চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিভিন্ন জেলায় পরিবহন ধর্মঘট, বিপাকে যাত্রীরা

নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মবিরতি পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। এর ফলে বিভিন্ন জেলায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। 

আজ সকাল থেকে টাঙ্গাইলের প্রধান বাসস্ট্যান্ড থেকে সীমিত আকারে যান চলাচল করলেও জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় দ্বিতীয় দিনের মত চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে ভূঞাপুর ও গোপালপুরে পুরোপুরি ও অন্যান্য উপজেলায় সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা।

কর্মবিরতি পালনরত শ্রমিকরা জানায় নতুন সড়ক আইনের অনেকগুলি বিষয় সংস্কার না করলে তারা পরিবহন সেক্টরে কাজ করবেন না। বিশাল অংকের জরিমানা, শাস্তি আর অপমানজনক ঘাতক শব্দ মাথায় গাড়ী চালাবেন না। আপত্তিকর বিষয়গুলির সংস্কার দাবী করেন তারা।

ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা বলেন, যাত্রীদের জিম্মি করে এভাবে অঘোষিতভাবে কর্মবিরতি পালন করা উচিত নয়। আগে থেকে ঘোষণা দিলে তারা বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারতেন। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।

এবিষয়ে জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্চন বলেন, শ্রমিকদের এ কর্মবিরতির সাথে ইউনিয়নের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের এ ধরণের কোন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ২১ তারিখের দিকে কেন্দ্রিয়ভাবে একটি বৈঠক হবার কথা। তার আগে কোন কর্মসূচি পালন করা হবে না। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় কাজে যোগ না দেয়, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নাই।

এদিকে মেহেরপুর জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, বর্তমানে নতুন আইন তৈরি হয়েছে তাতে করে চালকরা আর গাড়ি চালাতে চাচ্ছেন না। নতুন আইনে দুর্ঘটনার কারণে একজন ড্রাইভার এর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, এটার প্রতিবাদে শ্রমিকরা হঠাৎ করে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন।

বিজ্ঞাপন

কার্যকর হওয়া সড়ক নিরাপত্তা নতুন আইন বাতিলের দাবিতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তায় মহাসড়ক অবরোধ করেছে পরিবহন শ্রমিকরা । বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল ।  সকাল থেকে হঠাৎ করেই এ অবরোধ শুরু করেছে পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামীরাসহ সাধারণ জনগণ।

শ্রমিকরা জানায়, নতুন কার্যকর হওয়া সড়ক নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে তাদের এই অবরোধ। যতদিন পর্যন্ত না আইন বাতিল হবে তাদের আন্দোলন চলবে।  মাওনা হাইওয়ে থানার এসআই আইয়ুব হোসেন জানান, শ্রমিকদের সাথে কথা বলে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিতে তাদের সাথে কথা চলছে পুলিশের।

এদিকে বরিশালে কোন ধরনের পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়নি। তবুও গাড়ী চালাতে রাজী হচ্ছেন না শ্রমিকরা।

ঢাকাসহ দূরপাল্লারর রুটে মাওয়া ও মাদারীপুরে বাস আটকে দেওয়ার কারণে বরিশাল থেকে বাস ছাড়তে রাজী হচ্ছে না শ্রমিকরা। বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বাস ছেড়ে গেছে। তবে যাত্রী না পেলে সাড়ে ১২ টার বাস ছাড়বে না।

অন্যদিকে ঝালকাঠির অভ্যন্তরিণ ১৪ রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস ও মিনিবাস শ্রমিক সংগঠন। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্যযাত্রী।

শেয়ার করুন: