চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বোমা পুঁতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা: ১০ আসামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল

দুই দশক আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

এছাড়াও বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া একজনের সাজা বহাল রাখার পাশাপাশি ১৪ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সারোয়ার হোসেন মিয়াকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান খান শাহিন, মোহাম্মদ শাহিন আহমেদ, মো: সাফায়েত জামিল, মো: আশিকুজ্জামান বাবু, সাদিয়া সুলতানা রত্না।

আসামীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ আহসান, মো: নাসিরউদ্দিন। এছাড়া পলাতক আসামীর পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন আমূল্য কুমার সরকার।

২০০০ সালের ২১ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজের মাঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশ থেকে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বোমা উদ্ধার হওয়ার পরদিন ওই স্থানেই শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। সেই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক নূর হোসেন বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পরে মামলা করেন।

ওই মামলার তদন্ত শেষে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এরপর গোপালগঞ্জের আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার বিচার শেষে হরকাতুল জিহাদের ১০ নেতাকর্মীর ফাঁসি, একজনের যাবজ্জীবন ও তিনজনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসাহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে ওমর। রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী খানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।

আসামী আনিসুল ইসলাম, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও সারোয়ার হোসেন মিয়াকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়।

বিচারিক আদালতের ওই রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী আসামীদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল আসামীদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়।

এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্ট এই মামলার রায়ের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারী দিন নির্ধারণ করেন।