চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বেলারুশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাষ্ট্রীয় টিভির কর্মীরাও

বেলারুশে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে এবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের কর্মীরাও অংশ নিয়েছেন।

বিবিসি জানায়, সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের কর্মীরা তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। এসময় অফিসের ডেস্কগুলো ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও এদিন প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো মিনস্কের একটা ট্র্যাক্টর কারখানায় পরিদর্শনে গেলে সেখানকার কর্মীরা তার বক্তৃতা শুনে আরও ক্ষুব্ধ হয়।

প্রেসিডেন্ট কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা সঠিক নির্বাচন করেছি। যতক্ষণ না আমাকে হত্যা করবেন, ততক্ষণ আর কোনো নির্বাচন হবে না‘। এতে কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিরোধী দলের প্রার্থী সভেতলানা তিখানভস্কায়া অন্তর্বর্তী সময় দেশের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

কয়েকদিন ধরে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার জনতা। প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ উঠায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বেলারুশের রাজধানী মিনস্ক।

এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষের এক সমাবেশে বক্তৃতা করার সময় লুকাশেঙ্কো বিরোধীদের ‘ইঁদুর’ নামে আখ্যায়িত করেন। সমর্থকদের

বিজ্ঞাপন

সেসময় দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তৃতায় আরও ক্ষুব্ধ হয় বিক্ষোভকারীরা।

গত ৯ আগস্ট বেলারুশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন লুকাশেঙ্কো। ওই নির্বাচনেই ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠে।

দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতাসীন আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো এ নির্বাচনে ৮০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। আর বিরোধীদলের প্রধান প্রার্থী সভেতলানা তিখানভস্কায়া পেয়েছেন ১০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর সভেতলানা কারচুপির অভিযোগ করেন। তার দাবি, যেখানে ভোট গণনা করা হয়েছিল সেখানে তিনি নিজের পক্ষে ৬০ থেকে ৭০ পর্যন্ত সমর্থন পেয়েছিলেন।

এরপরই শুরু হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। সেখানেও পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় ফুঁসে উঠে বিক্ষোভকারীরা।

বিবিসি জানায়, দেশটিতে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ জন সরকার বিরোধীকে আটক করা হয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পরে আটককৃতদের ছেড়ে দিলেও বিক্ষোভ আর বন্ধ হয়নি। বরং ক্রমাগত বাড়ছে।