চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্রিটেনের কৃষি খামারে শ্রমিক সংকট

ব্রিটেনের খামারে পূর্ব ইউরোপ থেকে শ্রমিক আনছে

করোনাভাইরাসের লকডাউনের ফলে সবকিছুতে সংকট শুরু হয়েছে। ব্রিটেনে এখন নানা ফসল কাটার মৌসুম। কিন্তু দেশটির কৃষকরা পড়ে গেছেন খামার শ্রমিক সংকটে। এমতাবস্থায় রিজার্ভ বিমানে করে পূর্ব ইউরোপ থেকে খামার শ্রমিক নিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য।

এয়ার চার্টার বিমান সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে বলছে, রোমানিয়ান ১৫০ খামার শ্রমিককে নিয়ে প্রথম ফ্লাইট লন্ডন পৌঁছেছে বৃহস্পতিবার। 

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের কৃষি বিভাগ বলছে, যুক্তরাজ্যের লোকদের ফসল কাটতে সহায়তা ও উৎসাহিত করবে।

বিজ্ঞাপন

লকডাউনের কারণে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বিরাজ করছে। যুক্তরাজ্যেও একই অবস্থা। ব্রিটিশ কৃষকরা সম্প্রতি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, পূর্ব ইউরোপ থেকে মৌসুমী শ্রমিকদের আনা যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে ফসলের ক্ষেতে ফল পচে যেতে পারে। লক্ষ লক্ষ টন ফল ও শাকসবজি যেন নষ্ট না হয় তার জন্য স্থানীয় শ্রমিকদের ফসলে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়ে যুক্তরাজ্যের অনেক কৃষক নিয়োগ অভিযানও শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে খামারে শ্রমিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে না।
সেই সংকট পূরণের জন্যই মূলত পূর্ব ইউরোপীয়ান শ্রমিকদের নিয়ে আসার ব্যবস্থা বলছিলেন কেমব্রিজশাার ভিত্তিক যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম তাজা খাদ্য উৎপাদক জি ফ্রেশ। ছয়টি ফ্লাইটের মধ্যে দুটি ভাড়া করা বিমান এসেছে রোমানিয়ার শ্রমিকদের নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

জি এর ফ্রেশস স্যান্ডফিল্ড ফার্মস বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেরেক উইলকিনসন বিবিসিকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার পূর্ব রোমানিয়া থেকে ১৫০ শ্রমিকরা লন্ডনের স্ট্যানসেটড বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। তাদেরকে বাসে করে পূর্ব আঙ্গলিয়ার খামারে কপি কাটতে  নিয়ে যাওয়া হবে।

সংস্থাটি বলছে, শ্রমিকদেরকে যথাযথ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে কাজে নিযুক্ত করা হবে।

উইলকিনসন আরো বলেন, তার খামারে ৩ হাজার মৌসুমী শ্রমিক দরকার। মূলত বসন্তের পেঁয়াজ তুলতে মে মাসে বেশি প্রয়োজন। আর প্রয়োজন জুনে মটর ও শিম তুলতে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, স্থানীয় শ্রমিকদের মাঝে নিয়োগ প্রচারের পর অনেক সাড়া পড়ে। ৫০০ জন ব্রিটিশ শ্রমিক এতে নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু তা দিয়ে হবে না। তাই পূর্ব ইউরোপের শ্রমিকদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইটালি, স্পেন, ফ্রান্সের পর বিশ্বের সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত দেশ এখন যুক্তরাজ্য। করোনা মোকাবিলায় গতকাল আরো ৩ সপ্তাহ লকডাউন ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।