চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিকৃত যৌন চিন্তার কারণেই বাড়ছে যৌন নির্যাতন

প্রতিদিন খবরের পাতায় খুললেই চোখে পড়ে নারী নির্যাতনের খবর।যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হল – ধর্ষণ, গণধর্ষণ । এ ঘটনায় রেহাই পাচ্ছে না শিশু কন্যা থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী । দেশে বিদেশে এ নির্যাতনের চিত্র নিত্যদিনের ঘটনা। পরিবার সমাজ কোথাও নারী পাচ্ছে না তার সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এমনকি নানা ধরনের কলহের জের ধরে নারীর উপর চলে ধর্ষণের মত পাশবিক নির্যাতন। নারীর সম্ভ্রমহানির পৈশাচিকতা পুরুষের বিকৃত যৌন চিন্তার যে বহিঃপ্রকাশ তাতে কোন সন্দেহ নাই। এমন হীনরুচির মানুষের কাছে মানবতার বিবেকবোধ পরাজিত হচ্ছে দিনের পর দিন। আর সে কারণে আইন অনুশাসন বা বিধি বিধান দিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না ধর্ষণ, গণধর্ষণের মত ঘটনাকে।

ধর্ষণের মামলার আইনগত প্রক্রিয়ায় সাজা পাওয়ার পূর্বের ধাপগুলোর দুর্বলতার কারণে ধর্ষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। শাস্তির দৃষ্টান্ত নগণ্য। বস্তুত এ বিষয়টিতে সমস্যা হল, মানসিক চিন্তা চেতনার অভাব । একজন মানুষ যখন তার কু-রিপুকে অবদমন করতে না পারে তখন সে অমানুষে পরিণত হয়। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য বিবেকহীন অমানুষ হয় বলেই পিতা কন্যাকে,চলন্ত বাসে প্রতিবন্ধী শিশুকে কিংবা মা বোনদের সামনে আরেক মেয়ে,বোনের উপর অত্যাচার চালায় সংঘবদ্ধভাবে। কখনও আবার অপরাধ লুকাতে নির্যাতিতাকে করে হত্যা।

বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন আইন করার পাশাপাশি সবচেয়ে জরুরী এখন জন সচেতনতা তৈরি করা। একক বা সংঘবদ্ধভাবে নারীকে ভোগ করে যে হিংস্রতা প্রকাশ করে তা অনাচার অন্যায় এটা বুঝাতে হবে সকল শ্রেণীর মানুষকে। সমাজের বিবেক যদি পরাজিত হয় তখন রাষ্ট্র জীবনে অগ্রসরতা বাধাপ্রাপ্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনাতে নারী পুরুষ ঘরে- বাইরে তাদের শ্রম-মেধা দিয়ে নিজেদের ভূমিকা রাখছে সমানতালে। আর এ অবস্থায় নারী যদি তার জীবন, শ্লীলতা,সম্ভ্রম নিয়ে শঙ্কিত হয় তাহলে এর দায় নিতে হবে দেশ জাতিকে।

একশন এইডের এক জরিপে বলা হয়েছে শুধু মাত্র রাজধানী ঢাকাতে ৭৮% নারী কর্মক্ষেত্রসহ রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যানবাহনে যৌন হয়রানির শিকার হয়। কিন্তু প্রতিবাদ হয় না তেমনভাবে। রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় নির্যাতন সহ্য সীমার বাইরে না গেলে কেউ প্রতিবাদ করে না। এমনকি আপন জনের সাথে ও শেয়ার করে না।

বিজ্ঞাপন

মানুষরূপী অমানুষের কু -রিপুর কাছে নারীর সম্ভ্রমের বলিদান অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। সুতরাং এ অবস্থায় মনুষ্যত্বর বিবেকবোধের পরাজয়কে মেনে নেয়া হবে আত্মঘাতীর সামিল। যা আগামী দিনে নারীদের চলার পথকে করবে অবরুদ্ধ।

সাধারণত দেখা যায় যে কোন নির্যাতনের ঘটনার পর নারীরা সভা সমাবেশ করে প্রতিবাদ করে। এতে মানুষ হিসাবে পুরুষ নারী কারোই বিবেক স্থায়ী ভাবে জাগ্রত হয় না। বরং ঘটনাটি সাময়িক সময়ের জন্য সংবাদ হয়ে ভেসে উঠে সকল গন মাধ্যমে। তাই নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারীদের প্রতিবাদে নিজেদের সুবিধামত করলে পরিবর্তন আসবে না পুরুষ শাসিত সমাজে। বরং নারী পুরুষকে সম্মিলিতভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।

গণধর্ষণএকজন বিবেকবান পুরুষ যদি উপলব্ধি করতে পারে তার পুরুষ সহকর্মী কিংবা বন্ধুটি নারীর প্রতি অন্যায় করছে ; তাকেও এর প্রতিবাদ করতে হবে। নীরব সর্মথন বা না জানার ভান করে থাকাটা ও অন্যায় । আর এ কাজটি করতে হলে নিজেকে সচেতন হতে হবে। চাকরির তোষামোদি, ভয় লজ্জা, অপমান হবার চিন্তা থেকে মুক্ত হলেই সম্ভব হবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। আর এর ফলে নারী তার কর্মক্ষেত্রে পাবে নিশ্চিত পরিবেশ।
নিজের আত্মসম্মান বোধের আড়ালে নারীর ও নির্যাতনের নীরব যন্ত্রণা সহ্য করাটা মারাত্মক ভুল। সে হোক ঘরে বা বাইরে। নারীদের ভুলে গেলে চলবে না এ লড়াইটা তাদের নিজের। তাই নারীদেরকেই এক জোট হয়ে মত বিনিময় করতে হবে। নিজেদের তথ্য গোপন না করে পরস্পরকে জানাতে হবে। সচেতন হতে হবে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে।

এর পাশাপাশি ‘ নারী পুরুষের কাছে ভোগ্যপণ্য নয়’ – এ কথাটা ভুলে গিয়ে পুরুষকেও নারী নির্যাতন বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। নারী বা পুরুষ নয় বরং মানুষ হিসাবে প্রত্যেকের নিজ অবস্থান থেকে চুপ না থেকে যে কোন নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটা নৈতিক দায়িত্ব।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)