চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিখ্যাত ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের ‘কাজ’ দেখতে চায় নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়!

প্রফেসর ইমেরিটাস হিসাবে কাজে থাকতে পারবেন কিনা- সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভারতের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, মোদি সরকারের তীব্র সমালোচক ও শিক্ষাবিদ রোমিলা থাপারের বায়োডাটা দেখতে চেয়েছে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

তবে এই আচরণকে ‘নিখুঁতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ’ বলে সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক।

সংবাদ মাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলছে,  জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমার গত মাসে ৮৭ বছর বয়স্ক থাপারকে তার সিভি জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। যাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিযুক্ত কমিটি তার কাজের মূল্যায়ন করতে পারেন এবং তাকে ‘প্রফেসর ইমেরিটাস’ হিসাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে কিনা- সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে।

এই ঘটনায় তিনজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে একবার নির্বাচিত হয়ে গেলে সেটি জীবনব্যাপী অব্যাহত থাকে। তার কোনো বায়োডাটা দেখার নিয়ম নেই।

বিজ্ঞাপন

“এটি পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ। অধ্যাপক থাপার কেন্দ্রের নীতিমালা, শিক্ষার বেসরকারিকরণ, প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষয় এবং জওহরলাল নেহেরুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা সম্পর্কে তীব্র সমালোচক।

কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনকারী অধ্যাপকদেরকে এই পদটির জন্য বেছে নেওয়া হয়। তার জন্য আর্থিক কোনো সুবিধা নেই। তবে তার জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বক্তৃতা দেয়া, গবেষণায় শিক্ষার্থীদের তদারকি করা ও অনুপ্রেরণা দেওয়াসহ সম্মানজনক কাজগুলো করে থাকেন।’’

রোমিলা থাপার প্রায় ছয় দশক ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে জড়িত। প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের ওপর বিশেষজ্ঞ এই শিক্ষক ১৯৭০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন।

থাপার মার্কিন লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের সম্মানজনক ক্লুজে পুরষ্কার অর্জন করেন। যা নোবেল পুরস্কারের আওতাভুক্ত গবেষণায় আজীবন কৃতিত্ব হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

রোমিলা থাপারের ‘পাবলিক বুদ্ধিজীবী’ বইট নরেন্দ্র মোদির সরকারের অধীনে ভারতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা সমালোচনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন