চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বিষণ্ণতায়’ ডুবতে বসেছিলেন কোহলি

তিনি যেন ছাই থেকে জন্ম নেয়া ফিনিক্স পাখি। সমালোচনার আগুনে পুড়ে তা থেকে ক্যারিয়ারকে ফের কীভাবে পুনর্জন্ম দিতে হয় সেটা করে দেখিয়েছেন। দেখিয়েছেন ২০১৪ সালে, ব্যক্তিটি বিরাট কোহলি। ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতার জ্বালা মিটিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ানদের উপর। অথচ সেই ইংল্যান্ড সফরের পর নিজের উপর থেকেই নাকি ভরসা হারিয়ে ফেলছিলেন ভারত অধিনায়ক।

একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের জীবনে হতাশা কত বড় অভিশাপ, কতটা ক্ষতিকর, তা সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মার্ক নিকোলাসের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় তুলে ধরেছেন কোহলি। যেকোনো হতাশা নিজের ভেতর না লুকিয়ে মনোবিদ, প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

উদাহরণ হিসেবে ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরকে সামনে টেনেছে কোহলি। সেবার পাঁচ টেস্টের ১০ ইনিংসে ১৩.৪০ গড়ে কেবল ১১৪ রান করতে পেরেছিলেন। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৯ রানের। ব্যর্থ এক সফরে চারিদিকে সমালোচনার পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। কেউ কেউ দেখে ফেলেছিলেন তার ক্যারিয়ারের শেষও।

সব সমালোচনার জবাব ব্যাটেই দিয়েছেন কোহলি। পরের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পার করেছেন দুরন্ত এক সময়। চার ম্যাচের সিরিজে করেছিলেন ৬৯২ রান।

‘কেউ বুঝবে না তখন কী পরিস্থিতির মাঝে গেছি। সময়টা ছিল যেন কোনকিছুই পাল্টাতে পারছিলাম না। মনে হতো দুনিয়ার সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ আমি।’

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে আশেপাশের প্রিয় মানুষদের সমর্থন খুবই জরুরি বলেছেন কোহলি। প্রয়োজনে পেশাদার মনোবিদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ তার।

‘ব্যক্তিগতভাবে তখন আমার মনে হতো, একটা দলের সঙ্গে থেকেও আমি ভীষণ একা। বলবো না যে তখন কথা বলার মতো কেউ ছিল না। সত্যিটা বলতে আমার মনের কষ্ট বোঝার মতো পেশাদার কেউ ছিলেন না। এটা একটা বিশাল কারণ ছিল তখন।’

‘আমি চাইছিলাম, পরিস্থিতিটা যেন পাল্টে যায়।’

‘পরিচিত যেকোনো মানুষই যখন-তখন এমন পরিস্থিতির মাঝ দিয়ে যেতে পারে। বলতে পারে, দেখো আমার ভালো লাগছে না, ঘুমাতে পারছি না, ঘুমালে আর উঠতে ইচ্ছে করে না। নিজের ভেতর আর সাহস পাচ্ছি না, কি করা উচিৎ?’

‘অনেকেই আছেন যারা লম্বা সময় ধরে এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যান। কারও মাস কিংবা পুরো মৌসুমই এই সমস্যা থাকতে পারে। অনেকে কখনই বের হতে পারেন না। বলবো, এমন সময় পেশাদার কারও সঙ্গে সমস্যাটা ভাগাভাগি করে নিতে।’

বিজ্ঞাপন