চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিজ্ঞানী মনির হোসেনের উদ্ভাবনীতে আমেরিকা-কানাডায় ব্যাপক সাড়া

মানবদেহে কিছু সাধারণ খাবারের মাধ্যমে রক্তে প্রোটিনের (alpha-2-macroglobulin-A2M) স্বাভাবিক পরিমাণ বজায় রেখে সুস্থ জীবন-যাপনের অসাধারণ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেন খান।

তিনি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অফ ফিলাডেলফিয়ায় ফ্যাকাল্টি পজিশন নিয়ে কর্মরত ছিলেন। তার দীর্ঘ ৩০ বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন মানবদেহে রক্তে এই A2M প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকলে কোনো না কোনো অসুখ শুরু হতে থাকে। কারণ বেশিরভাগ অসুখ শুরু হয় প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ (protease) এর কোনো না কোনো একটি বা একাধিক protease (অতিরিক্ত পরিমাণ) এর বিষক্রিয়ার কারণে। A2M এই সমস্ত অতিরিক্ত protease কে মানবদেহের অজান্তেই সর্বক্ষণ শরীর থেকে বের করে দিয়ে মানবদেহকে সুস্থ রাখে।

বিজ্ঞাপন

ডা. মোহাম্মদ মুনির হোসন খানের উদ্ভাবিত কিছু সাধারণ এবং সহজলভ্য খাদ্যতালিকা (A2M-ShopAnn System) অনুসরণ করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৫০ জন (৩০–৮২ বৎসর) গত ৫ বৎসর যাবত সম্পূর্ণ সুস্থভাবে জীবনযাপন করছেন।

ডা. মোহাম্মদ মুনির হোসন খান চ্যানেল আই কে বলেন, আশ্চর্যভাবে এদের কারোরই কোন রকম শারিরীক সমস্যা যেমন জ্বর, সর্দি অথবা কাশিও হয়নি। অথচ ৫ বৎসর আগে এদের মধ্যে বেশীরভাগ মানুষেরই কোন না কোন শারিরীক অসুস্থতা ছিল।

বিজ্ঞাপন

প্রবাসী চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ মোহাম্মদ মুনির হোসন খান, স্যার সলিমুললাহ মেডিকেল কলেজ এবং মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে ১৯৮৩ সালে এম. বি. বি. এস. পাস করে জাপানের কুমামতো ইউনিভারসিটি, স্কুল অফ মেডিসিন থেকে থেকে ১৯৯৩ সালে পিএইচডি (ইমমিউনোলজি এবং মলিকিউলার প্যাথোলজি) ডিগ্রী লাভ করেন।

পিএইচডি করে একই ইউনিভার্সিটিতে ১ বছর ফ্যাকাল্টি থাকেন। ১৯৯৪ সালে পোস্ট ডক্টরেট ফেলোশিপ নিয়ে ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকা ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া এবং টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে যৌথ প্রজেক্টে এ কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া এবং চিলড্রেন হসপিটাল অফ ফিলাডেলফিয়ায় ফ্যাকাল্টি পজিশন নিয়ে কর্মরত ছিলেন।

ইতিমধ্যে আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন শহরে তার পদ্ধতি গ্রহণ করে অনেকেই উপকৃত হয়েছেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে তার উদ্ভাবিত A2M পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত উপায়ে প্রতিদিন সুবিধামতো সময়ে মিশিয়ে অথবা পৃথক পৃথক ভাবে খেলে শরীরে কোন রোগ থাকবে না। শর্ত একটাই, খেতে হবে কাঁচা। কোন অবস্থাতেই তাপ ব্যবহার করা যাবে না।

১। দই– ১ কাপ
২। কাচা রসুনের কোয়া- ২ টা কুচি করে কাটা
৩। কাচা আদা- কুচি করে কাটা (১ চামচ)
৪। কালোজিরা – ১ চামচ
৫। পুদিনা পাতা – ৬ টি কুচি করে কাটা
৬। মধু – আধা চামচ
৭। লবঙ্গের গুড়া – আধা চামচ
৮। হলুদের গুড়া – আধা চামচ
৯। যেকোন বেরী (Berry): Blueberry/strawberry/raspberry- ৬ টা
১০। আঙ্গুর-৬ টা
১১। খেজুর-১ টা
১২। ডুমুর (FIGS) – ১ টা- কুচি করে কাটা
১৩। ২টি লেবুর রস
১৪। ডিম ১টা

এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩ লিটার পানি পান করতে হবে। ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। ধুমপান/যে কোন নেশা জাতীয় পদার্থ বর্জন করতে হবে।