চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিএসএমএমইউ’র উদ্ভাবন সম্মুখযোদ্ধাদের বড় হাতিয়ার

‘নেগেটিভ প্রেশার আইসোলেশন ক্যানোপি’

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেরাই যখন আক্রান্ত হচ্ছেন, প্রাণ দিচ্ছেন; তখন তাদের জন্য বড় এক আশা জাগানিয়া খবর জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। দেশের প্রথম এবং একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়টির এক দল গবেষক সম্পূর্ণ নিজস্ব নকশায় ‘নেগেটিভ প্রেশার আইসোলেশন ক্যানোপি’ তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করেছেন।

তারা বলছেন, এই ক্যানোপি একটি বিছানাতেই একজন করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীকে আলাদা করে রাখবে। বিছানার আশেপাশে থাকা অন্য কাউকে ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারবে না। এই বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করে রোগীর বিছানার চারপাশের স্বচ্ছ ও উঁচু পর্দা স্থাপন করা যাবে। যে কারণে সেখানে থাকা কোনো রোগী অস্বস্তিবোধও করবেন না।

বিজ্ঞাপন

দেশবাসীকে এই উদ্ভাবনের খবর জানাতে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানে আরও বলা হয়, ‘নেগেটিভ প্রেশার আইসোলেশন ক্যানোপি’র হেপা ফিল্টারের সাথে রয়েছে আল্ট্রাভায়োলেট আলোর প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমেই সব জীবাণু ও ভাইরাস ধ্বংস করে ফেলা হয়। যার ফলে ভাইরাস আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের সংক্রমিত করতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

বিএসএমএমইউয়ের অ্যানেসথেশিয়া, অ্যানালজেশিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ এক সাথে কাজ করেছে এই উদ্ভাবনে।

আমরা দেখেছি, গত মার্চের শুরুর দিকে দেশে যখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করা হলো, তারপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হতে থাকেন। তাদের মধ্যে কারো কারো জীবনও দিতে হয়। এখন পর্যন্ত ৬২ জনেরও বেশি চিকিৎসক কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় একটা অংশ আক্রান্ত হয়েছেন, জীবন হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মৃত্যুর পেছনে বড় একটা কারণ দেশের বেশিরভাগ হাসপাতালে নেগেটিভ পেশার রুম না থাকা। যার ফলে আইসিইউতে করোনা আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকার্মীদের সংক্রমিত হতে হয়েছে।

আমরা মনে করি, উদ্ভাবিত ‘নেগেটিভ প্রেশার আইসোলেশন ক্যানোপি’ কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্মুখযোদ্ধাদের রক্ষার পাশাপাশি অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। যতটা দ্রুত সম্ভব তা প্রতিটি হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।