চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিদায় কবি আল মাহমুদ

‘সোনালী কাবিন’ খ্যাত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে ধানমন্ডি শঙ্করে অবস্থিত ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

খবরটি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন কবি আল মাহমুদের ছোট ছেলে মীর মোহাম্মদ আনিস।

মৃত্যুকালে আল মাহমুদের বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানান দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটায় হাসপাতাল গিয়ে দেখা যায়, কবির মৃত্যু সংবাদ শুনে অনেকে হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একে একে হাসপাতালে এসে আসতে থাকেন কবি সাহিত্যিক সহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন ইবনে সিনা হাসপাতালের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার(এডমিন) আনিসুজ্জামান।

কবির মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কবি আল মাহমুদ বেশ কিছু জটিল রোগ নিয়ে ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রফেসর আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করে আমরা তার চিকিৎসা করে এসেছি। কিন্তু শুরুর দিন থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। সর্বশেষ আজকে রাত ১১টা ৫ মিনিটে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে যান। তারপরই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

কবি আল মাহমুদের দাফনের বিষয়ে কোনো  সিদ্ধান্ত পরিবার থেকে নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আনিসুজ্জামান বলেন, কবির পরিবারের অনেকের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা এখানে উপস্থিত আছেন। অনেকেই মৃত্যু সংবাদ শুনে হাসপাতালে আসছেন। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম যে কবিকে তারা কোথায় দাফন দিতে চান। আমার প্রশ্নে তারা বলেছেন যেহেতু আল মাহমুদ দেশের প্রধান কবি, তাই তাকে যেন বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন দেয়া হয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর গুরুতর অবস্থায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল আল মাহমুদকে। প্রথমে সিসিইউ ও পরে আইসিইউতে রেখে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামের মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বিখ্যাত ‘সোনালী কাবিন’ ছাড়াও কবি আল মাহমুদের রচনার মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, একচক্ষু হরিণ, দোয়েল ও দয়িতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন, নদীর ভিতরে নদী, না কোনো শূন্যতা মানি না, বিরামপুরের যাত্রী, বারুদগন্ধি মানুষের দেশ, সেলাই করা মুখ, তোমার রক্তে তোমার গন্ধ ইত্যাদি।

কবির সাড়া জাগানো উপন্যাস কাবিলের বোন, পানকৌড়ির রক্ত, উপমহাদেশ, ডাহুকি, যেভাবে বেড়ে উঠি, আগুনের মেয়ে, যমুনাবতী, চেহারার চতুরঙ্গ, যে পারো ভুলিয়ে দাও, ধীরে খাও অজগরী ইত্যাদি। সাহিত্যকর্মের জন্য আল মাহমুদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন