চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বাসে তুলে খুন করা হয় কনস্টেবল শরীফকে’

ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসে তুলে গলাকেটে গাজীপুরের ট্রাফিক কনস্টেবল শরীফ আহামেদকে (৩৩) খুন করা হয় বলে দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‍্যাব।

শনিবার রাতে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা থেকে সূত্র বিহীন এ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ তিনজনকে আটক করে র‌্যাব-১। তারা হলেন; মোফাজ্জল হোসেন (২৮), মাসুদ মিয়া (২৫) ও  মনির হোসেন (৩০)

বিজ্ঞাপন

এদের দেয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তাকওয়া পরিবহনের ১টি বাস (নম্বর- গাজীপুর-জ-১১-০১৭৫), রক্তমাখা গাড়ীর হুইল রেঞ্জ, ১টি চাকু এবং ভিকটিমের ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘গাজীপুর মহানগর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত থাকার সুবাদে তাকওয়া বাসের হেলপার মোফাজ্জল হোসেন ও চালক মনিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ছিল কনস্টেবল শরীফের। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাদের সুসম্পর্ক রূপ নেয় দ্বন্দ্বে। এর জেরে কনস্টেবল শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোফাজ্জল হােসেন।’

‘‘পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১ মার্চ কনস্টেবল শরীফকে খুন করার জন্য ১০ হাজার টাকায় ময়মনসিংহের ভাড়াটে খুনী মাসুদকে ভাড়া করেন মোফাজ্জল। ২ মার্চ চুক্তি অনুযায়ী মাসুদ গাজীপুরে আসেন এবং মনিরের বাসায় হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।’

র‍্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, ‘গত ৩ মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় মোফাজ্জল কৌশলে কনস্টেবল শরীফকে ভোগড়া বাইপাস এলাকা থেকে তাকওয়া পরিবহনের ওই বাসটিতে উঠান। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে চলন্ত বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর লোহার হুইল রেঞ্জ দিয়ে পেছন থেকে শরীফের মাথায় আঘাত করা হয়। অজ্ঞান হয়ে পড়লে চাকু দিয়ে তার গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে নিহতের মোবাইল টাকা রেখে রাস্তায় ফেলে যায় তিন হত্যাকারী।’

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।