চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিষাক্ত সাপকে বিশ্বাস করবেন না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

টার্গেট কিলিং! অবশ্যই টার্গেট কিলিং। তবে সেই কিলিং এর আসল টার্গেট কে সেটা বোঝা কি খুব কঠিন?

জ্বী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনিই সেই আসল টার্গেট। ইয়েস- কারণ আপনি মানবতার শত্রু রাজাকারদের নিধনে নেমেছেন। আর কারা এতে নাখোশ হয়েছে, এসব বন্ধ করতে কারা চায় তা আপনারও অজানা নয় এবং প্রতিশোধস্পৃহায় কারা আপনার বিনাশ চায় সেটা বুঝতেও জটিল সমীকরণের প্রয়োজন হয় না।

এতদিন যে নাস্তিক, ব্লগার, অমুসলিম হত্যাকাণ্ডগুলো হলো তা ছিলো আসলে মূল সঙ্গীতের পূর্বে তবলার টুং টাং মাত্র। যুদ্ধে যাওয়ার আগে অস্ত্রশস্ত্রের পরীক্ষা ও মহড়া।

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যার মাধ্যমে যুদ্ধের ঘোষণা হলো বলেই আমি মনে করি।

এসপি বাবুল একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি নানা বাধা-বিপত্তি স্বত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গীদের নানা আস্তানায় হানা দিয়ে অনেক জঙ্গীকে আটক করেছেন এবং জঙ্গী কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি আটক করেছেন।

এসপি বাবুল তাদের পথের কাঁটা হয়ে গিয়েছিলেন, তাই তাকে তারা সরাতে চেয়েছে। হয়তো সুযোগের অভাবে তাকে না পেয়ে তার পরিবারের উপর আঘাত করে আসলে তার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

আপনার কাছে পৌঁছাতে তারা এভাবেই সকল নিরাপত্তা বেষ্টনি ভাঙ্গতে চাইবে। তাদের মূল উদ্দেশ্য আপনাকে থামানো।

এক সাংবাদিকের লেখা থেকে জানতে পারলাম, জঙ্গীদের মোবাইল থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ আছে এমন কিছু নামও জানতে পেরে আইজিকে জানিয়েছিলেন বাবুল আক্তার । যে নামের সূত্র ধরে জঙ্গীদের মূল উৎপাটন করা যেত। কিন্তু পরে উপর মহলের চাপে এটাকে ধামাচাপা দেয়া হয় এবং এসপি বাবুলকে চট্টগ্রাম থেকেই সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এই উপরমহল যাদের এত ক্ষমতা তাদের মুখোশ উম্মোচিত করলেই জঙ্গীদের দমন করা সহজ হয়ে যাবে।

সাকা চৌধুরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তার ছেলের দম্ভোক্তি শুনে যে আশংকা মনে জেগেছিলো, দেখেশুনে মনে হচ্ছে সেটাই সত্যি হতে চলেছে। একটি লেখায় সে আশংকার কথা প্রকাশও করেছিলাম। কিন্তু আমার মতো যদু-মধুর কথায় কে কর্ণপাত করবে!

বিজ্ঞাপন

রাজাকারদের সন্তানরা দম্ভের সাথে প্রকাশ্যেই বলেছিলো যে তাদের পিতাকে অন্যায়ভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং তাদের পিতার হত্যার (তাদের মতে হত্যা) প্রতিশোধ নেয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের সেই ইঙ্গিত কার প্রতি নির্দেশিত ছিলো এটা না বোঝার কথা নয় কারোই।

তাদের সেই দম্ভোক্তিতে মেজাজের প্যারামিটার যেমন একদিকে চূড়ায় পৌছেছিলো তেমনি মিথ্যে বলবো না আতংকেও শিউড়ে উঠেছিলাম!

আতংকের কারণ ছিলো তাদের পিতাদের রেখে যাওয়া বিপুল অবৈধ বিত্ত-বৈভব!

এই পাহাড়সম অর্থ সম্পদ দিয়ে পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধের নামে কি অনর্থ তারা ঘটাতে পারে সেই আশংকায় হিম হয়েছিলাম!
অর্থই যে অনর্থের মূলে।

আর এ কারণে অনেকের মতো আমারও প্রস্তাব ছিলো এইসব চিহ্নিত রাজাকারদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার এবং এদের পরিবারের নাগরিকত্ব বাতিল করার। যে দেশটার প্রতিষ্ঠাই তারা চায়নি, যে দেশের জন্মে তারা নির্মমভাবে বিরোধিতা করেছে, সেই দেশে তাদের থাকারও কোন অধিকার নেই। এই দেশে এদের রাখার কোন যৌক্তিকতা তো নেইই বরং ঝুঁকি আছে। যার নমুনা পাওয়া এখন যাচ্ছে।

এই যে জঙ্গীবাদের নতুন করে উত্থান- এর পেছনে কাদের ইন্ধন? ভেবে দেখুন কাদের অর্থায়নে এরা সংঘবদ্ধ হচ্ছে! অস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জামাদিতে বিপুল অর্থের যোগান কারা দিতে পারে!

সাকা চৌধুরির ছেলের ঔদ্ধত্য দেখে রাজাকারদের সন্তানদের তখন ‘বিষবৃক্ষের বীজ’ মনে হয়েছিলো! এখন দেখছি সময় পরিক্রমায় ইতিমধ্যেই সেই বীজ থেকে চারা বেরিয়ে বেশ ডালপালা ছড়িয়ে জাঁকিয়ে বসার অপেক্ষায়! কিন্তু মহীরূহ এখনো হয়ে ওঠেনি। এখনো সময় আছে আগাছা উপড়ে ফেলুন।

বিভিন্ন সময়ে মান অভিমান করে আপনাকে নানা কথা বলি বটে, তবে আপনাকে আমরা ভালবাসি। আপনি বঙ্গবন্ধুর সন্তান। আমাদের আপনজন। আর আপনজনের সাথেই মান অভিমান চলে। তবে আপনার কোন রকম ক্ষতি হোক চাই না। আপনার নিরাপত্তার কথা ভেবে চিন্তিত হই। ভালবাসা থেকেই বার বার আপনাকে সাবধান করি, সচেতন হতে বলি। নিজের ও দেশের মানুষের নিরাপত্তার খাতিরে শত্রু ও মিত্র চিনুন, সচেতন হন এবং প্রয়োজনে কঠিন হন।

মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ। কিন্তু মানুষের কায়ায় বিষাক্ত সাপকে বিশ্বাস করা বোকামি। এদের বিশ্বাস করে, ক্ষমা করে বঙ্গবন্ধুকে কি চরম মূল্য দিতে হয়েছে- আপনার চেয়ে ভাল আর কে জানে!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের
নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে
প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন