চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিপ্রদাশ বড়ুয়া, শামসুর রাহমান আর শালিক পাখি…

মুক্ত গদ্য ২

এক
পূর্ব নির্ধারিত প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সকালবেলা বিপ্রদাশ বড়ুয়ার বাসাবোর ঢেরায় গেলাম। কত বিষয় নিয়ে যে কথা হলো! তার সঙ্গে আড্ডায় বসলে এই এক বিপত্তি। কথা আর শেষ হতে চায় না। এক প্রসঙ্গ থেকে আরেক প্রসঙ্গ, আরেক থেকে আরও…। চলতেই থাকে। আজো তাই।

বিপ্রদা কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে মজার মজার অনেক কথা বললেন। কথা বলতে বলতে দাদা জানালেন শিশু একাডেমীর শিশু পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে থাকার সময় কত কত জায়গায় কবিকে নিয়ে তিনি ঘুরেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

একদিন বিপ্রদা কবিকে নিশি বক দেখার আমন্ত্রণ জানালেন। বিপ্রদার আমন্ত্রণ পেয়ে কবি ভীষণ উৎসাহী হলেন।
এই নগরে নিশি বক!
তাও আবার দিনের বেলা!
বিপ্রদার কথায় রাজি হয়ে গেলেন কবি।
বিপ্রদা কবিকে রমনা পার্কে নিয়ে গিয়ে দেখালেন নিশি বক। কবি নিশি বক দেখে নাকি বাচ্চাছেলেদের মতো অবাক হয়েছিলেন।
তারপর বিপ্রদা কবিকে পার্কে দোয়েল পাখি দেখালেন।
শালিকও দেখালেন।
বাড়ি ফিরে গিয়ে কবি বিপ্রদাকে লেখা পাঠালেন।

কথা বলতে বলতে বিপ্রদা রাহমান ভাইয়ের গল্প করতে করতে বললেন,
মাহবুব, রাহমান ভাইকে দিয়ে আমি ছোটদের জন্য অনেক ছড়া কবিতা লিখিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু তার একটা ছড়ার দুই লাইন এখনো আমাকে মুগ্ধ করে। আমি শালিক পাখি দেখলে রাহমান ভাইয়ের সেই দুই লাইন ছড়া আউরাই,
শালিক শালিক শালিক
তারা রৌদ্র ছায়ার মালিক।

দুই
কাজ শেষ করে বিপ্রদাশ বড়ুয়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে রিকশায় উঠে অফিসের দিকে আসছি। কমলাপুর রেল ষ্টেশনের আশেপাশের এলাকাগুলোতে যে একসময় গাছগাছালি আর পাখপাখলির বেশ রাজত্ব ছিল তা এখনো অনুভব করা যায়।
পাখির শব্দ ভেসে আসে কানে।
শালিক নাকি!
কাক ছাড়া আমি খুব একটা পাখি চিনি না।
তবে পাখির শব্দে কে যেন আমার কানে কানে রাহমান ভাইয়ের দুই লাইন ছড়া শুনিয়ে যায়,
শালিক শালিক শালিক
তারা রৌদ্র ছায়ার মালিক…’

Bellow Post-Green View