চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্ত ‘নির্বোধ ও নিষ্ঠুর’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি অনলাইনে নিয়ে গেলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার এবং ভিসা প্রত্যাহার করার বিষয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের ওপর ক্ষোভ জানিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থীরা।

সমালোচনা করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ল্যারি ব্যাকো বলেছেন, আজ যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই নির্দেশনা আমাদের জটিল সমস্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এধরনের নির্বুদ্ধিতার কাজ না করে বিকল্প কোন উপায় বের করা যেত।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি, বিশ্বব্যাপী মহামারীর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে এবং পরিস্থিতির ভারসাম্য বজায় রেখে হার্ভার্ডসহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার ক্ষতি করবে।

মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেছেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মহামারীর সময় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে যখন অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লাথি মেরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বের করে দিচ্ছে। তার মতে, ‘এটি নির্বোধ, নিষ্ঠুর এবং ভিন্ন দেশিদের প্রতি বিদ্বেষের প্রমাণ’।

জাতিসংঘে প্রাক্তন মার্কিন দূত সামান্থা পাওয়ার বলেন, এই সিদ্ধান্তটি সেন্সহীন। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য তা অকার্যকর।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করা সাংবাদিক এলিজাবেথ স্পাইয়ার্স বলেছেন, তার অনেক শিক্ষার্থী ভিসার উপর নির্ভরশীল ছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নিজ দেশের মধ্যকার সময়ের পার্থক্য এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে অনলাইন প্রোগ্রাম অনুসরণ করতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান থেকে আসা দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ এহাব রসুল এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগকে উত্সাহিত করে এমন একটা প্রক্রিয়া।

তার মতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং সংখ্যালঘু হিসাবে আমরা প্রমাণ করতে পারবো যে, আমরা কেন এখানে আছি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, এতে আপনি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারবেন কিনা তা ভেবে মনের মধ্যে একধরনের ক্রোধ জ্বালিয়ে দেবে।

সোমবার মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)- এজেন্সি এক ঘোষণায় জানায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সম্পূর্ণ অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না, যদি না তারা ব্যক্তিগত টিউশন ফি’র কোর্সে ফিরে যায়। তাদের ভিসাও প্রত্যাহার করার কথা বলা হয় ঘোষণায়।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার প্রেক্ষিতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করছে। তখন থেকে বিদেশী শিক্ষার্থীদের যে যেখানে অবস্থান করছেন তাকে সেখান থেকেই অনলাইনে স্প্রিং ও সামার সেশন ২০২০ কোর্স চালিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

মূলত বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার্থে গমন করেন। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় পরিমাণ রাজস্ব আয় করে থাকে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের মতে, ২০১৮ অর্থবছরে ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আয় করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৩,৮৮,৮৩৯ এফ ১ ভিসা এবং ৯,৫১৮ এম ১  ভিসা ইস্যু করেছে।

নতুন নিয়মটি এফ ১ এবং এম ১ ভিসার ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে, যা মূলত একাডেমিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার্থীদের জন্য ইস্যু করা হয়।