চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিয়ের আসরে কনের বাবাকে হত্যা: এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে

বিয়ের আসরে কনের বাবাকে হত্যা করা সজীব প্রায় দুই বছর ধরেই স্বপ্নাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত মার্চে সজীবের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বপ্নার বাবা তুলা মিয়া। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে একমাস কারাগারেও ছিল সজীব আহমেদ রকি।

জেল থেকে বেরিয়ে আবারও স্বপ্নাকে উত্ত্যক্ত করত সজীব। কিন্তু স্বপ্নাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার বিষয়টি মানতে পারেনি সে। যার ফলে বিয়ের দিন অতর্কিত হামলা চালিয়ে স্বপ্নার বাবা-মাকে ছুরিকাঘাত করে সজীব

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারের দিলু রোডে প্রিয়াংকা হাউজিংয়ের পাশে মেয়ে স্বপ্নার বিয়ের আয়োজন করেন তুলা মিয়া।

বিয়ের আয়োজন চলাকালীন ওই বাড়িতে ঢুকে তুলা মিয়া ও তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে ছুরিকাঘাত করে সজীব। এ সময় উপস্থিত জনতা  রকিকে (২৩) গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

ছুরিকাঘাতে তুলা মিয়া নিহত হয়েছেন এবং ফিরোজা বেগম আহত অবস্থায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত তুলা মিয়ার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রিয়াংকা হাউজিংয়ের পাশের টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

বিজ্ঞাপন

ঘাতক রকির বাবার নাম আব্দুল বারেক। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার পাঁচগাছিয়া গ্রামে। সে দিলু রোডের বাটার গলির একটি মেসে থাকতো এবং একটি গ্যারেজে কাজ করতো।

ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আটক সজীব তুলা মিয়ার মেয়ে স্বপ্নাকে গত ২ বছর ধরেই বিরক্ত করে আসছিলো। এ বিষয়ে গত মার্চে রকির বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারায় একটি মামলা (নং-০৮) দায়ের করেন। এ মামলায় রকি গ্রেপ্তার হয়ে একমাস জেলও খাটে।

এর জের ধরে বৃহস্পতিবার স্বপ্নার বিয়ে চলকালীন সময়ে বিয়ের আসরে উপস্থিত হয়ে তার বাবা ও মাকে ছুরিকাঘাত করে রকি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ১টার দিকে ওই কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় কনেকে সাজানো হচ্ছিল। সে সময় রকি ভবনটিতে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকেই সে তুলা মিয়াকে দেখতে পায়। তুলা মিয়া তখন সজীবকে এখানে আসার কারণ জানতে চান। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ের তুলা মিয়াকে সজীব তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তার চিৎকারে ফিরোজা এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে।

ঘটনার সময় কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় কনে স্বপ্নাকে সাজানো হচ্ছিলো। বাইরে চিৎকার শুনে স্বপ্না ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেন। পরে দরজা খুলে আহত বাবা-মাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেন স্বপ্না।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনিসুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো রকি। ঘটনাস্থল থেকেই সজীবকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।