চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিস্তর অভিযোগ ভোক্তা অধিদপ্তরে, মিলছে সমাধানও

বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য ও ওষুধ বিক্রি, নির্ধারিত দামের চেয়ে ভোক্তার কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কম দেয়া ও খাদ্যে ভেজাল মেশানোসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। গত সাত বছরে এসব অভিযোগ বেড়েছে ১১১ গুণ। আর এক বছরের ব্যবধানেই অভিযোগ বেড়েছে ৫ গুণ। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ভোক্তাদের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য সভা-সমাবেশ, কারখানা পরিদর্শন, সেমিনার, লিফলেট, প্যাম্পলেট, পোস্টার ইত্যাদি বিতরণসহ নানা উদ্যোগের ফলে প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে কয়েকগুন। অপরাধীদের জরিমানার আওতায় এনে এসব অভিযোগের প্রায় শতভাগই নিস্পত্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ডিএনসিআরপি।

অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এসব লেখা না থাকা, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেয়া, ভেজাল বা মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত পণ্য বিক্রয় করা, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাসময়ে সরবরাহ না করা, ওজনে বা পরিমাপে কম দেওয়া, পণ্যের নকল উৎপাদনসহ বিভিন্ন অনিয়ম।

২০১০ সালে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম চালু হয়। ওই বছর মাত্র ৭৩টি অভিযোগ করেছিল ভোক্তারা। আর চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে অভিযোগ জমা পড়েছে ৮ হাজার ৮৫টি। অর্থাৎ ৮ বছরে অভিযোগের হার বেড়েছে ১১১ গুণ। অথচ ২০১৬ সালে অভিযোগ ছিল ১ হাজার ৬২২টি। তার আগের বছর ২০১৫ সালে ছিল মাত্র ২২৫টি অভিযোগ। যাচাই-বাছাই করে এসব অভিযোগের শতভাগই নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

ছবি: ভোক্তা অধিদপ্তরের ফেজবুক থেকে নেয়া

এছাড়া কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৭৫ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তদারকি কার্যক্রম চালিয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩৩ হাজার ২২৮টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা আদায়ের পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী ২ হাজার ৪৭৪ জন অভিযোগকারীকে ২৫ শতাংশ হিসেবে ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৫ টাকা প্রদান করা হয়। অবশিষ্ট ২২ কোটি ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৫৩৪ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বারবার জরিমানা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ গ্রহণ ও নিস্পতি করা হলেও খাতভিত্তিক অভিযোগের কোনো পরিসংখ্যান নেই ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও যুগ্মসচিব সৈয়দ তওহিদুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ভোক্তাদের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য শুরু থেকেই সভা-সমাবেশ, ফ্যাক্টরি ভিজিটসহ নানা উদ্যোগ নেয়া অব্যাহত রয়েছে। দৈনন্দিন কার্যক্রমের তালিকা ফেইস-বুকে প্রকাশ ও প্রতিদিন প্রেস রিলিজ জারী করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ৩ সপ্তাহে ৬টি বড় খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় পরিদর্শন করে বিক্রয়যোগ্য পণ্যে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কর্মকান্ডের প্রমাণ পাওয়ায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ভোক্তা অধিদপ্তরের এসব অভিযানের সুফল অচিরেই সাধারণ জনগণ পাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অধদপ্তরের এই পরিচালক।

ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় সরকার ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ চালু করে। আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ভোক্তা অধিকারবিরোধী কোনো কাজ সংঘটিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (১ কারওয়ান বাজার) অথবা প্রতিটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বরাবর অভিযোগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ছবি: ভোক্তা অধিদপ্তরের ফেজবুক থেকে নেয়া

যেভাবে অভিযোগ করবেন:

অভিযোগ অবশ্যই লিখিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস), ফ্যাক্স, ই-মেইল বা অন্য কোনো উপায়ে অভিযোগকারীর পূর্ণাঙ্গ নাম, বাবা ও মায়ের নাম, ঠিকানা, ফোন, ই-মেইল, ফ্যাক্স (যদি থাকে) এবং পেশা উল্লেখ করে আবেদন করা যাবে।

এ জন্য কোনো ধরনের ফি দিতে হবে না। তবে কেনাকাটার প্রমাণ হিসেবে অভিযোগকারীর কাছে দোকানের রসিদ থাকতে হবে। ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ বা নকল পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ক্ষেত্রে পণ্যের নমুনাও দিতে হবে।

কোনো ভোক্তার দায়ের করা অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযুক্ত বিক্রেতাকে যে পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়, তার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়।

দেশের বিভিন্ন অভিযোগ কেন্দ্রসমূহ:

ঢাকা: জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র, টিসিবি ভবন-৯ম তলা, ১ কারওয়ান বাজার। ফোন: +৮৮০২ ৮১৮৯৪২৫, ০১৭৭৭ ৭৫৩৬৬৮, ই-মেইল: [email protected]

চট্টগ্রাম: টিসিবি ভবন, বন্দরটিলা। ফোন: ০৩১-৭৪১২১২

রাজশাহী: শ্রীরামপুর, রাজশাহী। ফোন: +৮৮০৭ ২১৭৭২৭৭৪

খুলনা: টিসিবি ভবন, শিববাড়ী মোড়। ফোন: ০৪১-৭২২৩১১

বরিশাল: মহিলা ক্লাব ভবন। ফোন: +৮৮০৪ ৩১৬২০৪২

সিলেট: বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। ফোন: ০৮২১-৮৪০৮৮৪

রংপুর: নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া। ফোন: ০৫২১-৫৫৬৯১

বিজ্ঞাপন