চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বেগম রোকেয়া: আলো হাতে আঁধারের যাত্রী

বাঙ্গালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মদিন। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন জন্মগ্রহণ করেন ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে। তিনি ছিলেন একজন বাঙালি চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। তিনি বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপে ষষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর বাঙ্গালি মুসলিম নারী সমাজে তিনি অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তুলে এনেছেন নারীর প্রতি সামজিক ধর্মীয় বৈষম্যের কথা। তিনি তার লেখায় নারীদের পিছিয়ে রাখার জন্য দায়ী সমাজব্যবস্থার প্রবল সমালোচনা করেছেন।
ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ও শ্লে­ষাত্মক রচনায় রোকেয়ার স্টাইল ছিল স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। উদ্ভাবনা, যুক্তিবাদিতা এবং কৌতুকপ্রিয়তা তাঁর রচনার সহজাত বৈশিষ্ট্য। তাঁর প্রবন্ধের বিষয় ছিল ব্যাপক ও বিস্তৃত। তিনি তার লেখনি দিয়ে আঘাত হেনেছেন নারীর প্রতি পুরুষের বিদ্বেষভরা নানান সামাজিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে। তিনি শুধু লেখেই ক্ষান্ত হননি। নিজে গড়ে তুলেছেন সামাজিক আন্দোলন।
মতিচূর প্রবন্ধগ্রন্থে রোকেয়া নারী-পুরুষের সমকক্ষতার যুক্তি দিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় আহ্বান জানিয়েছেন এবং শিক্ষার অভাবকে নারীপশ্চাৎপদতার কারণ বলেছেন।
তাঁর সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫) নারীবাদী ইউরোপিয়ান সাহিত্যের ক্লাসিক নিদর্শন বলে বিবেচিত। পদ্মরাগ (১৯২৪) তাঁর রচিত আরেকটি উপন্যাস। অবরোধবাসিনীতে (১৯৩১) তিনি পর্দাপ্রথাকে বিদ্রূপবাণে জর্জরিত করেছেন।
বেগম রোকেয়ার কর্ম ও আদর্শ উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস উদযাপন করে এবং বিশিষ্ট নারীদের অনন্য অর্জনের জন্য বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করে। আজ রোকেয়া দিবসে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন: আমরা যখন বাংলাদেশের নারীদের দিকে তাকাই, তখন মনে হয় বেগম রোকেয়ার আহ্বান বৃথা যায়নি। আমরা বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বৃথা যেতে দেইনি এবং দেব না। এবার বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- জিনাতুন নেসা তালুকদার, প্রফেসর জোহরা আনিস, শীলা রায়, রমা চৌধুরী (মরণোত্তর), রোকেয়া বেগম (মরণোত্তর)।
মহিয়সী বাঙ্গালি নারী জাগরণের অগদূত বেগম রোকেয়াকে তার জন্মদিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে বাঙালি নারীকে সকল বৈষম্য বঞ্চনা থেকে মুক্তি দিতে পারলেই তার যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারব।