চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিতর্কের মুখে ভারতের শিক্ষানীতির খসড়ায় রদবদল

নতুন মেয়াদে শিক্ষানীতির খসড়ায় শিক্ষাগ্রহণের ভাষা নিয়ে তীব্র বিরোধিতার মুখে সেটি সংশোধন করে বড় ধরনের রদবদল এনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি), ২০১৯’র অংশ হিসেবে খসড়ায় বলা হয়েছিল, ভারত জুড়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘তিন ভাষা’ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকবে। কিন্তু এটির বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ভিন্ন ভাষাভাষী শিশুদেরকেও বাধ্যতামূলকভাবে হিন্দি ভাষায় লেখাপড়া করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবারই মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক। এরপরই তার হাতে নতুন শিক্ষানীতির খসড়া জমা পড়েছে। তাতে স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

খসড়াটিতে মূলত বলা হয়েছিল, স্কুলে পড়ালেখার জন্য নির্ধারিত থাকবে শুধু তিনটি ভাষা। এর মধ্যে হিন্দি এবং ইংরেজি থাকবেই। এবং হিন্দি বা ভিন্ন ভাষাভাষী সব রাজ্যেই এই ভাষাতেই পাঠদান ও শিক্ষাগ্রহণ চলবে।

আর এ নিয়েই প্রতিবাদে সরব হয়েছে দক্ষিণের রাজ্যগুলো। অন্যান্য ভাষাভাষী শিক্ষার্থীদের ওপর জোর করে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ জানাতে থাকে দক্ষিণাঞ্চলীয় জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে এ বিতর্ক যেন তুঙ্গে। তারা হিন্দি ভাষার আগ্রাসন ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছে।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে ভারতজুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে কয়েক হাজার জনতা প্রতিবাদ মিছিল করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনা

তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকে খসড়া নীতির বিরোধিতা করে বলেছিল, তামিলনাড়ু সরকার নতুন এই শিক্ষানীতি বয়কট করবে এবং ওই রাজ্যে শুধু তামিল এবং ইংরেজিতে শিক্ষাদানের ‘দুই ভাষা’ নীতি প্রচলিত থাকবে।

কঠোর আন্দোলন ও বিতর্কের মুখে খসড়ার ভাষার অংশটিতে সংশোধন এনেছে সরকার। সংশোধনীতে হিন্দির বাধ্যতামূলক থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ সরিয়ে লেখা হয়েছে, শিক্ষার্থী তার পছন্দ অনুসারে শিক্ষাগ্রহণের ভাষা বেছে নিতে পারবে।

সংশোধিত খসড়ায় লেখা হয়েছে: ‘ভাষায় নমনীয়তার নীতি ধরে রেখে ঠিক করা হয়েছে, পাঠ্য তিন ভাষার মধ্য থেকে কোনো শিক্ষার্থী যদি এক বা একাধিক ভাষা পরিবর্তন করতে চায়, তবে তা ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণিতে করার সুযোগ থাকছে, তবে ওই তিনটি ভাষাতেই তাকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।’

সম্প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আন্দোলন শান্ত করতে টুইটবার্তায় বলেছিলেন, শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করার আগে অবশ্যই খসড়া শিক্ষা নীতি বিষয়ে সবার সুপারিশ ও পরামর্শ নেয়া হবে। তারা দু’জনেই তামিলনাড়ু থেকে নির্বাচিত।

Bellow Post-Green View