চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

বিশৃঙ্খল বিদ্যুৎ খাতকে শৃঙ্খলায় আনা হবে কি?

Nagod
Bkash July

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিভাগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। এ জন্য বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২৫ জুন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর আওতাধীন দফতর ও কোম্পানির বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির মে ২০২০ মাসের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভোগান্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর অন্যদিকে চলছে বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুত বিল পরিশোধের মাইকিং৷ অথচ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎবিল স্থগিতের৷ ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক অথবা এনজিওরা এই স্থগিতাদেশ পালন করে চলছে৷ তারা কিস্তি নিচ্ছে না৷ কেউ নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে৷ এক্ষেত্রে পল্লীবিদ্যুতই তবে ব্যতিক্রম?নইলে এই করোনাকালেও কেন তারা বিদ্যুত পরিশোধের জন্য জনগণকে চাপ দিচ্ছে?এপ্রিল মাসে বিল না নিয়ে ভূতুরে বিল পাঠাচ্ছে গ্রাহকদের নামে?এখন আবার এই করোনাকালেও বিদ্যুত অফিসে গিয়ে ভুল সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে৷ এই ভুলটা কি গ্রাহক করলো না পল্লীবিদ্যুৎ করল?আর এটা কি ভুল না উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ?এই অপরাধের কী শাস্তি দেবে তদন্ত কমিটি?

রাজধানীতে অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের বাড়িভাড়া মওকুফ করে দিয়েছে৷ আর বিদ্যুৎ কি পারতো না বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করে দিয়ে ৩০ জুনের পর হতে বিল কার্যকর করতে?কিন্তু তা না করে উল্টো বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিল পরিশোধের চাপ কেন?কেন ভূতুরে বিল করে গ্রাহকদের আর্থিক বিড়ম্বনায় ফেললো?প্রতি জেলায় শত শত মানুষের উপর এই ভুতুরে বিলের অভিযোগ৷ সমালোচনার মুখে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে তা সংশোধনের কথা বলছে৷ কিন্তু এসব ভুল কি বিদ্যুৎগ্রাহক করেছে না বিদ্যুৎ অফিস করেছে?ভুল করবে বিদ্যুৎ অফিস আর সংশোধনের জন্য হয়রানীর শিকার হবে গ্রাহক তা হয়না৷ এতে যে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিও বাড়বে তা নিশ্চিত৷ করোনাকালে কেন এই সংক্রমন ঝুঁকির পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হল৷ তদন্ত কমিটি এর জবাবও চাইবে আশা করি৷

বিদ্যুৎ অফিসকে ঘিরে দেশব্যাপী রয়েছে দালাল চক্র৷ গ্রাহকদের মিটার নিতে ও সেচ সংযোগ নিতে পড়তে হয় এদের খপ্পড়ে৷ বিদ্যুত দুই ধরণের পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবি৷ পিডিবি বিদ্যুত সংযোগ দেয় জেলা শহরে আর পল্লীবিদ্যুত দেয় উপজেলা শহরে৷ পল্লীবিদ্যুত সমিতি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান৷ বিদ্যুতকে কেন এমন বিভক্ত করা হল?অনেক উপজেলায় পল্লীবিদ্যুতর নিকট হতে বিদ্যুত সরবরাহের দায়িত্ব পিডিবিকে দেয়ার দাবি উঠতেও দেখা গেছে৷ যেহেতু বিদ্যুত বিষয়ক মন্ত্রনালয় রয়েছে তাই বিদ্যুত সংযোগের দায়িত্ব একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত সমিতিকে কেন?কেন এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন সরকার নিচ্ছেনা?একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের চেয়ে সরকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন কি অধিক সহজ নয়৷ কেন কী উদ্দেশ্যে সহজকে কঠিনের দিকে নেয়া হল?

কী করছে পল্লীবিদ্যুত সমিতি?স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ার সুবাদে তারা লিপ্ত থাকছে স্বেচ্ছাচারিতায়, অনিয়মে ও অনৈতিকতায়৷ তারই বহিপ্রকাশ দেশব্যাপী ভূতুরে বিলের অভিযোগ৷ শুধু কি ভূতুরে বিল উৎকোচ নিয়ে নিয়মের বাইরে বিদ্যুতের মিটার প্রদান করে কিছুদিন পরপর ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরনের কারনও হচ্ছে তারা৷দালাল পুষে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও বিড়ম্বনায়ও ফেলছে তারা৷ অনভিজ্ঞ ও আনাড়ি লোকদের ইলেক্ট্রিশিয়ান বানিয়ে তারা কারণ হচ্ছে দূর্ঘটনার৷ সরকারী নিয়ন্ত্রনের বাইরে থাকায় তাদের স্বেচ্ছাচারিতাও চরম নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে উঠছে৷ আর ভোগান্তি বাড়ছে জনগণের৷

বিদ্যুত বিভাগ সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বিভ্রান্ত করতে নানা ফন্দিও এঁটে থাকে৷ সময় অসময়ে দীর্ঘসময় লোডশেডিং দিয়ে হয়রানি করে মানুষকে৷ অভিযোগের জন্য জরুরি ফোন নম্বর দিয়ে রেখে তা বন্ধ রাখে৷ মানুষ ফোন করে তার সমস্যাটিও বলতে পারে না৷ কোন মন্ত্রী,এমপি এলাকায় গেলে লোডশেডিং না দিয়ে লাগাতার বিদ্যুত দিয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির কাছে লোডশেডিং তথ্য আড়াল করতেও চেষ্টা করে৷ অতঃপর ক্ষমতাধর ব্যক্তি চলে গেলে দীর্ঘ লোডশেডিং দিয়ে তা পুষিয়ে নেয় ৷ সরকারকে এভাবে ধোঁকা দিয়েই নানাভাবে জনদূর্ভোগের কারণ হয়ে চলছে তারা৷সরকার কি পারবে এসবের কোন প্রতিকার করতে?

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সংসদে জানালেন, ত্রুটিপূর্ণ বিল দ্রুত সংশোধনসহ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এজন্য বকেয়া বিল আদায়ে মাসভিত্তিক পৃথক পৃথক বিদ্যুৎ বিল তৈরি করে মোবাইলে (বিকাশ, জি-পে, রবিক্যাশ) অনলাইনে ঘরে বসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।সংগত কারণেই প্রশ্ন জাগে,ত্রুটিপূর্ণ বিলগুলো কেন বাতিলের ঘোষনা করা হলো না?৩০ জুনের আগে কেন এসব বিল গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হলো? আগে ত্রুটিপূর্ণ বিলের বিচার পরে নতুন বিল আদায় এমনটাই কি যৌক্তিক ছিলো না?অনলাইনে বিল পরিশোধ করলে কি ত্রুটি ঠেকবে?মানুষের দাবী ত্রুটিপূর্ন বিলগুলো সংশোধন নয় বাতিল করা হোক৷ সংশোধনের নামে মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে৷ লাইনবেঁধে হুড়োহুড়ি করে দাঁড়ানোতে বাড়ছে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি৷ সুতরাং মানুষ এর প্রতিকার চায়৷ মানুষ আরও চায় পল্লীবিদ্যুতকে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে নেয়া হোক৷

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

BSH
Bellow Post-Green View
Bkash Cash Back