চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিদেশী সরঞ্জামের প্রভাবে কামারশালায় মন্দা

কোরবানি ঈদের মাত্র দুই দিন বাকি। এ সময় সাধারণত কামারশালায় দা, ছুরি, চাপাতি কিনতে ক্রেতাদের ভিড় হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকাররা।

তারা বলছেন, দেশীয় এসব যন্ত্রের চেয়ে চাইনিজ যন্ত্রের দাম কম থাকায় মানুষ কামারের দোকানে যাচ্ছে না। এছাড়া বর্তমানে শহরে অধিকাংশ মানুষ কোরবানির পশু নিজেরা জবাই না করে কসাইদের দ্বারস্থ হন। তাই যন্ত্রের চাহিদা কমে গেছে। এছাড়া নতুন না কিনে অনেকে পুরোনোগুলোতে শান দিয়ে নিচ্ছে। ফলে কোরবানি ঈদকে ঘিরে যে পরিমাণ ক্রেতা সমাগম হওয়ার কথা বাস্তবে তা নেই।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর সবচেয়ে বড় কামারশালা কারওয়ান বাজার। রোববার সেখানে গিয়ে দেখা গেছে,
আগুনে পুড়িয়ে নরম করা টকটকে লাল লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন যন্ত্র তৈরি করছেন কামাররা। লোহায় একের পর এক আঘাত করে বিভিন্ন আকৃতির যন্ত্র তৈরি করছেন তারা।

ঈদে কোরবানি পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যন্ত দা,বটি, ছুরি, ছোরা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার তৈরিতে ব্যস্ত কামাররা।

কারওয়ান বাজারের রফিক এন্টারপ্রাইজের রফিকুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘এ শিল্পের মূল উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে গেছে। আগে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় এক বস্তা কাঠ-কয়লা পাওয়া যেত। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। ফলে যন্ত্র তৈরি ব্যয় বেড়েছে।’

মা জননী কর্মশালার মালিক সালাহ উদ্দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘কামাররা সারা বছর কিছুটা সংকটে থাকলেও প্রতি বছর কোরবানির ঈদে মোটামুটি ভালো ব্যবসার আশায় থাকে। তবে এখনও ঈদের বিক্রি তেমন জমে ওঠেনি। কাস্টমার বেশি আসছে না। যারা আসছেন তারা দাম বেশি বলে কিনতে চায় না। চাইনিজ যন্ত্র কিনছে অধিকাংশ কাস্টমার। বাকি দুইদিন ভাল বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।’

বিজ্ঞাপন

লোহা ও কয়লার দাম বেশি থাকার কারণে কামারদের তৈরি জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান কারওয়ান বাজার কামারপট্টি ও পেন্টপট্টি ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক।

তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যন্ত্র তৈরির কাঁচামালের (যেমন রড ও কয়লা) দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাই দেশীয় যন্ত্রপাতির চেয়ে চাইনিজ যন্ত্রপাতির দাম কিছুটা কম। আর সেজন্য ক্রেতারা বিদেশি যন্ত্র কিনছেন।

তিনি বলেন, চাইনিজ যন্ত্রগুলো বেশিদিন টেকে না। শুধু দাম কমের কারণে ক্রেতারা সেগুলো নিচ্ছেন। যে কারণে এবার কামার পট্টিতে কোরবানির যন্ত্রপাতির ক্রেতা কম।

কোরবানির সরঞ্জামের দরদাম
বাজারে পশু জবাইয়ের ছোরা ৬শ থেকে ১২শ টাকা, দেশি চাপাতি ৪শ থেকে ৭শ টাকা, বিদেশি চাপাতি ৭শ থেকে ২ হাজার টাকা, ছোট ছুরি ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, বড় ছুরি ৫শ থেকে ২ হাজার টাকা, বটি ৩শ থেকে ২ হাজার টাকা, হাড় কাটার ছোট চাইনিজ কুড়াল ৫শ থেকে ৮শ টাকায়।

তবে দা-ছুরির পাশাপাশি পশু জবাইতে ব্যবহৃত আনুষঙ্গিক পণ্য যেমন- প্লাস্টিক ম্যাট, চট, গাছের গুঁড়িও বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

রাজধানীতে কোথায় পাওয়া যায় কামারের দোকান

রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি মার্কেট কারওয়ান বাজারে দা, ছুরি, বটিসহ সব যন্ত্রই পাওয়া যায়। এছাড়া নিউ মার্কেট, গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেট, চকবাজার, কাপ্তান বাজার, খিলগাঁও বাজার, মিরপুর-১ নম্বরসহ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় সব মার্কেটে এসব পাওয়া যাবে।

Bellow Post-Green View