চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বায়ুদূষণ বন্ধে পদক্ষেপ আর কবে?

বায়ুদূষণে আবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সোমবার সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বৈশ্বিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আইকিউএয়ার’ এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন ঢাকার বায়ুর মান ছিল ২০৭। বায়ুমান সূচকে একে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমন বায়ুমানের কারণে বিশ্বের ৯৪টি শহর নিয়ে করা তালিকায় তৃতীয় হয়েছে ঢাকা। এর শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লী এবং দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর।

আমরা দেখেছি, বায়ুমান নিয়ে করা তালিকায় বরাবরই ঘুরেফিরে শীর্ষে উঠে আসছে ঢাকা। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত পাঁচটি শহরের নাম বলতে বলা হলে নিশ্চিত করেই তার মধ্যে ঢাকার স্থান থাকবেই। গেলো কয়েক বছর ধরে বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’ এর তথ্যেও পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার নাম শীর্ষে থেকেছে।

এরপরও কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে? দূষণরোধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ কি সরকার নিয়েছে? এর বিরুদ্ধে আছে কি কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা? এসব প্রশ্নের ইতিবাচক কোনো উত্তর পাওয়া সম্ভব না, তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি। থাকলে বারবার ঢাকার অবস্থান শীর্ষে থাকতো না।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে নগর পরিকল্পনাবিদরাও বারবার মানবদেহে বায়ুদূষণের চরম ক্ষতিকর বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। তাদের মতে, বায়ুদূষণ শুধু পরিবেশগত সমস্যাই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বিরাট একটি সমস্যা। এর কারণে সর্দি-কাশি, এলার্জি থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের নানান অসুখ, এমনকি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো বড় ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বছরের পর বছর এসব রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

দূষিত বায়ূ মানুষের শরীরে শুধু রোগের জন্ম দিচ্ছে না, জীবনকাল বা আয়ু-ও কমিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অন্তত তিন বছর পর্যন্ত মানুষের আয়ু কমে যাচ্ছে বায়ুদূষণের কারণে। যা ধূমপানে কমে যাওয়া আয়ুর পরিমাণের চেয়েও বেশি।

কিন্তু এসব সত্য জেনেও কি আমরা বায়ুদূষণের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলো কমিয়ে আনতে পেরেছি? অনেক অনেক বছর আগেই আমরা জেনেছি, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের ব্যবহার, অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণ কাজ, শহরের পাশের ইটভাটা ও শিল্প-কলকারখানার দূষণ, শহরের ভেতরে ময়লা-আবর্জনা পোড়ানোই বাযুদূষণের পেছনে মূল ভূমিকা রাখে। তবুও এসব নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

এটা ঠিক শহর-নগরে উন্নয়ন কাজ চলবে, একইভাবে চলবে দেশের উন্নয়নও। কিন্তু সেগুলো হতে হবে পরিকল্পিত। অর্থনীতির চাকা অগ্রসর রাখতে হলে কল-কারখানা চালু রাখতেই হবে। সেক্ষেত্রে তার ধোঁয়া সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। ময়লা-আবর্জনা ধ্বংসে ব্যবহার করতে হবে আধুনিক প্রযুক্তি।

আমরা মনে করি, সব কিছুর সমন্বয়েই মানুষের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন করতে গিয়ে জীবন হুমকিতে ফেলা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ। তবেই মিলবে মুক্তি।

বিজ্ঞাপন