চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্যাটিং, ফিটনেস নিয়ে তামিমের সন্তুষ্টি

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলনের তৃতীয় ধাপে যোগ দিয়েছেন তামিম ইকবাল। প্রায় পাঁচ মাসের করোনা বিরতি কাটিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক রোববার সকালে আসেন শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। টানা দুইদিন ব্যাটিং ও ফিটনেস সেশন করে টাইগার ওপেনার জানালেন, সবই মোটামুটি ঠিক আছে তার।

সোমবার দুপুরে অনুশীলন সেরে ভিডিও বার্তায় তামিম বললেন, ‘আসলে অনেকদিন পর অনুশীলন শুরু করলাম, প্রায় ৪-৫ মাস পর। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে যতটা হতাশার হবে মনে করছিলাম, আশ্চর্যজনকভাবে অতটা খারাপ মনে হয়নি আমার কাছে। ব্যাটিংটা মোটামুটি ঠিকই আছে। ফিটনেসের দিক থেকেও মোটামুটি ভালো আছে। কিন্তু ট্রেডমিল বলেন, বাসায় যত অ্যাক্টিভিটিজ করি, তার চাইতে রোদে বা মাঠে করাটা ভিন্ন ব্যাপার। মানিয়ে নিতে হয়তো আরও সপ্তাহ খানেক লাগবে।’

বিজ্ঞাপন

‘যেভাবে নিয়ম মেনে সবকিছু করছি আমার কাছে খুবই ইতিবাচক লাগছে। আশা করি এভাবে এগোতে থাকবো। সাথে আমাদের যেহেতু একটা তারিখ আছে (শ্রীলঙ্কা সফরের সূচি), আমরা জানি আমাদের খেলা কখন শুরু হবে, সবাই সবার মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে সেরাটার জন্য।’

বিজ্ঞাপন

কিছুদিন আগে লন্ডনে চিকিৎসা নিতে যাওয়া তামিমের পেটের ব্যথা থেকে মুক্তি ওষুধ সেবনেই সম্ভব। অস্ত্রোপচার করার মতো জটিল কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি স্ক্যানে। খেলায় ফিরতেও সমস্যা হবে না তার। তাইতো শুরু করে দিয়েছেন মাঠের অনুশীলন।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের কারণে অন্য ক্রিকেটারদের মতোই দীর্ঘদিন ঘরবন্দি কাটিয়েছেন তামিম। তার পরিবারের অনেকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। সময়টা অতিবাহিত করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল সেটিও জানান।

‘এই তিন-চার মাস অনেক কঠিন ছিল। হয়তবা আমরা বাসায় ছিলাম, পরিবারের সাথে ছিলাম, মানসিক একটা চাপের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। বাসা থেকে বের হতে পারছিলাম না। নরমালি একটা ট্যুর থেকে এসে ৭-৮ দিনের একটা ছুটি পাই। আমরা অনেক জায়গায় যেতে পারি বা কিছু করতে পারি। এই চার মাস স্বাস্থ্য ইস্যুতে চিন্তিত ছিল পরিবারের সদস্যরা। এই চার মাস অনেক কঠিন ছিল। এখন ফাইনালি যে জিনিসটা আমরা পছন্দ করি, খেলাধুলা, সেটা শুরু হয়েছে। যেটা অনেক ভালো ব্যাপার।’

‘এই চার মাসে বিসিবিও আমাদের কিছু সেশন (অনলাইনে) ঠিক করে দিয়েছিল। মানসিকভাবে যেন আমরা ভালো অবস্থায় থাকি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও দুই-তিনটা সেশন করেছি। এসব আমাকে ভালো সাহায্য করেছে।’

‘কিন্তু যেটা বলেছি, এই চার মাস কোনভাবেই সহজ ছিল না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে এখান থেকে বের হয়ে এসে যত তাড়াতাড়ি আমরা মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় এসে যাই। কারণ আমাদের একটা বড় সফর আসছে সামনে। বিশ্বাস করি যে আমাদের ভালো সুযোগ আছে।’

লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ১ আগস্ট দেশে ফেরেন তামিম। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর ফিরলেন মাঠে। সব ঠিক থাকলে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা যাবে বাংলাদেশ। মুমিনুল-মুশফিক-তামিমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন অক্টোবরে।