চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বৈরুত বিস্ফোরণ: ধ্বংসাবশেষে প্রাণের আশা নিভছে

বৈরুত ধ্বংসাবশেষের মধ্যে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে বলে যে আশার দেখা দিয়েছিলো তা ক্রমশ মলিন হয়ে যাচ্ছে। দুই দিনের খোঁজাখুঁজির পর এই আশার আলো নিভছে।

সেন্সর সরঞ্জাম দিয়ে জীবনের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করার পরে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসাবশেষে অনুসন্ধান করতে শুরু করে। কিন্তু চিলির উদ্ধারকারীরা কোনও ফলাফল ছাড়াই অনুসন্ধানের দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার আন্তজার্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে এক উদ্ধারকর্মী জানান: স্ক্যানিং মেশিনের সাহায্যে প্রাণের স্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে। জিমায়েজ এলাকায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তুপে এই প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সেটি শিশু।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাতে উদ্ধারকারীরা ওই অঞ্চল দিয়ে যখন হেঁটে যাচ্ছিল তখন তাদের লাশ সন্ধানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্নিফার কুকুর একটি সংকেত দিয়েছিল যে সেখানে একজন ব্যক্তি রয়েছেন। বৃহস্পতিবারও কুকুরটি একই জায়গায় গিয়ে একই চিহ্ন দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞ সেন্সর সরঞ্জামগুলো পরে ওই এলাকায় একটি পালসিং সিগন্যাল শনাক্ত করে।

চিলির উদ্ধারকারী দলের প্রধান ফ্রান্সিসকো লারমান্ডা শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান: ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) গভীরতার মধ্যে ধ্বংসস্তুপের নিচে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান: উদ্ধারকর্মীরা যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস শনাক্ত করেছেন, সেখানে পৌঁছানোর জন্য তিনটি সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছে। তবে জীবিত বা ‍মৃত আছে কিনা তা এখনই জানা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শুক্রবার উদ্ধার কো-অর্ডিনেটর নিকোলাস সাদ এএফপিকে বলেন: আগের দিন থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তবে কোনো লাশ পাওয়া গেলেও নিখোঁজদের পরিবার শান্তি পেত বলে অভিমত অনেকের।

চিলির দলটি কোনও জীবিত মানুষ বা লাশ শনাক্ত না করে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের অনুসন্ধান স্থগিত করে। তারা বলেছিল সকালে আবার অনুসন্ধান শুরু করবে। তবে লেবাননের একটি দল উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে সেখানকার সাংবাদিকরা।

শুক্রবার বৈরুত বিস্ফোরণের এক মাস পূর্ণ হওয়ায় এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলো প্রায় ২০০ জন। আহত হয় আরও হাজার হাজার মানুষ।

২৭৫০ টনের অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। আবাসিক অঞ্চলের কাছাকাছি শহরের বন্দরের একটি গুদামে এত বিপজ্জনক উপাদান অনিরাপদভাবে সংরক্ষণ করায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

দুর্ঘটনার ১ মাস পরে এখনও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।