চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিচারপতিদের সইয়ের অপেক্ষায় ফাঁসির মঞ্চ

অনলাইন ডেস্ক:  কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ার আদেশের কপি না পৌঁছানোয় আজ রাতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হচ্ছে না। সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী রাত পৌণে ৮টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের অবস্থান তুলে ধরেন।

এর অাগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ফাঁসি কার্যকরে কারাগারে আদেশের কপি পৌঁছানোর প্রয়োজন রয়েছে।

আর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের ওপর রায় প্রকাশ করবেন আপিল বিভাগ। তারপর বিচারপতিদের সইসহ তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

তবে সকালে জামায়াত ইসলামীর নেতা কামারজ্জামানের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ার পর সরকারের বিভিন্ন মহলের কথায় ইঙ্গিত ছিল আজ রাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।  সকাল ৯টা ৫ মিনিটে এজলাসে এসে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ডিসমিসড’।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, আপিল বিভাগ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে। এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা নেই।

Advertisement

তবে কামারুজ্জামান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কামারুজ্জামান এখন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা তার উপর নির্ভর করছে পরবর্তী কার্যক্রম।

রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রাণভিক্ষার আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করতে পারেন আবার সাতদিন সময়ও নিতে পারেন। তবে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছার ওপর।

জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। আসামীপক্ষ ৫ মার্চ রিভিউ আবেদন করার পর ৯ মার্চ শুনানির জন্য রাখেন আপিল বিভাগ। কিন্তু আসামীপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ব্যস্ত থাকার কারণ দেখিয়ে সময় চাইলে আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেন।

১ এপ্রিল আবারও সময় চেয়ে আবেদন করে আসামীপক্ষ। এবার বলা হয় তিনি অসুস্থ। সেসময় আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, অসুস্থতার কথা বলা হলেও খন্দকার মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দিচ্ছেন, ৩১ মার্চ রাতে তিনি নিজে তার সাক্ষাতকার দেখেছেন। এই ধরনের আবেদনকে তামাশা উল্লেখ করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে আসামীপক্ষের আইনজীবীর সমালোচনা করেন বিচারপতি।

রিভিউ আবেদনের শুনানি ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেন আপিল বিভাগ। এদিন দু’ পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আপিল বিভাগ সোমবার আদেশের দিন ঠিক করেন।