চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিবৃতি অনভিপ্রেত, ইগো-ক্ষমতার দম্ভ থাকা উচিত নয়: হাইকোর্ট

চলমান লকডাউনের মধ্যে দায়িত্বরত পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে এক নারী চিকিৎসকের বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতিকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। এক্ষেত্রে কারো ইগো বা ক্ষমতার দম্ভ থাকা উচিত নয়।’

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে চেকপোস্টে গত রোববারের ওই বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও পুলিশ সংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আজ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো: রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে এনে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশের আরজি জানান আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তখন এই আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘আপনি তো এক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নন।’ জবাবে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, ‘মাই লর্ড, আমার মেয়ে চিকিৎসক। এছাড়া আমার আত্মীয়স্বজনের মধ্যে চিকিৎসক রয়েছে সে কারণে আমি সংক্ষুব্ধ।’

একপর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিবৃতি পাল্টা–বিবৃতি দেওয়া অনভিপ্রেত, এটা কাম্য নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে সবাই দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। করোনার এই পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ প্রজাতন্ত্রের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তদের কাছ থেকে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।। পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকতে হবে। ইগো বা ক্ষমতার দম্ভ থাকা উচিত নয়। সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে।’ এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘মাই লর্ড, ঘটনা দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত। তখন আদালত ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের উত্তেজনা প্রশমনে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ভূমিকা রাখতে বলেন।

এলিফ্যান্ট রোডের ওই ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত এবং বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। এছাড়া বিবৃতি দিয়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, স্বাচিপের বিএসএমএমইউ শাখাও।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক বিবৃতিতে বলা হয়, “নিজ গাড়িতে কর্মরত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগানো এবং নিজের নামাঙ্কিত চিকিৎসক গাউন পরিহিত অবস্থায় পরিচয় দেওয়ার পরেও তাকে আক্রমণাত্মকভাবে জেরা করে উত্যক্ত ও হেনস্তা করার দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। চিকিৎসকের এতগুলো পরিচয় দেওয়ার পরও কেবলমাত্র মুভমেন্ট পাস ও প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ডের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

এছাড়া ওই ঘটনার খবর ও আংশিক ভিডিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে তার ভিত্তিতে ওই চিকিৎসক সাঈদা শওকত জেনিকে দোষ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করে বিএমএ।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেছে যে,  মহামারীকালে ঝুঁকি নিয়ে জরুরি সেবায় থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা লকডাউনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ‘নিগ্রহ’ ও ‘হয়রানির’ শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ‘আতঙ্কগ্রস্ত ও হতাশ’ হয়ে পড়ছেন।

অপরদিকে ডা. সাঈদা শওকতের আচরণের নিন্দা জানিয়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এই সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি আদেশ বাস্তাবায়নের চলমান কার্যক্রমের সময় গত রোববার জনৈক চিকিৎসক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা একজন পেশাদার ও সচেতন নাগরিকের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

“তিনি শুধু ওই পুলিশ সদস্যদের অপমান করেননি, গোটা পুলিশ বাহিনীকেই কটাক্ষ ও হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। শুধু তাই নয় নিজ পেশার পরিচয় বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক পরিচয় তুলে ধরে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং জাতির সামনে পেশাজীবী সংগঠগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছেন। ওই চিকিৎসকের আচরণে পুলিশ বাহিনী মর্মাহত হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “নিজ মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশ লঙ্ঘন এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জোর দাবি জানাচ্ছে।”

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ঝুঁকি নিয়েও পুলিশের কাজ করে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, এই পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৯১ জন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন।