চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্যাটে-বলে অনন্য মেহেদী ঢাকার নায়ক

প্রথমে বলে তোপ দাগলেন, পরে ব্যাটে ঝড়, মেহেদী হাসানের অলরাউন্ড রুদ্রমূর্তির দিনে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা প্লাটুন। মাশরাফীর দলের জয়টি ৫ উইকেটে।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরুতে ব্যাট করে ভানুকা রাজাপাক্সের অপরাজিত ৯৬ রানে নির্ধারিত ওভারে ৩ উইকেটে ১৬০ পর্যন্ত যায় কুমিল্লা। জবাব দিতে নেমে ১ বল আর ৫ উইকেট অক্ষত রেখে জয়ে নোঙর ফেলে ঢাকা।

মেহেদী অফস্পিনে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। পরে ২ চার ও ৭ ছক্কায় ২৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন। রবিউল ইসলাম রবির করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারে টানা ৪ ছক্কার পর একটি চারে ২৮ রান নেন এ ডানহাতি। ওভারের শেষ বলে কোনো রান নিতে পারেননি।

ম্যাচজুড়েই মেহেদী এমনভাবে আলোর নিচে ছিলেন। মাশরাফীর সাথে ইনিংসের ওপেনিং স্পেলে বল করতে এসে রান আটকানোর পাশাপাশি উইকেট তুলতে থাকেন। সৌম্য সরকারকে ১০ ও সাব্বির রহমানকে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে পাঠান।

নিয়েছিলেন দারুণ এক ক্যাচ। যাতে ২১ রানে থাকার সময় সাজঘরে ফিরে যেতে হয়েছিল কুমিল্লার ওপেনার রাজাপাক্সেকে। হয়েছিল বলতে হচ্ছে কারণ তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনা হয় ওয়াহাব রিয়াজের ওই বলটি তৃতীয় আম্পায়ার নো ঘোষণা করায়।

সেই রাজাপাক্সে শেষপর্যন্ত ৯৬ রানে অপরাজিত। ৪ চার ও ৭ ছক্কায় ৬৫ বলের সাজানো ইনিংস। ইয়াসির আলিকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ১০৩ রানের জুটিতে ম্যাচের ভোলই পাল্টে দেন। ইয়াসির ২৭ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।

বিজ্ঞাপন

জবাব দিতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই এনামুল হক বিজয় ফিরলে ঢাকাকে শক্ত ভিত দিয়ে যান মেহেদী। তামিম ইকবালকে নিয়ে যোগ করেন ৫৩ বলে ৮৩ রান। যার ৫০-ই মেহেদীর। ২০৩ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি খেলে তিনি ফেরার পরপরই অবশ্য পথ হারায় দল।

পরপর দু-বলে আসিফ আলি ও জাকের আলিকে সাজঘরে পাঠিয়ে বড়সড় ধাক্কা দেন মুজিব-উর রহমান।

যাতে দেয়াল হওয়ার চেষ্টা করা তামিমকে ফিরিয়ে বিপদ বাড়ান সৌম্য। চোট কাটিয়ে ফেরা তামিম ৪ চারে ৪০ বলে ৩৪ রানের টি-টুয়েন্টির সঙ্গে বেমানান এক ইনিংস খেলে যান।

পরের লড়াইটুকু মুমিনুলের। সঙ্গী শহিদ আফ্রিদি। এ পাকিস্তানি আবারও হতাশ করার অবস্থা বানিয়েছিলেন, ৬ বলে ৭ রানেই শেষ হতে পারত তার অবদান। মুজিবের বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। দলের দরকার তখন ১৭ বলে ২৬!

মুমিনুল তখনও ছিলেন। আফ্রিদিকে সঙ্গী করে জয়ে পৌঁছেন মাঠ ছাড়েন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৮ রান। প্রথম বলে এক নিয়ে আফ্রিদিকে স্ট্রাইক দেন মুমিনুল। দ্বিতীয় বল ডটের পর তৃতীয়টিতে ছক্কা হাঁকিয়ে সব হিসাব দফারফা করে দেন আফ্রিদি।

৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জয়ে নোঙর করা জুটির শেষে মুমিনুল ২৬ বলে ২৮, আর আফ্রিদি এক চার ২ ছক্কায় ১৬ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

বিজ্ঞাপন