চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বৈশ্বিক সক্ষমতা সূচকে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতা

বৈশ্বিক সক্ষমতা প্রতিযোগিতায় আরও দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে বিশ্বের ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১০৩ এ।

এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গ্লোবাল কমপিটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯ এবং বাংলাদেশ বিজনেস এনভায়রনমেন্ট স্টাডিজ ২০১৯’ শীর্ষক গবেষণাপত্র প্রকাশ করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১২টি পিলারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের ১৪১টি দেশে বুধবার এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ১২টি সূচকের মধ্যে ৭টিতেই খারাপ করেছে। উন্নতি হয়েছে শুধু স্বাস্থ্য ও পণ্যবাজারে। তবে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে শ্রমবাজার ও ব্যবসা বৈচিত্র্যে।

সিপিডি মনে করে, অদক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের অভাব, ব্যাপকহারে দুর্নীতির প্রসার এবং আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতায় এই সূচকে পিছিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, দেশে পাবলিক কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ঘুষ দিতে হয়। আমদানি-রপ্তানিতে ৭৪ শতাংশ এবং কর পরিশোধে আরো ৭৪ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ঘুষ দিতে হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে দিয়ে এ তালিকায় শীর্ষে ওঠে এসেছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ১০ ধাপ এগিয়ে ৬৭তম, আর প্রতিবেশী ভারত ১০ ধাপ পিছিয়ে ৫৮ থেকে ৬৮তম।

বিজ্ঞাপন

সিপিডি বলছে, সূচকে উন্নতি করতে হলে শ্রমশক্তির দক্ষতা বাড়ানো ও সুশাসনে গুরুত্ব দিতে হবে বাংলাদেশকে।

অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আটকে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতা। এছাড়া দুর্নীতির প্রসার জাতীয় জিডিপি প্রবিদ্ধিকে ব্যাহত করছে।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশের বেকারত্ব সমস্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে না পারলে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন পূরণ নাও হতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে নীতিগত অনেক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈশ্বিক উন্নয়নের সাথে তাল মিলাতে হলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সে অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার।

তিনি আরো জানান, অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি না হলে মনোপলি বা একচেটিয়া ধারা অব্যাহত থাকে। এর মাধ্যমে ব্যবসা পুঞ্জিভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই জায়গাতে গুরুত্ব দিয়ে শক্তিশালী মনিটরিংয়ের আহ্বান জানান ফাহমিদা খাতুন।

চলমান শুদ্ধি অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ফাহমিদা খাতুন জানান, যেকোনো ধরনের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ দুর্নীতির কারণে এক শ্রেণির মানুষ বেশি উপকৃত হয় এবং কিছু শ্রেণির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মাধ্যমে বৈষম্য বৃদ্ধি ঘটে। শুধু তাই নয় জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ব্যঘাত সৃষ্টি করে দুর্নীতি।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাতীয় স্বার্থ সাপেক্ষে এরকম অভিযান উন্নত দেশগুলোর মতো চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত।

Bellow Post-Green View