চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিসিবির নির্দেশনা না থাকায় লেগ স্পিনে অনাগ্রহ!

সবশেষ আসরে আট দলের চারটিতে খেলেছেন একজন করে লেগ স্পিনার। সংখ্যাটা অর্ধেক হয়ে এবার দুইয়ে নেমেছে। তাদের মধ্যে একজনের একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে আছে ঘোর অনিশ্চয়তা। জাতীয় লিগের ম্যাচে ‘লেগ স্পিনার খেলাতেই হবে’ ক্রিকেট বোর্ড থেকে এমন নির্দেশনা এবার না থাকায় বঞ্চিত হচ্ছেন জুবায়ের হোসেন লিখন, মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদিরা।

জুবায়ের ঢাকা বিভাগ ও মিনহাজুল চট্টগ্রাম বিভাগকে গতবার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবার তারা স্কোয়াডেই নেই! ঢাকা মেট্রোর আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রংপুর বিভাগে রিশাদ হোসেন থাকলেও দুইজনের মধ্যে খেলার সম্ভাবনা আছে কেবল একজনের।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে বিসিবি থেকে বিশেষ নির্দেশনা না এলে আমিনুলকে খেলাবে না মেট্রো। তেমনটা হলে জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডে আট দলে দেখা যেতে পারে মাত্র এক লেগিকে।

সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২২তম আয়োজন। দীর্ঘ করোনাভাইরাসের বিরতি কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরছে ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত আসর। এটিই একমাত্র টুর্নামেন্ট যেখানে মাঠের প্রতিযোগিতার বাইরেও ম্যাচ খেলিয়ে কিছু খেলোয়াড়কে টেস্টের জন্য তৈরি বা পরখ করার সুযোগ পান নিবার্চকরা। কিন্তু সেটির সুযোগ এবার খুব সীমিত।

লেগ স্পিনে আশার আলো জ্বেলে হুট করেই থমকে গেছেন জুবায়ের

বর্তমানে পাইপলাইনে থাকা চার লেগির মধ্যে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে কেবল জুবায়েরের। প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে খেলায়ও বেশ অভিজ্ঞ। ৬ টেস্টে ১৬ উইকেট। আর ২৪টি ফার্স্ট ক্লাসে ৬৭ উইকেট। লাল বলের ক্রিকেটে এ পর্যন্ত ৮৩ উইকেট শিকারি জায়গা পাননি মূল দলে। অথচ ১৪ জনের মধ্যে আছেন তিনজন বাঁহাতি স্পিনার। তাদের একজন শাহবাজ চৌহান, যার প্রথম শ্রেনির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা একদমই নেই।

১৮ জনের স্কোয়াডে থেকে ফতুল্লায় দলীয় অনুশীলনে জুবায়ের নাকি ঢাকা বিভাগের নতুন কোচ দীপু রায় চৌধুরীকে মুগ্ধ করেছিলেন। অথচ দুই দিন পর তিনিই সংবাদমাধ্যমে বললেন ভিন্ন কথা।

‘লিখন খুব ভালো শেপে ছিল না, এজন্য প্রথম ম্যাচের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। নেটে এসেছিল, বোলিং করেছে। তবে এখনও মনে হয় ভালো শেপে আসেনি। লেগ স্পিনারদের অনেক বোলিং করতে হয়।’

অথচ জুবায়ের এই প্রতিবেদককে বললেন, ‘কোচ নেটে আমার বোলিং দেখে বলছিলেন, দুর্দান্ত। তোরই ম্যাচ জেতাতে হবে। প্রচুর বল করতে হবে।’ তার কথায় অনেকটা নিশ্চিত ছিলাম প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলছি। নেটে আমাদের দলের ব্যাটসম্যানরাও খুব ভালো বলছিল আমার বোলিং। পরে জানলাম, ১৪ জনের দলেই আমি নেই!’

জুবায়ের কেন নেই-এ প্রশ্নে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর শুরুর ব্যাখ্যা ছিল এরকম, ‘প্রথম দুই রাউন্ডে ৬ মিলিমিটার ঘাসে খেলা হবে। তাই ওকে (জুবায়ের) রাখা হয়নি।’

সোমবার প্রথম রাউন্ডে ঢাকা বিভাগের ম্যাচ রংপুরের বিপক্ষে বিকেএসপির চার নম্বর গ্রাউন্ডে। খবর নিয়ে জানা গেছে সেখানকার উইকেটে ঘাসের ছিটেফোঁটাও নেই। তৈরি করা হচ্ছে একদমই স্পিনিং ট্র্যাক।

বিসিবি থেকে ঘাসের উইকেট বানানোর নির্দেশনা রয়েছে বিশেষ কিছু ভেন্যুতে। সেটির মধ্যে নেই বিকেএসপি। সেখানকার মাঠে কখনোই ঘাস দেখা যায় না বা রাখা হয় না। যে কারণে প্রধান নির্বাচকের কাছে জানতে চাওয়া, বিকেএসপির উইকেটে ঘাস আছে? তখন মিনহাজুল অবশ্য স্বীকার করেন উইকেট আসলেই কেমন হচ্ছে।

‘বিকেএসপিতে মনে হয় টার্নিং উইকেট হবে। নেব, লিখনকে পরের রাউন্ডে নেব। বাদ দিয়ে দেইনি। ১৮ জনের মধ্যে তো আছে। ওকে নিয়ে তো কোচদের রিপোর্ট ভালো না। খেলাতে চায় না। আমরা জোর করে খেলিয়েছি আগে। এবারও পরের রাউন্ডে ওকে নেব।’

শেষমেষ কোচ দীপু রায় চৌধুরী বল ঠেলে দিয়েছেন নির্বাচকদের কোর্টে। লেগ স্পিনারদের ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে দুর্বলতার কথা জানিয়ে বিশেষে এই শিল্পের শিল্পীদের জয়গানও গাইলেন তিনি।

দীপু রায় চৌধুরী

‘দলে রাখা বলতে… আমি তো কোচ, সবকিছু আমার হাতে নেই। ১৪ জনের দল তো নির্বাচকদের ব্যাপার। কোচের এখানে কিছুই করার নেই। আমি হয়তো একাদশ বাছাইয়ে ভূমিকা রাখতে পারি।’

‘আমি নিজে লেগ স্পিনারদের অনেক পছন্দ করি। ক্লাব ক্রিকেট হোক, খুলনা বা রংপুর বিভাগে বলেন বা যে কোনো জায়গায় কোচিং করালে আমি লেগ স্পিনার খেলাই, যে ফরম্যাটই হোক। লেগ স্পিনাররা তো সবসময়ই আক্রমণাত্মক। আমার লেগ স্পিনার খেলাতে সমস্যা নেই, বরং খুশিই হই লেগ স্পিনার পেলে।’

‘আমাদের কিছু ম্যাচ এমনিতেই খেলা উচিত দুই দিন-তিন দিনের, যেখানে লেগ স্পিনাররা সারাদিন ভালো ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল করবে। পেসার ও লেগ স্পিনারদের নিয়ে আলাদা ক্যাম্প হওয়া উচিত।’