চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিশেষ শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে আফগানিস্তানের নারীরা

গত বছর ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবার নারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে আফগানিস্তানের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে নারীদের মানতে হবে কিছু বিশেষ শর্ত।

গত বুধবার থেকে নারীরাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে ক্লাস করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

Reneta June

শর্ত হিসেবে থাকছে, নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও তাদের শ্রেণিকক্ষ হবে পুরুষদের থেকে আলাদা। এছাড়া পুরুষদের শিফট শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলাফেরা করা যাবে না ক্যাম্পাসে।

বিজ্ঞাপন

যদিও তালেবান প্রশাসন এখনো নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। তবে শিক্ষা কর্মকর্তাগণ জানিয়েছে পুরুষ শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা বসে ক্লাস করার প্রেক্ষিতে নারীদের ক্যাম্পাসে ক্লাস করার সুযোগ দেয়া হতে পারে।

নানগারহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান খলিল আহমেদ বিহসুদ্বাল বলেন, তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে এবং মেয়ে শিক্ষার্থীরা পৃথক শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী মেডিক্যাল শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের শ্রেণিকক্ষ ভাগ হয়ে গেছে জেন্ডারের ভিত্তিতে, তবে পুরুষ শিক্ষকেরা
আমাদের ক্লাস নিবে কি না বা আমরা আমাদের ছেলে বন্ধুদের সাথে কথা বলতে পারবো কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ছেলেদের শিফট শেষ না হওয়া অবধি আমাদেরকে ক্যাম্পাসে হাঁটতে নিষেধ করা হয়েছে।

আফগানিস্তানের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা শাকের ওয়াহিদি জানান, উষ্ণ প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয় যেমন- নানগারহার, পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কান্দাহারের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী বুধবার থেকে নারী এবং পুরুষ উভয় শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তবে শীতল প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মার্চে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

এর মধ্যে কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে, তবে সেখানে নারী শিক্ষার্থীদের যাওয়ার অনুমতি নেই। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলেও মেয়েদের যাওয়ার অনুমতি দেয়নি তালেবানরা।

তালেবানের উপ মুখপাত্র বিলাল কারিমি জানান, আফগান শিক্ষা মন্ত্রনালয় মার্চে মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুল খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করছে।

তবে তালেবানরা আফগান নারীদের শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছে বলে যে অভিযোগ করা হয়, তা অস্বীকার করে তালেবান প্রশাসন জানায়, তারা নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত হলেই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে।

মানবাধিকার আইনজীবী এবং অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক নিকোলেট ওয়াল্ডম্যান বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে এক টুইট বার্তায় লিখেন, এখন একই রকমের সংবাদ শুনতে চাই মাধ্যমিক স্কুলের ক্ষেত্রেও যেখানে এখনো অধিকাংশ আফগান মেয়েই পড়া থেকে বাদ পড়ছে।

জাতিসংঘ জানায় দেশটির ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে, পাশাপাশা দেশটি অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সামাজিক পরিষেবা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে। তবে জাতিসংঘ তালেবানের এই উদ্যোগের প্রশংসা জানায়।