চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিম্নমুখী: শিক্ষক নেটওয়ার্কের সমাধান প্রস্তাব

যেসব সমস্যার জন্য দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিম্নমুখী হচ্ছে তার প্রধান  কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করে দেশের উচ্চশিক্ষার নানান সঙ্কট  ও সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে কিছু সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

শনিবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই?’  শীর্ষক শিক্ষক কনভেনশন থেকে এ সমাধান প্রস্তাব দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্লাবে আয়োজিত এ শিক্ষক কনভেনশনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত (১১-১২ এপ্রিল) ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই: উচ্চশিক্ষা, নীতিমালা, কাঠামো’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওই কনভেনশন থেকেই শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়।

সেগুলো আজ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।

কারণগুলো হলো
১. সরকারি কর্তৃত্ব
সরকারি কর্তৃত্ব দলীয় রাজনীতিবাহিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন হরণ করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার উপর দলীয়/রাজনীতির চর্চা প্রভুত্ব করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পদ-সম্পদ-প্রোমশনের বাঁটোয়ারার নীতি শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতিমুখী করে তোলে।

২. নয়া উদারবাদী নীতি ও ইউজিসির কৌশলপত্র
বিশ্বব্যাংকের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান নয়া উদারবাদের নীতি অবলম্বনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে, মানন্নোয়নের নাম দিয়ে সর্বজনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বেসরকারীকরণের উপাদান প্রবিষ্ট করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ২০ বৎসর মেয়াদী (২০০৬-২০২৬) কৌশলপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি করতে ও সরকারি বরাদ্দ কমাতে নীতিগত চাপ প্রয়োগ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন সান্ধ্যকোর্স, বৈকালিক কোর্স, ছুটির দিনে বিশেষ প্রোগ্রাম চলছে। এই মুক্তবাজার আবহাওয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধাবী অথচ দরিদ্রদের পড়ার সুযোগ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠছে।

৩. স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার
পাকিস্তানি সামরিক শাসকগণ পাকিস্তান আমলে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ আনতে নানান উদ্যোগ নিয়েছিল। তার বিপরীতে তিয়াত্তরের আদেশ একটি অর্জন হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু অধ্যাদেশটি শতবর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় কোন স্থানে পৌঁছাবে তার দিকনির্দেশনা দেয়নি। অন্যদিকে শিক্ষকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হলেও মূলত দলীয় রাজনীতি প্রধান হয়ে উঠেছে এবং সরকারদলীয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দের দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে পড়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক, ক্যাম্পাসপ্রাঙ্গনে বছরজুড়ে শিক্ষকদের নানান নির্বাচন হয়ে থাকে। অথচ জবাবদিহিতার অভাবে পাঠদানে শিক্ষকরা অবহেলা করে থাকেন, স্বায়ত্তশাসনের সুযোগকে এক্ষেত্রে যুক্তি হিসেবে হাজির করা হয়। এছাড়া। অধ্যাদেশটি শিক্ষকদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতারও দিকনির্দেশনা দেয় না। সরকারি আধিপত্য কমানো আর গণতান্ত্রিক ও জ্ঞানমুখী পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বায়ত্তশাসনের সংস্কার প্রয়োজন।

৪. শিক্ষায় বরাদ্দ ও গবেষণা
জিডিপি বা বাজেটের বিপরীতে শিক্ষায় বরাদ্দের হারে দক্ষিণ এশীয় মানের তুলনায়ও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। একদিকে গবেষণার তহবিলের বরাদ্দ নেই, অন্যদিকে হীন দলীয় রাজনীতি গবেষণামনষ্ক শিক্ষকদের জন্য নানান প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। যেক্ষেত্রে গবেষণাবিমুখ ও রাজনীতিপ্রবণ শিক্ষকদের জন্য রয়েছে বহাল তবিয়তে থাকবার নানান উপায়। আবার শিক্ষার্থীদের পিএইচডি-এমফিল। গবেষণার জন্য নেই সুষ্ঠু পরিকাঠামো। এদেশের গবেষকরা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশেই যান, দেশের পিএইচডির মানও নাই, মূল্যও নাই৷

৫. অ-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়
অ-স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে নানান ধরণ। যেমন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সেনা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পরিস্থিতি বেশ শোচনীয়। সব ক্ষমতা উপাচার্যের নিকট কেন্দ্রীভূত, এবং সেই উপাচার্য যেহেতু দলীয় আনুগত্যে মনোনীত হন, তাই শিক্ষকদের স্বাভাবিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন আইন দিয়ে চলছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিষয় কেবল সাধারণ গণতান্ত্রিক উপাদানের ঘাটতি এবং কেন্দ্রীভূত প্রশাসনব্যবস্থা৷

৬. নিয়োগে ও ভর্তি
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো ফলাফলের শিক্ষার্থীই গুরুত্ব পাবার কথা। কিন্তু তাদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় ‘ভোটের’ নিয়োগের প্রবণতা দিন দিনই বাড়ছে। অন্যদিকে এমসিকিউ নির্ভর ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী কাঙ্খিত শিক্ষার্থীদের সবসময় পাওয়া যায় না। ক্লাসরুমের গড় মান এভাবে পড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ধরণও বিভিন্ন। ভর্তি পরীক্ষা থেকে শিক্ষকদের উপার্জন বাড়ে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও পাল্লা দিয়ে বাড়ে।

৭. শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ছাত্র রাজনীতি
কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কটের সুযোগে গড়ে উঠেছে গণরুম প্রবণতা, গেস্টরুম সংস্কৃতি ও সাধারণ ছাত্রের ওপর সরকারি ছাত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রণমূলক রেজিমেন্টেশন। ছাত্রাবাসগুলোতে বসবাসের ও অধ্যয়নের ন্যুনতম পরিবেশ নেই। বরং নিবর্তন ও মাস্তানির সূত্রে রয়েছে অপ্রীতিকর এক ভীতিকর পরিবেশ যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলনীতির পরিপন্থী ও শিক্ষার্থীদের উদার ও মুক্তচিন্তায় বিকশিত হবার পথে বাধাস্বরূপ। সরকারি ব্যতীত বাকি সংগঠনকে এক নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশের মধ্যে রাজনীতি করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

৮. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমরূপ নয়। তাদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। অল্প কয়েকটির মান যথেষ্ট উন্নত (যদিও সেখানে টিউশন ফি অত্যন্ত উচ্চ), বেশিরভাগের মান বেশ নিম্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মূলত মুনাফামুখী, সে তুলনায় মান অর্জনে আগ্রহ কম। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার পরিবেশ গড়ে ওঠে নি। তাদের এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি দেবার অনুমতি নেই।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের উচ্চশিক্ষার নানান সঙ্কট  ও সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে সমাধান প্রস্তাব উত্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক।

প্রস্তাবগুলো হলো
১. রাষ্ট্রের হাতে যে সমাধান
বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্কটগুলো রাষ্ট্রব্যবস্থার সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্কটগুলোর সমাধান হওয়া দরকার। সরকারগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বাস করে না, নিজ স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। আজকের জন্য এমন আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই যা চিন্তার স্বাধীনতা, প্রশ্ন করার পরিসর এবং বিশ্লেষণের বিস্তার নিয়ে তৈরী হবে। সরকারকে এক্ষেত্রে উদার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের মতো চলতে দিতে হবে। উন্নয়নের ধারায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে, শিক্ষাখাতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করতে হবে।

২. ইউজিসির কৌশলপত্র ও নয়া উদারবাদী নীতি
নব্য উদারবাদী মতাদর্শের আলোকে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বব্যাংক প্রণীত বাণিজ্যিকীকরণের নীতি থেকে সরে আসতে হবে। উন্নয়নশীল দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষাকে দরিদ্র মানুষদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। নৈশ বা সান্ধ্য কোর্সগুলোকে ধীরে ধীরে তুলে নিতে হবে। বছর বছর ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন বাড়ানো বন্ধ করতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আইন ও নীতি
তিয়াত্তরের আদেশের অপব্যবহার রোধে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। সিন্ডিকেটে নির্বাচিত ৬ জনের বাইরে, যেসব শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে বাইরে গিয়েছেন তাদের আবার সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সিন্ডিকেটে মনোয়ন দেয়া বন্ধ করতে হবে। সিনেট নির্বাচনে নির্বাচিত ৩৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাইরে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের নির্বাচনে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো শিক্ষক নির্বাচন করতে পারবেন না। যারা প্রশাসনের নানান পদে রয়েছেন, তাদের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন করা থেকে বিরত রাখতে হবে।

তিয়াত্তরের আদেশের আওতামুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য তিয়াত্তরের আদেশের আদর্শের আলোকে আইন ও নীতি চূড়ান্ত করতে হবে। স্থানীয় ২ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। সিদ্ধান্তগ্রহণের সব ক্ষমতা উপাচায়ের হাতে না রেখে, কিছুটা ক্ষমতা বিভাজন করতে হবে।

৪. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমধর্মী ভাবা বন্ধ করতে হবে, কারণ এগুলোতে হোমোজেনাস না। ভালো, দক্ষ, বয়স্ক শিক্ষকদের ধরে রাখার ব্যবস্থা করা দরকার, পূর্ণকালীন শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করা জরুরী। শিক্ষকদের – অধিকার নিয়ে কথা বলার জায়গা দরকার। মালিকদের একচেটিয়া ক্ষমতার হাত থেকে উদ্ধার পাবার জন্য রাষ্ট্রের মনোযোগ দরকার। পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রির অনুমতি দেয়া দরকার। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের গ্র্যাজুয়েটদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে পাবলিক-প্রাইভেটের একটা যোগসূত্র করা দরকার শিক্ষার্থীরা যেন পাবলিক -প্রাইভেটে আদান-প্রদান করতে পারে। বাংলায় পাঠদানের ক্ষেত্রে হীনম্মন্যতাবাধ থেকে মুক্তি দরকার।

৫. পাঠদান ও গবেষণা
পাঠদানের মতো ন্যূনতম কাজটিতে শিক্ষকদের জবাবদিহিতার পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে। পাঠদান শিক্ষকের প্রথম কাজ, দ্বিতীয় কাজ গবেষণা। ভালো ভালো শিক্ষক ভালো গবেষক নাও হতে পারেন, উল্টোটাও ঘটতে পারে। শিক্ষকের আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী লোড বন্টনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে এবং তাদের স্বীকতি ও প্রমশনের সেই আলোকে গবেষণার জন্য সরকারকে প্রচুর বরাদ্দ দিতে হবে। গবেষণার অনুদান প্রাপ্তিতে দলগত পরিচয়ের প্রাধান্য বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পণ্ডিতদের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও আদান প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ধরার সফটওয়্যার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক পিএইচডি-এমফিল ডিগি চাল করা।

৬. ভর্তি নিয়োগে ও প্রশাসন
ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি ধাপে ধাপে পরিবর্তন করতে হবে। প্রশ্নের ধরণ পাল্টাতে হবে আগে, সম্পূর্ণ এমসিকিউভিত্তিক ভর্তিপরীক্ষা থেকে সরে এসে, এপ্টিচ্যুড টেষ্টে যেতে হবে। প্রথম বর্ষ থেকে সবাইকে হলে সিট দিয়ে দিতে হবে। প্রভাষক পদে নিয়োগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে এ বিষয়ে নিয়োগপদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। দলগত ও আঞ্চলিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়াগে সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিভাগে পাস করা শিক্ষার্থীদের ওই বিভাগে চাকরি দেবার প্রবণতা বদলাতে হবে।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
ইউজিসির চলমান কৌশলপত্রের বিপরীতে পাল্টা কৌশলপত্র প্রণয়ন; তিয়াত্তরের আদেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে, তার আলোকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন ও জ্ঞানমুখী পরিচালনা নীতিমালা প্রবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মোহাম্মদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাঈদ ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রুশাদ ফরিদী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক কাজী মারুফুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক গীতি আরা নাসরীন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তানজীম উদ্দিন খান।