চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও আমাদের শিক্ষক সমাজ

৩০তম ব্যাচে বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়েছিলেন রাজশাহী ভার্সিটি থেকে পাশ করা মেধাবী শিক্ষার্থী সুমন হালদার। পরের বছর ৩১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে চলে যায় সুমন।

শিক্ষকতা ছেড়ে প্রশাসন ক্যাডারে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে সুমন হালদারের মন্তব্য ছিল, ‘এই দেশটা শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত নয়। ‘নিজের ভূত-ভবিষ্যতের কথা ভেবেই শিক্ষকতাকে বাদ দিয়ে প্রশাসনে যোগ দিয়েছিলেন সুমন। গত এক দশকের অভিজ্ঞতায় সুমন হালদার নিশ্চয়ই এখন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ধরণের ঘটনার ‘সুমন হালদার’ একমাত্র উদাহরণ নন। বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকতায় নিযুক্ত অনেক মেধাবী তরুণ নিজেদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এ পেশাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য পেশায় চলে যান, যাচ্ছেন, হয়তো আগামী দিনেও চলে যাবেন। পরিচিত এক স্নাতক একটি হাইস্কুলের শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে পুলিশের কনস্টেবলে যোগ দিয়েছিলেন। পুলিশে চাকরি করে তিনি বেশ ভালভাবেই জীবনটা সাজাতে পেরেছিলেন যা হাইস্কুলের ‘মাস্টারি’ করে কল্পনাও করতে পারতেন না।

এমন অনভিপ্রেত বাস্তবতার কারণ; বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকতাকে এখনো পেশা হিসেবে দেখার মানসিকতা তৈরি হয়ে উঠেনি। রাষ্ট্র এখনো শিক্ষকতাকে ‘ব্রত’ হিসেবে দেখতে চায়। তাই রাষ্ট্রের দেয়া বাজেটে শিক্ষকতা পেশায় বিনিয়োগ দেখা যায় না।

রাষ্ট্র চায়, শিক্ষকরা কোন রকমে খেয়ে পড়ে রাষ্ট্রের জন্য নিবেদিতপ্রাণ দায়িত্ব পালন করুক। দেশে মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করুক যারা বড় হয়ে বড় বড় আমলা, সামরিক ও পুলিশ অফিসার হবে, ব্যাংকার হবে। এতে রাষ্ট্রের এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের শিক্ষকরা তা ঠিকই করে যাচ্ছেন। অতীতেও করেছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তাই করে যাবেন। ব্যক্তিগত জীবনে শিক্ষকরা যেমনই থাকুক, প্রতিবছর অসাধারণ সব প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ‘শিক্ষক দিবস’ উদযাপিত হবে। শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের মহত্তম পেশার প্রতি পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাটাই যেন ‘শ্রদ্ধায়’ নুইয়ে পড়তে চাইবে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুশোভিত বাক্যবিন্যাসে শিক্ষকদের প্রশংসায় ভাসিয়ে দেওয়ার লঙ্কাকাণ্ডও হবে।

আমাদের মিডিয়াগুলো কম যাবে না। শিক্ষকদের সম্মানে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বিশেষ সম্পাদকীয় ও দীর্ঘ উপসম্পাদকীয় নিবন্ধ ছাপবে। কোন কোন আয়োজক শিক্ষকদের অসামান্য দায়িত্ব ও কর্তব্য’র কথা ভেবে দু’একজন শিক্ষককে ক্রেস্ট, মেডেল ও কিছু টাকার চেক তুলে দিবে।

শুধু শিক্ষকদের আক্ষেপটা কেউ বুঝবেনা!

পাদটিকাঃ আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এবারের শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হল; ইয়াং টিচার: দ্য ফিউচার অব দ্য প্রফেশন। শিক্ষকরা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পুরণ করতে পারে তা নিশ্চিত করতেই দিবসটি পালন করা হবে। জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে ১৯৯৫ সন থেকে দিবসটি পালন করা হয়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

Bellow Post-Green View