চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বেসরকারি হাসপাতালের মাত্রাতিরিক্ত ফি’র অভিযোগ দুদককে নিষ্পত্তির নির্দেশ

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায়ের বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করতে পারবেন এবং সেই অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য সেবার নানা অসংগতি তুলে ধরে করা কয়েকটি রিটের ওপর দেয়া আদেশের ধারাবাহিকতায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া আজ আদালত তার আদেশে চিকিৎসা না দিয়ে রোগী ফেরত বিষয়ক অভিযোগ তদন্ত করে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা যাতে চিকিৎসা-সম্পর্কিত অভিযোগ অনলাইনের মাধ্যমে জানাতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া আজকের আদেশে আদালত অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে হাইকোর্ট তার আদেশে বলেছেন, ক্যানসার ও কিডনি সমস্যার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ৩৬/৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট সরবরাহ করতে হবে।

আজ রিটের পক্ষে ভার্চুয়াল শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান, ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বিজ্ঞাপন

এর আগে স্বাস্থ্য সেবার নানা অসংগতি তুলে ধরে করা রিটগুলোর শুনানি নিয়ে গত ১৫ জুন ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে আদেশ দেন হাইকোর্ট। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সে আদেশ স্থাগিত চাইলে গত ১৬ জুন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেয়া ১১টি নির্দেশনার মধ্যে ৩টি বহাল রেখে ৮টি নির্দেশনা স্থগিত করেন। হাইকোর্টের দেয়া যে আদেশগুলো বহাল থাকে সেগুলো হচ্ছে: –

১) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক (সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় গত ১১ মে জারীকৃত দুটি নির্দেশনা এবং ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যা বিশিষ্ট সরকারি-বেসরকারি হাসপতালে কোভিড ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার গত ২৪ মে জারীকৃত আরেকটি নির্দেশনা) যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ৩০ জুনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ।

২) আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ রােগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ যাতে মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় না করতে পারে সে বিষয়ে মনিটরিং এর ব্যবস্থা করার নির্দেশ।

৩) অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এবং রিফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ। এছাড়া খুচরা বিক্রেতাদের সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য প্রতিষ্ঠান বা দোকানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃত্রিম সংকটরােধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এবং রোগীর পরিচয়পত্র ব্যতিত অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রয় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে। আর অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থা মনিটরিং জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হল।

আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে বহাল থাকা হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী গত ৩০ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে বলা হয়, ‘রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান নিশ্চিত না করার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

এরপর এই প্রতিবেদন এবং পৃথক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ হাইকোর্ট নির্দেশনাসহ আদেশ দিলেন।