটা কোনোদিনই আমরা পাই না। এবং আমাদের যত সহজে মিস ইউজ করা সম্ভব পৃথিবীর আর কোথাও এত সহজে আর্টিস্টদের মিস-ইউজ করা পসিবল না।

আপনি তো মাঝখানে ওয়েব সিরিজেও কাজ করলেন? অভিজ্ঞতা কেমন?
হ্যাঁ, ‘ইন্দুবালা’ নামে একটা ওয়েব সিরিজে কাজ করেছি। খুবই দুর্দান্ত একটি কাজ, অভিজ্ঞতাও দারুণ। দর্শকের প্রচুর রেসপন্স পেয়েছি।

নতুন এই মাধ্যমে সামনে কাজের পরিকল্পনা আছে?
সামনে ভালো গল্প পেলে, ভাল বাজেটের হলে এবং ভালো মেকার হলে অবশ্যই ওয়েব সিরিজেও নিয়মিত কাজ করতে চাই।

‘ইন্দুবালা’ ওয়েব সিরিজে পপি…

চলচ্চিত্রের কী খবর?
কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা চলছে, এখনো সিওর না। সবকিছু মিলে গেলে সামনে বড় পর্দায় অভিনয় করবো। আর দুর্ভাগ্য হলেও সত্য হলো এই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের দেখানোর প্রধান মাধ্যম হচ্ছে সিনেমা হল, যা আজ বিলুপ্তির পথে। ভালো পরিবেশের জন্য হলগুলোতে দর্শক যায় না, এমন না যে বাংলাদেশের দর্শক সিনেমা দেখেন না! বাংলাদেশের দর্শকের মতো এমন উৎসুক দর্শক সম্ভবত পৃথিবীর আর কোথাও নেই, এত ক্রেজি তারা সিনেমার জন্য! ঢাকা শহরের যে কয়েকটি সিনেপ্লেক্স হয়েছে সবগুলোতেই আপনি প্রচুর দর্শক সমাগম দেখবেন, চড়া মূল্যে টিকিট কেটে তারা সিনেমা দেখছে। তাহলে কে বলছে আমাদের দর্শক নেই? একটু ভালো ছবি এবং একটু সুন্দর পরিবেশ হলেই দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়বে। বাংলা ছবি চলছে না শুধুমাত্র ভালো সিনেমা হল না থাকার কারণে, স্টাবলিশ একটা ইন্ডাস্ট্রি বিলুপ্তির পথে।

চলচ্চিত্রে সোনালী সময় ফিরবে বলে মনে করেন?
সিনেমা শিল্পে সরকার যা ইনভেস্ট করছে সেটা তো করছেই, সরকারি সহযোগিতা ছাড়াতো কিছুই সম্ভব না। তার পাশাপাশি ভালো ম্যানেজমেন্ট দরকার, ভালো নেতৃত্ব দরকার। তা না হলে ফিল্ম এর উন্নতি অদূর ভবিষ্যতে সম্ভব না। সিনেমা হলের দুরাবস্থা থাকলে ভালো প্রডিউসার ইনভেস্ট করার সাহস করবে না, কারণ মার্কেট থেকে তার তো টাকা রিটার্ন নিতে হবে!

অদূর ভবিষ্যতে আপনি কি ফিল্ম প্রডিউস করবেন?
অবশ্যই, যেহেতু আমি ইন্ডাস্ট্রি থেকেই আর্ন করেছি ফলে আমারও এক ধরনের দায় রয়েছে। সামনে হয়তো আমিও ফিল্মে ইনভেস্ট করবো।

কামুর ‘দি ডিরেক্টর’:

Bellow Post-Green View