চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সংশোধন হচ্ছে ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা

ডিজিটাল ব্যবসা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষে ‘ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮’ সংশোধন করা হচ্ছে।

বিদ্যমান নীতিমালায় ই-কমার্স উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগকারিরা সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারেন, কিন্তু সংশোধিত নীতিমালায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শতভাগ মালিকানার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ই-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা করছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সংশোধিত খসড়া নীতিমালা প্রণয়ণ করে মন্ত্রী পরিষদে প্রেরণ করেছে। মন্ত্রী পরিষদ এটি চূড়ান্ত করলে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমান নীতিমালায় কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে না। দেশি ও বিদেশি কোম্পানির ইকুইটির হার ৫১ ভাগ আর ৪৯ ভাগ (৫১:৪৯)। তাই বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সংশোধিত নীতিমালায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ১শ শতাংশ ইকুইটির সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারের যে উদ্যোগ রয়েছে, এর অংশ হিসেবে ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা সংশোধন করা হচ্ছে। এতে দেশিয় উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বরং ই-বাণিজ্যের যে প্রসার ঘটবে সেখানে তারা যুক্ত হতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।

সচিব জানান, সংশোধিত খসড়া নীতিমালা এখন মন্ত্রী পরিষদে আছে, সেখানে অনুমোদন পেলে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল অ্যাপসসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সারা বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার দ্রুত বিকাশ ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের ডিজিটাল খাতের সুষম উন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ এবং আস্থাশীল পরিবেশ তৈরিতে গতবছর ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮’ প্রণয়ণ করা হয়। সরকার এই নীতিমালাকে আরো বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব করতে সংশোধনীর সিন্ধান্ত নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা সংশোধন কার‌্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ই-কমার্স উদ্যোগে শতভাগ বিদেশি মালিকানার সুযোগ দেয়ায় আগামীতে অ্যামাজনের মত বড় বড় প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ নিয়ে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এতে ছোট ছোট দেশিয় উদ্যোক্তারা বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং তাদের সক্ষমতাও বাড়বে।’

এ বিষয়ে তিনি রাইট শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাও এর উদাহরণ দেন। বলেন, পাঠাও বাইরের বিনিয়োগ না পেলে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারত না। তাই বিদেশি বিনিয়োগ বেড়ে গেলে দেশিয় উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এমন ভাবা কিন্তু ঠিক নয়।

আঙ্কটাডের বিজনেস টু কনজ্যুমার বা বিটুসি ই-কমার্স ইনডেক্স মেনেই নীতিমালা সংশোধন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) কার্যকরী পরিষদের সভাপতি শমী কায়সার বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের তারা বিরোধীতা করছেন না। তবে দেশিয় কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে না গিয়ে শতভাগ বাইরের বিনিয়োগ হওয়ায় এক্ষেত্রে সরকারকেই দেশিয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।

তিনি মনে করেন, অ্যামাজন-আলিবাবার মত বড় বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরে বিনিয়োগ নিয়ে এলে, বরং দেশিয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা আরো বাড়বে। প্রসার ঘটবে ই-বাণিজ্যের।

তবে তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষনের জন্য নীতিমালা সংশোধনের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতি সরকারকে আরো মনেযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

এর পাশাপাশি বিদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশিয় উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি (এক্সেস টু ফাইন্যান্স) নিশ্চিত করতে বলেন তিনি।

বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ই-বাণিজ্য হচ্ছে। সেখানে ই-কমার্সের হিসাব মতে, গতবছর বাংলাদেশে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৭শ কোটি টাকা।

Bellow Post-Green View