চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বড়দিনের শিক্ষায় উদ্ভাসিত হোক বিশ্ব

নতুন নিয়মে মারিয়ামের কাছে স্বর্গদূতের অভয়বাণী উচ্চারিত হয়েছে ‘ভয় পেয়ো না, মারিয়াম! তুমি পরমেশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছ। গর্ভধারণ করে একটি পুত্রের জন্ম দেবে, তাঁর নাম রাখবে যিশু। তিনি মহান হয়ে উঠবেন, ঈশ্বরের পুত্র বলে পরিচিত হবেন’ (লুক ১: ৩০-৩২)।

আজ ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা ও উৎসব পালিত হচ্ছে। সারাবিশ্বে যিশুর জন্মদিনকে ঘিরে বড়দিনের এই উৎসব সার্বজনীন উৎসব হয়ে উঠেছে। পশ্চিমাদেশের খ্রীস্টানুসরীরা বড়দিনকে সবচেয়ে বড় উৎসবে রূপ দিয়েছেন। এই দিনে পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষের কল্যাণ কামনা করে প্রার্থনা ও নানাবিধ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

২০২০ খ্রিষ্টবর্ষ নানাভাবে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী। বছরের শুরু থেকেই করোনাভাইরাস এর সংক্রমণে গোটা বিশ্বই ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ৬ কোটিরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিদিন এর সংখ্যা বাড়ছে। আবার এ সময়ে যে ভূপ্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, সেই প্রকৃতি যেন একটু ‘শ্বাস’ নিতে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন

সকালে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় প্রার্থনায় যোগ দিতে সকাল থেকেই আসতে থাকেন খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা। জাসেন্টা গোমেজ সকাল নয়টার প্রার্থনায় যোগ দেন। তিনি বলেন: এবারের উৎসব তো আর আগের মতো না। আমার দুই ভাই মারা গেলেন করোনায়। তাঁদের জন্য প্রার্থনা করলাম। বাড়িতেও খুব বড় করে উৎসব হচ্ছে না। চার্চে এসেও দেখি আগের চেয়ে লোকজন কম। তেজগাঁও ক্যাথলিক চার্চের আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি ক্রুজ প্রার্থনা পরিচালনা করেন।

তিনি বলেন: এই মুহূর্তে সারাবিশ্ব শঙ্কিত ভীত করোনাভাইরাসের সংক্রমণে। এবারের প্রার্থনা ছিল সারা বিশ্ব এবং প্রতিটি মানুষ এই মহামারি থেকে যেন মুক্তিলাভ করে, যাতে আবার সবাই সুখে-শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারে।

করোনার কারণে এবার গির্জায় আসা সবার মুখে বাধ্যতামূলক মাস্ক ছিল। আগত মানুষের সংখ্যা অন্যবারের চেয়ে কম। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রার্থনায় যোগ দিয়েছেন অনেকে। এবার অনেকে নিজ বাড়িতে গিয়েও উৎসব পালন করতে পারেননি। প্রতিবার বড়দিনে তিনটি প্রার্থনা হয়। এবার দুটি হয়েছে। যিশুর জীবনযাপনকে অনুসরণ করে মুক্তিলাভ, অন্যায় থেকে দূরে থাকা, করোনা থেকে মুক্তিলাভ এবং দরিদ্রদের পাশে থাকাই ছিল এবারের প্রার্থনা।

মহান যিশুর কাছ থেকে আত্মত্যাগের দীক্ষা নিয়ে বড়দিন যেন বিশ্ব মানবতার মুক্তি দেখায়- আমরা আজকের দিনে সেটাই কামনা করি। আমরা আশা করি পৃথিবীর দেশে দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের ভিতর ভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠবে বড়দিনের নৈতিক শিক্ষায়। যিশুর আত্মত্যাগ মানুষকে নতুনভাবে বাঁচার জন্য প্রেরণা দিয়ে যাবে যুগে যুগে।

বিজ্ঞাপন